ঢাকা ০৯:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাপের কামড়ে মৃত ব্যক্তিকে ঝাড়ফুঁকে জীবিত করার চেষ্টা

বরিশাল ব্যুরো 
  • আপডেট সময় : ০৫:৪৯:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলাের চাঁদপাশা এলাকায় সাপের কামড়ে এক যুবকের মৃত্যুর পর দাফন না করে বাড়ির উঠানে রেখে ঝাড়ফুঁক করে জীবিত করার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত এইচএম সায়েম (২৭) উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের ২ নম্বর ওয়ার্ডের রাজমাথা এলাকার বাসিন্দা সৈয়দ হাওলাদারের ছেলে। তিনি পেশায় একজন কাভার্ড ভ্যানচালক ছিলেন।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে কাজ শেষে কাভার্ড ভ্যান পার্কিং করে হেঁটে বাড়ি ফেরার পথে ভাঙ্গা বুনিয়া খাল এলাকায় তাকে সাপে কামড় দেয়। এরপর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা দ্রুত এন্টিভেনম দেন, তবে অবস্থার অবনতি ঘটে।

পরদিন শুক্রবার চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন। কিন্তু স্বজনরা দাফন না করে বাড়ির উঠানে রেখে বিভিন্ন স্থান থেকে সাপুড়ে ও ওঝা এনে ঝাড়ফুঁক শুরু করেন।

তাদের বিশ্বাস, অলৌকিকভাবে সায়েম আবার জীবিত হতে পারেন। এ ঘটনায় এলাকায় কৌতূহল ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয়রা জানান, সকালে মৃত্যুর খবর শোনার পরও পরে ঝাড়ফুঁক শুরু হওয়ায় আশপাশের মানুষ ভিড় করেন।

এ বিষয়ে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিভিল সার্জন ডা. মনজুর এ এলাহী জানান, সাপের কামড়ের ক্ষেত্রে দ্রুত এন্টিভেনমই একমাত্র কার্যকর চিকিৎসা। নির্ধারিত চিকিৎসার পরও রোগীকে বাঁচানো না গেলে অন্য কোনো পদ্ধতিতে তাকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। ঝাড়ফুঁক বা কুসংস্কারের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

সাপের কামড়ে মৃত ব্যক্তিকে ঝাড়ফুঁকে জীবিত করার চেষ্টা

আপডেট সময় : ০৫:৪৯:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলাের চাঁদপাশা এলাকায় সাপের কামড়ে এক যুবকের মৃত্যুর পর দাফন না করে বাড়ির উঠানে রেখে ঝাড়ফুঁক করে জীবিত করার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত এইচএম সায়েম (২৭) উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের ২ নম্বর ওয়ার্ডের রাজমাথা এলাকার বাসিন্দা সৈয়দ হাওলাদারের ছেলে। তিনি পেশায় একজন কাভার্ড ভ্যানচালক ছিলেন।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে কাজ শেষে কাভার্ড ভ্যান পার্কিং করে হেঁটে বাড়ি ফেরার পথে ভাঙ্গা বুনিয়া খাল এলাকায় তাকে সাপে কামড় দেয়। এরপর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা দ্রুত এন্টিভেনম দেন, তবে অবস্থার অবনতি ঘটে।

পরদিন শুক্রবার চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন। কিন্তু স্বজনরা দাফন না করে বাড়ির উঠানে রেখে বিভিন্ন স্থান থেকে সাপুড়ে ও ওঝা এনে ঝাড়ফুঁক শুরু করেন।

তাদের বিশ্বাস, অলৌকিকভাবে সায়েম আবার জীবিত হতে পারেন। এ ঘটনায় এলাকায় কৌতূহল ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয়রা জানান, সকালে মৃত্যুর খবর শোনার পরও পরে ঝাড়ফুঁক শুরু হওয়ায় আশপাশের মানুষ ভিড় করেন।

এ বিষয়ে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিভিল সার্জন ডা. মনজুর এ এলাহী জানান, সাপের কামড়ের ক্ষেত্রে দ্রুত এন্টিভেনমই একমাত্র কার্যকর চিকিৎসা। নির্ধারিত চিকিৎসার পরও রোগীকে বাঁচানো না গেলে অন্য কোনো পদ্ধতিতে তাকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। ঝাড়ফুঁক বা কুসংস্কারের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।