ঢাকা ০৯:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লোহাগড়ায় ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকট

লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১০:৫৯:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ৪০ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চট্টগ্রামের লোহাগড়া উপজেলায় চলমান তীব্র বিদ্যুৎ সংকট জনজীবনকে প্রায় অচল করে ফেলেছে। দিনে-রাতে মিলিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গড়ে ২ থেকে ৩ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। এতে করে পুরো উপজেলায় এক ধরনের নীরব দুর্ভোগ নেমে এসেছে।

সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে স্বাস্থ্যসেবা খাত। লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল ও বেসরকারি ক্লিনিকে বিদ্যুৎ না থাকায় চিকিৎসা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। জরুরি সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের। অনেক ক্ষেত্রে জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হলেও পর্যাপ্ত জ্বালানি সংকটের কারণে সেটিও নিয়মিত চালানো সম্ভব হচ্ছে না।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও এর নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা নিয়মিত পড়াশোনা করতে পারছে না। অনলাইন নির্ভর শিক্ষা কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়েছে। পরীক্ষার প্রস্তুতিতেও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটছে, যা ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এছাড়া মসজিদসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতেও নামাজ ও অন্যান্য কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেমে এসেছে স্থবিরতা। ছোট ছোট দোকান, কারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বিদ্যুৎ না থাকায় কার্যক্রম চালাতে পারছে না, ফলে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—এই লোডশেডিংয়ের কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি নেই। হঠাৎ করে বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে, আবার কখন আসবে তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। ফলে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা পরিকল্পনা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

এদিকে তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু, নারী ও বৃদ্ধদের কষ্ট চরম আকার ধারণ করেছে। অনেক এলাকায় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে, কারণ বিদ্যুৎ না থাকায় গভীর নলকূপ ও পানির পাম্প চালানো যাচ্ছে না। এতে করে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

সচেতন মহল মনে করছেন, এভাবে পরিস্থিতি চলতে থাকলে লোহাগড়াবাসী এক ভয়াবহ মানবিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের দিকে ধাবিত হবে। দ্রুত এই সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয়দের জোর দাবি, বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি একটি নির্দিষ্ট ও স্বচ্ছ লোডশেডিং সময়সূচি ঘোষণা করা জরুরি, যাতে সাধারণ মানুষ অন্তত কিছুটা স্বস্তি নিয়ে দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

লোহাগড়ায় ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকট

আপডেট সময় : ১০:৫৯:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

চট্টগ্রামের লোহাগড়া উপজেলায় চলমান তীব্র বিদ্যুৎ সংকট জনজীবনকে প্রায় অচল করে ফেলেছে। দিনে-রাতে মিলিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গড়ে ২ থেকে ৩ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। এতে করে পুরো উপজেলায় এক ধরনের নীরব দুর্ভোগ নেমে এসেছে।

সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে স্বাস্থ্যসেবা খাত। লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল ও বেসরকারি ক্লিনিকে বিদ্যুৎ না থাকায় চিকিৎসা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। জরুরি সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের। অনেক ক্ষেত্রে জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হলেও পর্যাপ্ত জ্বালানি সংকটের কারণে সেটিও নিয়মিত চালানো সম্ভব হচ্ছে না।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও এর নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা নিয়মিত পড়াশোনা করতে পারছে না। অনলাইন নির্ভর শিক্ষা কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়েছে। পরীক্ষার প্রস্তুতিতেও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটছে, যা ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এছাড়া মসজিদসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতেও নামাজ ও অন্যান্য কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেমে এসেছে স্থবিরতা। ছোট ছোট দোকান, কারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বিদ্যুৎ না থাকায় কার্যক্রম চালাতে পারছে না, ফলে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—এই লোডশেডিংয়ের কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি নেই। হঠাৎ করে বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে, আবার কখন আসবে তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। ফলে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা পরিকল্পনা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

এদিকে তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু, নারী ও বৃদ্ধদের কষ্ট চরম আকার ধারণ করেছে। অনেক এলাকায় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে, কারণ বিদ্যুৎ না থাকায় গভীর নলকূপ ও পানির পাম্প চালানো যাচ্ছে না। এতে করে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

সচেতন মহল মনে করছেন, এভাবে পরিস্থিতি চলতে থাকলে লোহাগড়াবাসী এক ভয়াবহ মানবিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের দিকে ধাবিত হবে। দ্রুত এই সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয়দের জোর দাবি, বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি একটি নির্দিষ্ট ও স্বচ্ছ লোডশেডিং সময়সূচি ঘোষণা করা জরুরি, যাতে সাধারণ মানুষ অন্তত কিছুটা স্বস্তি নিয়ে দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে।