ঢাকা ০৯:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইবিতে শহিদ আবরার হলের নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ

ইবি প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১১:২৪:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শহিদ আবরার ফাহাদ ছাত্র হল–১ এর নির্মাণকাজে বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। হলটির বিভিন্ন স্থাপনায় অনুমোদনহীন উপকরণ ব্যবহার করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এতে ব্যবহৃত উপকরণের মূল্য, স্থায়িত্ব ও গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রকল্প বাস্তবায়নের নীতিমালা লঙ্ঘন করেছে। তাই এসব কাজের বিপরীতে কোনো বিল দেওয়া হবে না। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট উপকরণ অপসারণ করা হবে।

জানা গেছে, ৫৩৭ কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের অধীনে শহিদ আবরার ফাহাদ হল নির্মাণের দায়িত্ব পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘ইবিএল এম ইসলাম জেভি’। শিডিউল অনুযায়ী হলটির বিভিন্ন স্থানে সিরামিক টাইলস ব্যবহারের কথা থাকলেও সেখানে পাথরের টাইলস বসানো হয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রথম তলার লিফটের সামনের দেয়ালে সিরামিক টাইলস বসানো হলেও দ্বিতীয় তলায় ব্যবহার করা হয়েছে পাথরের টাইলস।

এদিকে হলটিতে ইউরোপীয় মানের সাবমারসিবল পাম্পের পরিবর্তে নিম্নমানের চাইনিজ পাম্প বসানোর অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি অনুমোদনহীন দরজা, হেজবেল ও মার্বেল ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। লিফট স্থাপন নিয়েও গড়িমসির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব বিষয় সামনে আসার পর বিভিন্ন সাইটের কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

এছাড়া নির্মাণকাজে ধীরগতির অভিযোগও রয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। হলটির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকলেও গ্লাস ও টাইলস স্থাপন, বৈদ্যুতিক ক্যাবলিং, ডাইনিং এবং পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতাসহ বেশ কিছু কাজ এখনো অসম্পূর্ণ রয়েছে। ফলে এ বছরের মার্চে উদ্বোধনের কথা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, ২০১৪ সালের রেট শিডিউল অনুযায়ী প্রকল্পটি অনুমোদিত হওয়ায় ব্যয়ের সঙ্গে বিলের অমিল তৈরি হয়েছে। দুই কোটি টাকার বিলে প্রকৃত ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় দুই কোটি ৭০ লাখ টাকা। এতে লোকসানের আশঙ্কায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজে অনীহা দেখাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। শ্রমিক সংকটও কাজ বিলম্বিত হওয়ার অন্যতম কারণ। তবে ঈদুল আজহার পর হলটির একটি ভবন খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও আবরার হলের ম্যানেজার মো. আব্দুস সামাদ বলেন, সংশ্লিষ্ট টাইলসের পূর্ণ অনুমোদন না থাকলেও আংশিক অনুমোদনের ভিত্তিতে পরীক্ষামূলকভাবে বসানো হয়েছিল। পরে প্রকৌশলী অফিসের পছন্দ না হওয়ায় সেগুলো পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে প্রধান প্রকৌশলী শরীফ উদ্দিন জানান, অনুমোদন ছাড়াই ছুটির দিনে টাইলস বসানো হয়েছিল এবং সেগুলো অপসারণের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আরেক প্রতিনিধি নুরুল ইসলাম বলেন, প্রচলিত চায়নিজ সাবমারসিবল পাম্প বসানো হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী ইউরোপীয় পাম্প প্রয়োজন হলে তা পুনরায় স্থাপন করা হবে। অন্যান্য অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

হলটির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আব্দুল মালেক বলেন, টেন্ডার অনুযায়ী ইউরোপীয় মানের পাম্প বসানোর কথা থাকলেও চাইনিজ পাম্প বসানো হয়েছে, যা টেকসই নয় এবং ভবিষ্যতে পানির সংকট সৃষ্টি করতে পারে।

পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ড. নওয়াব আলী বলেন, ভিজিলেন্স টিম থেকে এখনো লিখিত কোনো নোটিশ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে ঠিকাদারকে চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হবে।

ভিজিলেন্স টিমের প্রধান ও ইবির কোষাধ্যক্ষ ড. জাহাঙ্গীর আলম জানান, অনুমোদন ছাড়াই পাম্প ও মার্বেলসহ বিভিন্ন উপকরণ স্থাপন করা হয়েছে। তাই এসব কাজের বিপরীতে কোনো বিল দেওয়া হবে না।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আগেও বিভিন্ন বিষয়ে জটিলতা হয়েছে। এসব কারণে প্রকল্পের কাজ দীর্ঘায়িত হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

