ঢাকা ০৫:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

হোয়াটসঅ্যাপ কি তথ্য সংগ্রহ বা বিক্রি করে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:২৬:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো ব্যক্তিগত বার্তা ও ফোনকলের গোপনীয়তা রক্ষায় ব্যবহার করা হয় এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন প্রযুক্তি। এ প্রযুক্তির ফলে প্রেরক ও প্রাপক ছাড়া অন্য কেউ বার্তার বিষয়বস্তু পড়তে বা কলের কথা শুনতে পারেন না। এমনকি হোয়াটসঅ্যাপের মূল প্রতিষ্ঠান মেটাও ব্যক্তিগত বার্তার বিষয়বস্তু দেখতে পারে না। তবে এর অর্থ এই নয় যে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীর কোনো তথ্য সংগ্রহ করে না। অ্যাপটি সচল রাখতে ফোন নম্বরসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত ও কারিগরি তথ্য সংগ্রহ করে প্রতিষ্ঠানটি। আবার হোয়াটসঅ্যাপের কিছু সুবিধা মেটার অন্যান্য সেবার সঙ্গে যুক্ত করলে নির্দিষ্ট কিছু তথ্য শেয়ার করা হতে পারে। তাহলে হোয়াটসঅ্যাপ কী ধরনের তথ্য সংগ্রহ করে, সেসব তথ্য কীভাবে ব্যবহার করে এবং চ্যাটের ব্যাকআপ রাখলে তার নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা যায়?

.

হোয়াটসঅ্যাপের সেবা পরিচালনা ও ব্যবহারকারীদের মধ্যে যোগাযোগ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এসব তথ্যের মধ্যে রয়েছে ফোন নম্বর, নামের মতো পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য এবং অ্যাপ ব্যবহারের সঙ্গে সম্পর্কিত কারিগরি তথ্য। হোয়াটসঅ্যাপ মূলত তিনটি উৎস থেকে এসব তথ্য পেতে পারে। প্রথমত, অ্যাকাউন্ট খোলার সময় ব্যবহারকারী নিজেই কিছু তথ্য দেন। যেমন হোয়াটসঅ্যাপে নিবন্ধনের জন্য ফোন নম্বর দিতে হয়। দ্বিতীয়ত, অ্যাপটি ব্যবহারের সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে কিছু কারিগরি তথ্য সংগ্রহ করা হয়। ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদানসহ বিভিন্ন সুবিধা সচল রাখতে এসব তথ্য প্রয়োজন হয়। তৃতীয়ত, অন্য ব্যবহারকারীদের কাছ থেকেও কারও সম্পর্কে তথ্য পেতে পারে হোয়াটসঅ্যাপ। যেমন বন্ধু বা পরিবারের সদস্যরা তাঁদের ফোনের কন্ট্যাক্ট তালিকায় আপনার নম্বর সংরক্ষণ করতে পারেন।

তবে ব্যবহারকারীর এসব তথ্য সংগ্রহের অর্থ এই নয় যে হোয়াটসঅ্যাপ তার ব্যক্তিগত বার্তার বিষয়বস্তু পড়তে পারে। এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশনের কারণে ব্যক্তিগত চ্যাট ও কলের বিষয়বস্তু সুরক্ষিত থাকে। তবে অ্যাকাউন্ট ও সেবা ব্যবহারের সঙ্গে সম্পর্কিত সব তথ্য এই এনক্রিপশনের আওতায় পড়ে না।

.

হোয়াটসঅ্যাপ মেটার মালিকানাধীন একটি বার্তা আদান-প্রদানের সেবা। সেবাটির পরিচালনা, উন্নয়ন ও কারিগরি সহায়তার জন্য এটি মেটার অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করে। ব্যবহারকারী হোয়াটসঅ্যাপের কোনো সুবিধা মেটার অন্য সেবার সঙ্গে যুক্ত করলে সেই সুবিধা চালু রাখতে প্রয়োজনীয় কিছু তথ্য শেয়ার করা হতে পারে।

যেমন হোয়াটসঅ্যাপের স্ট্যাটাস ফেসবুকে শেয়ার করার সুবিধা ব্যবহার করলে দুটি সেবার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের প্রয়োজন হতে পারে। তবে মেটার সঙ্গে তথ্য শেয়ার করলে প্রতিষ্ঠানটি হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো ব্যক্তিগত বার্তা বা ফোনকলের বিষয়বস্তু দেখতে পারে, এমন নয়। এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশনের কারণে ব্যক্তিগত বার্তা, ছবি, ভিডিও, ভয়েস মেসেজ ও নথির বিষয়বস্তু প্রেরক ও প্রাপক ছাড়া অন্যরা পড়তে পারেন না।

তবে তথ্য সংগ্রহ, তথ্য শেয়ার এবং তথ্য বিক্রির বিষয়গুলো আলাদা। হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীর কিছু তথ্য সংগ্রহ করে এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে মেটার অন্যান্য সেবার সঙ্গে শেয়ার করে। তবে শুধু এ তথ্যের ভিত্তিতে বলা যায় না যে প্রতিষ্ঠানটি ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রি করে।

.

