পাঁচ গ্রামের মানুষের ভরসা ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের কালভার্ট
- আপডেট সময় : ১১:৩৪:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার দাঁতমারা ইউনিয়নে পাঁচ গ্রামের মানুষের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে একটি ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের কালভার্ট। নিজ উদ্যোগে তৈরি এই নড়বড়ে কাঠের কাঠামো দিয়েই প্রতিদিন জীবনঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছেন চার হাজারেরও বেশি মানুষ।
উপজেলার দক্ষিণ বান্দরমারা এনায়েতপুর এলাকায়, ইউপি সদর থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার পশ্চিমে, খুঁটির ওপর ভর করে তৈরি করা হয়েছে প্রায় ২০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৪ ফুট প্রস্থের এই কালভার্ট। গাছের খুঁটি ও কাঠের তক্তা দিয়ে বানানো কালভার্টটি দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে ভাঙা-গড়া ও মেরামতের মধ্যেই টিকে আছে। এখনও এটি পাকা সেতুতে রূপ নেয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এনায়েতপুর ছড়ার ওপর নির্মিত এই কালভার্ট দিয়ে বড় বেতুয়া, ছোট বেতুয়া, ঘরকাটা, শেষ ছড়া, হাসনাবাদ, কাঞ্চনা ও বৈদ্যের তলি এলাকার মানুষ চলাচল করে। স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থী, দিনমজুর, ব্যবসায়ীসহ সব শ্রেণির মানুষ প্রতিদিন এই ঝুঁকিপূর্ণ পথ ব্যবহার করছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, কালভার্টটি প্রায় ৮টি গাছের খুঁটির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। কোনো খুঁটি নষ্ট বা বেঁকে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ভারী যানবাহন চলাচল করতে পারে না, তবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেল চলাচল করছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রতি বছর এলাকাবাসী ও ইউপি সদস্যের উদ্যোগে গাছের খুঁটি ও কাঠ দিয়ে এটি কোনোভাবে মেরামত করা হয়। কিন্তু স্থায়ী সমাধানের জন্য পাকা ব্রিজ নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
শিক্ষার্থী আমিন জানায়, প্রতিদিন ভয় নিয়ে এই কালভার্ট পার হয়ে স্কুলে যেতে হয়। তিনি বলেন, এখানে এলেই মনে হয় পড়ে যাব।
স্থানীয় দোকানদার রেজাউল করিম বলেন, বন্যার সময় কয়েকদিন চলাচল বন্ধ থাকে। পরে আবার নতুন করে কাঠ দিয়ে কালভার্ট বানানো হয়। বহুবার বলা হলেও কেউ স্থায়ী ব্যবস্থা নেয়নি।
মো. বাচ্চু মিয়া বলেন, একটি ছোট কালভার্ট না থাকায় সামাজিক সম্পর্কও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলেও যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে অনেক কিছুই আটকে যায়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল হাকিম জানান, পাকা সেতু নির্মাণের জন্য উপজেলা প্রকৌশলীর মাধ্যমে আবেদন করা হয়েছে। তবে দীর্ঘ ২০–৩০ বছরেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তিনি দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।




