ইবিতে শহিদ আবরার হলের নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট সময় : ১১:২৪:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শহিদ আবরার ফাহাদ ছাত্র হল–১ এর নির্মাণকাজে বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। হলটির বিভিন্ন স্থাপনায় অনুমোদনহীন উপকরণ ব্যবহার করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এতে ব্যবহৃত উপকরণের মূল্য, স্থায়িত্ব ও গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রকল্প বাস্তবায়নের নীতিমালা লঙ্ঘন করেছে। তাই এসব কাজের বিপরীতে কোনো বিল দেওয়া হবে না। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট উপকরণ অপসারণ করা হবে।

জানা গেছে, ৫৩৭ কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের অধীনে শহিদ আবরার ফাহাদ হল নির্মাণের দায়িত্ব পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘ইবিএল এম ইসলাম জেভি’। শিডিউল অনুযায়ী হলটির বিভিন্ন স্থানে সিরামিক টাইলস ব্যবহারের কথা থাকলেও সেখানে পাথরের টাইলস বসানো হয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রথম তলার লিফটের সামনের দেয়ালে সিরামিক টাইলস বসানো হলেও দ্বিতীয় তলায় ব্যবহার করা হয়েছে পাথরের টাইলস।

এদিকে হলটিতে ইউরোপীয় মানের সাবমারসিবল পাম্পের পরিবর্তে নিম্নমানের চাইনিজ পাম্প বসানোর অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি অনুমোদনহীন দরজা, হেজবেল ও মার্বেল ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। লিফট স্থাপন নিয়েও গড়িমসির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব বিষয় সামনে আসার পর বিভিন্ন সাইটের কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

এছাড়া নির্মাণকাজে ধীরগতির অভিযোগও রয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। হলটির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকলেও গ্লাস ও টাইলস স্থাপন, বৈদ্যুতিক ক্যাবলিং, ডাইনিং এবং পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতাসহ বেশ কিছু কাজ এখনো অসম্পূর্ণ রয়েছে। ফলে এ বছরের মার্চে উদ্বোধনের কথা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, ২০১৪ সালের রেট শিডিউল অনুযায়ী প্রকল্পটি অনুমোদিত হওয়ায় ব্যয়ের সঙ্গে বিলের অমিল তৈরি হয়েছে। দুই কোটি টাকার বিলে প্রকৃত ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় দুই কোটি ৭০ লাখ টাকা। এতে লোকসানের আশঙ্কায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজে অনীহা দেখাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। শ্রমিক সংকটও কাজ বিলম্বিত হওয়ার অন্যতম কারণ। তবে ঈদুল আজহার পর হলটির একটি ভবন খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও আবরার হলের ম্যানেজার মো. আব্দুস সামাদ বলেন, সংশ্লিষ্ট টাইলসের পূর্ণ অনুমোদন না থাকলেও আংশিক অনুমোদনের ভিত্তিতে পরীক্ষামূলকভাবে বসানো হয়েছিল। পরে প্রকৌশলী অফিসের পছন্দ না হওয়ায় সেগুলো পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে প্রধান প্রকৌশলী শরীফ উদ্দিন জানান, অনুমোদন ছাড়াই ছুটির দিনে টাইলস বসানো হয়েছিল এবং সেগুলো অপসারণের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আরেক প্রতিনিধি নুরুল ইসলাম বলেন, প্রচলিত চায়নিজ সাবমারসিবল পাম্প বসানো হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী ইউরোপীয় পাম্প প্রয়োজন হলে তা পুনরায় স্থাপন করা হবে। অন্যান্য অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

হলটির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আব্দুল মালেক বলেন, টেন্ডার অনুযায়ী ইউরোপীয় মানের পাম্প বসানোর কথা থাকলেও চাইনিজ পাম্প বসানো হয়েছে, যা টেকসই নয় এবং ভবিষ্যতে পানির সংকট সৃষ্টি করতে পারে।

পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ড. নওয়াব আলী বলেন, ভিজিলেন্স টিম থেকে এখনো লিখিত কোনো নোটিশ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে ঠিকাদারকে চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হবে।

ভিজিলেন্স টিমের প্রধান ও ইবির কোষাধ্যক্ষ ড. জাহাঙ্গীর আলম জানান, অনুমোদন ছাড়াই পাম্প ও মার্বেলসহ বিভিন্ন উপকরণ স্থাপন করা হয়েছে। তাই এসব কাজের বিপরীতে কোনো বিল দেওয়া হবে না।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আগেও বিভিন্ন বিষয়ে জটিলতা হয়েছে। এসব কারণে প্রকল্পের কাজ দীর্ঘায়িত হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।