হোয়াটসঅ্যাপে ব্যক্তিগত তথ্য কারা দেখতে পারবেন, তা নিয়ন্ত্রণের জন্য বেশ কিছু সুবিধা রয়েছে। এর মধ্যে ‘প্রাইভেসি চেকআপ’ উল্লেখযোগ্য। এ সুবিধার মাধ্যমে অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তাসংক্রান্ত সেটিংস পর্যালোচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করা যায়।

এ জন্য হোয়াটসঅ্যাপের সেটিংস থেকে প্রাইভেসি অপশনে যেতে হবে। সেখানে প্রোফাইলের ছবি, সর্বশেষ অনলাইন থাকার সময়সহ বিভিন্ন তথ্য কারা দেখতে পারবেন, তা নির্ধারণ করা যায়। সংশ্লিষ্ট সেটিংস অনুযায়ী, সবাই, শুধু সংরক্ষিত পরিচিতি, নির্দিষ্ট কিছু পরিচিতি কিংবা কেউই নন, এমন বিকল্প বেছে নেওয়া সম্ভব।

এ ছাড়া কারা ব্যবহারকারীকে হোয়াটসঅ্যাপের গ্রুপে যুক্ত করতে পারবেন, তা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। নির্দিষ্ট সময় পর বার্তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যাওয়ার সুবিধাও চালু করা সম্ভব। ব্যক্তিগত কথোপকথনের নিরাপত্তা বাড়াতে ‘চ্যাট লক’ এবং অ্যাপে প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণে ‘অ্যাপ লক’ ব্যবহার করা যেতে পারে।

.

ফোন হারিয়ে গেলে বা নতুন ফোনে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার শুরু করলে পুরোনো বার্তা ফিরিয়ে আনতে চ্যাটের ব্যাকআপ কাজে আসে। তবে ব্যাকআপে থাকা তথ্যের নিরাপত্তা বাড়াতে আলাদাভাবে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন চালু করার সুযোগ রয়েছে। এ সুবিধা চালু করলে চ্যাটের বার্তা ও মিডিয়া ফাইল গুগল অ্যাকাউন্ট বা আইক্লাউডে ব্যাকআপ হিসেবে সংরক্ষণ করা যায়। ব্যাকআপ সুরক্ষিত রাখতে পাসওয়ার্ড অথবা ৬৪ সংখ্যার এনক্রিপশন কি ব্যবহার করা হয়। ফলে যথাযথ অনুমোদন ছাড়া ব্যাকআপের তথ্য পড়া কঠিন হয়ে পড়ে।

তবে ব্যাকআপের পাসওয়ার্ড বা এনক্রিপশন কি হারিয়ে গেলে কিংবা সেটি ব্যবহারের সুযোগ না থাকলে সংরক্ষিত চ্যাট পুনরুদ্ধার করা সম্ভব না–ও হতে পারে। এ ক্ষেত্রে হোয়াটসঅ্যাপও ব্যাকআপ খুলে দিতে বা এনক্রিপশন কি উদ্ধার করে দিতে পারবে না। তাই ব্যাকআপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পাসওয়ার্ড বা এনক্রিপশন কি নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করা জরুরি।

হোয়াটসঅ্যাপে ব্যক্তিগত বার্তা ও কল এনক্রিপশনের মাধ্যমে সুরক্ষিত থাকলেও ব্যবহারকারীর সব তথ্যই যে গোপন থাকে, বিষয়টি এমন নয়। অ্যাপটি কী ধরনের তথ্য সংগ্রহ করে এবং কোন ক্ষেত্রে সেগুলো শেয়ার হতে পারে, তা জানা থাকলে গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়ে সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়। এ জন্য নিয়মিত প্রাইভেসি সেটিংস পর্যালোচনা করা এবং চ্যাটের ব্যাকআপ সুরক্ষিত রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

হোয়াটসঅ্যাপ কি তথ্য সংগ্রহ বা বিক্রি করে

আপডেট সময় : ০৪:২৬:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো ব্যক্তিগত বার্তা ও ফোনকলের গোপনীয়তা রক্ষায় ব্যবহার করা হয় এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন প্রযুক্তি। এ প্রযুক্তির ফলে প্রেরক ও প্রাপক ছাড়া অন্য কেউ বার্তার বিষয়বস্তু পড়তে বা কলের কথা শুনতে পারেন না। এমনকি হোয়াটসঅ্যাপের মূল প্রতিষ্ঠান মেটাও ব্যক্তিগত বার্তার বিষয়বস্তু দেখতে পারে না। তবে এর অর্থ এই নয় যে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীর কোনো তথ্য সংগ্রহ করে না। অ্যাপটি সচল রাখতে ফোন নম্বরসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত ও কারিগরি তথ্য সংগ্রহ করে প্রতিষ্ঠানটি। আবার হোয়াটসঅ্যাপের কিছু সুবিধা মেটার অন্যান্য সেবার সঙ্গে যুক্ত করলে নির্দিষ্ট কিছু তথ্য শেয়ার করা হতে পারে। তাহলে হোয়াটসঅ্যাপ কী ধরনের তথ্য সংগ্রহ করে, সেসব তথ্য কীভাবে ব্যবহার করে এবং চ্যাটের ব্যাকআপ রাখলে তার নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা যায়?

.

হোয়াটসঅ্যাপের সেবা পরিচালনা ও ব্যবহারকারীদের মধ্যে যোগাযোগ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এসব তথ্যের মধ্যে রয়েছে ফোন নম্বর, নামের মতো পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য এবং অ্যাপ ব্যবহারের সঙ্গে সম্পর্কিত কারিগরি তথ্য। হোয়াটসঅ্যাপ মূলত তিনটি উৎস থেকে এসব তথ্য পেতে পারে। প্রথমত, অ্যাকাউন্ট খোলার সময় ব্যবহারকারী নিজেই কিছু তথ্য দেন। যেমন হোয়াটসঅ্যাপে নিবন্ধনের জন্য ফোন নম্বর দিতে হয়। দ্বিতীয়ত, অ্যাপটি ব্যবহারের সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে কিছু কারিগরি তথ্য সংগ্রহ করা হয়। ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদানসহ বিভিন্ন সুবিধা সচল রাখতে এসব তথ্য প্রয়োজন হয়। তৃতীয়ত, অন্য ব্যবহারকারীদের কাছ থেকেও কারও সম্পর্কে তথ্য পেতে পারে হোয়াটসঅ্যাপ। যেমন বন্ধু বা পরিবারের সদস্যরা তাঁদের ফোনের কন্ট্যাক্ট তালিকায় আপনার নম্বর সংরক্ষণ করতে পারেন।

তবে ব্যবহারকারীর এসব তথ্য সংগ্রহের অর্থ এই নয় যে হোয়াটসঅ্যাপ তার ব্যক্তিগত বার্তার বিষয়বস্তু পড়তে পারে। এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশনের কারণে ব্যক্তিগত চ্যাট ও কলের বিষয়বস্তু সুরক্ষিত থাকে। তবে অ্যাকাউন্ট ও সেবা ব্যবহারের সঙ্গে সম্পর্কিত সব তথ্য এই এনক্রিপশনের আওতায় পড়ে না।

.

হোয়াটসঅ্যাপ মেটার মালিকানাধীন একটি বার্তা আদান-প্রদানের সেবা। সেবাটির পরিচালনা, উন্নয়ন ও কারিগরি সহায়তার জন্য এটি মেটার অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করে। ব্যবহারকারী হোয়াটসঅ্যাপের কোনো সুবিধা মেটার অন্য সেবার সঙ্গে যুক্ত করলে সেই সুবিধা চালু রাখতে প্রয়োজনীয় কিছু তথ্য শেয়ার করা হতে পারে।

যেমন হোয়াটসঅ্যাপের স্ট্যাটাস ফেসবুকে শেয়ার করার সুবিধা ব্যবহার করলে দুটি সেবার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের প্রয়োজন হতে পারে। তবে মেটার সঙ্গে তথ্য শেয়ার করলে প্রতিষ্ঠানটি হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো ব্যক্তিগত বার্তা বা ফোনকলের বিষয়বস্তু দেখতে পারে, এমন নয়। এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশনের কারণে ব্যক্তিগত বার্তা, ছবি, ভিডিও, ভয়েস মেসেজ ও নথির বিষয়বস্তু প্রেরক ও প্রাপক ছাড়া অন্যরা পড়তে পারেন না।

তবে তথ্য সংগ্রহ, তথ্য শেয়ার এবং তথ্য বিক্রির বিষয়গুলো আলাদা। হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীর কিছু তথ্য সংগ্রহ করে এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে মেটার অন্যান্য সেবার সঙ্গে শেয়ার করে। তবে শুধু এ তথ্যের ভিত্তিতে বলা যায় না যে প্রতিষ্ঠানটি ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রি করে।

.

হোয়াটসঅ্যাপে ব্যক্তিগত তথ্য কারা দেখতে পারবেন, তা নিয়ন্ত্রণের জন্য বেশ কিছু সুবিধা রয়েছে। এর মধ্যে ‘প্রাইভেসি চেকআপ’ উল্লেখযোগ্য। এ সুবিধার মাধ্যমে অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তাসংক্রান্ত সেটিংস পর্যালোচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করা যায়।

এ জন্য হোয়াটসঅ্যাপের সেটিংস থেকে প্রাইভেসি অপশনে যেতে হবে। সেখানে প্রোফাইলের ছবি, সর্বশেষ অনলাইন থাকার সময়সহ বিভিন্ন তথ্য কারা দেখতে পারবেন, তা নির্ধারণ করা যায়। সংশ্লিষ্ট সেটিংস অনুযায়ী, সবাই, শুধু সংরক্ষিত পরিচিতি, নির্দিষ্ট কিছু পরিচিতি কিংবা কেউই নন, এমন বিকল্প বেছে নেওয়া সম্ভব।

এ ছাড়া কারা ব্যবহারকারীকে হোয়াটসঅ্যাপের গ্রুপে যুক্ত করতে পারবেন, তা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। নির্দিষ্ট সময় পর বার্তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যাওয়ার সুবিধাও চালু করা সম্ভব। ব্যক্তিগত কথোপকথনের নিরাপত্তা বাড়াতে ‘চ্যাট লক’ এবং অ্যাপে প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণে ‘অ্যাপ লক’ ব্যবহার করা যেতে পারে।

.

ফোন হারিয়ে গেলে বা নতুন ফোনে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার শুরু করলে পুরোনো বার্তা ফিরিয়ে আনতে চ্যাটের ব্যাকআপ কাজে আসে। তবে ব্যাকআপে থাকা তথ্যের নিরাপত্তা বাড়াতে আলাদাভাবে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন চালু করার সুযোগ রয়েছে। এ সুবিধা চালু করলে চ্যাটের বার্তা ও মিডিয়া ফাইল গুগল অ্যাকাউন্ট বা আইক্লাউডে ব্যাকআপ হিসেবে সংরক্ষণ করা যায়। ব্যাকআপ সুরক্ষিত রাখতে পাসওয়ার্ড অথবা ৬৪ সংখ্যার এনক্রিপশন কি ব্যবহার করা হয়। ফলে যথাযথ অনুমোদন ছাড়া ব্যাকআপের তথ্য পড়া কঠিন হয়ে পড়ে।

তবে ব্যাকআপের পাসওয়ার্ড বা এনক্রিপশন কি হারিয়ে গেলে কিংবা সেটি ব্যবহারের সুযোগ না থাকলে সংরক্ষিত চ্যাট পুনরুদ্ধার করা সম্ভব না–ও হতে পারে। এ ক্ষেত্রে হোয়াটসঅ্যাপও ব্যাকআপ খুলে দিতে বা এনক্রিপশন কি উদ্ধার করে দিতে পারবে না। তাই ব্যাকআপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পাসওয়ার্ড বা এনক্রিপশন কি নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করা জরুরি।

হোয়াটসঅ্যাপে ব্যক্তিগত বার্তা ও কল এনক্রিপশনের মাধ্যমে সুরক্ষিত থাকলেও ব্যবহারকারীর সব তথ্যই যে গোপন থাকে, বিষয়টি এমন নয়। অ্যাপটি কী ধরনের তথ্য সংগ্রহ করে এবং কোন ক্ষেত্রে সেগুলো শেয়ার হতে পারে, তা জানা থাকলে গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়ে সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়। এ জন্য নিয়মিত প্রাইভেসি সেটিংস পর্যালোচনা করা এবং চ্যাটের ব্যাকআপ সুরক্ষিত রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া