সুন্দরগঞ্জে রাস্তা নিয়ে বিরোধ, পথরোধ করে যুবককে মারধর
- আপডেট সময় : ০১:৪৯:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬ ২০৬ বার পড়া হয়েছে

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে বাড়িতে যাতায়াতের রাস্তা নিয়ে বিরোধের জেরে মো. জামেদুল ইসলাম (৩৯) নামের এক যুবককে পথ আটকে লাঠি, লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পিতা ১১ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় এজাহার দায়ের করেছেন।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ্ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আহত জামেদুল ইসলাম উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের পশ্চিম সোনারায় গ্রামের মো. নুরুল ইসলাম মিয়ার ছেলে।
অভিযুক্তরা হলেন ওই গ্রামের মৃত বাবর আলীর ছেলে আব্বাস আলী (৫৮), আজাদ মিয়া (৫০), আলম মিয়া (৪৭) ও দুলা মিয়া (৪৫), আব্বাস আলীর ছেলে কামরুজ্জামান (৩৫), বদিউজ্জামান (৩২) ও ভুট্টু মিয়া (২৮)সহ কয়েকজন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাড়িতে যাতায়াতের রাস্তা নিয়ে কিছুদিন ধরে প্রতিবেশী আব্বাস আলীসহ কয়েকজনের সঙ্গে জামেদুল ইসলামের বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে জামেদুল ইসলাম আব্বাস আলীসহ ১৫ জনকে আসামি করে গাইবান্ধার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এ ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৭/১১৭ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার নোটিশ পাওয়ার পর অভিযুক্তরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।
এরই ধারাবাহিকতায় রোববার দুপুরে সোনারায় বাজারে যাওয়ার পথে অভিযুক্তদের বাড়ির দক্ষিণ পাশে রাস্তায় পৌঁছালে জামেদুলের পথরোধ করা হয়। এ সময় আব্বাস আলীর নির্দেশে অন্যরা তাকে ঘিরে ধরে লাঠি, লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে মারধর করেন।
এ সময় লোহার রড দিয়ে আঘাত করলে জামেদুলের ডান হাতের কনুইয়ের নিচে গুরুতর জখম এবং ধারালো ছোরা দিয়ে আঘাত করলে তার ডান বাহুর ওপরের অংশে কাটা ও রক্তাক্ত জখম হয়।
একপর্যায়ে জামেদুল মাটিতে পড়ে গেলে আব্বাস আলী তার বুকের ওপর বসে দুই হাতে গলা চেপে ধরেন। এ সময় জামেদুলের স্ত্রী মোছা. শেফালী বেগম ও ভাবী মোছা. রাশিদা বেগম ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে সরিয়ে দেন। পরে অভিযুক্তরা তাদেরও মারধর করেন। স্থানীয় কয়েকজন ঘটনাস্থলে এসে জামেদুল ও তার স্বজনদের উদ্ধার করেন। এ সময় অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।
পরে খবর পেয়ে জামেদুলের বাবা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে অটোরিকশায় করে সুন্দরগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। তিনি বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহতের বাবা মো. নুরুল ইসলাম মিয়া বলেন, ‘আমার ছেলেকে পথরোধ করে মারধর করা হয়েছে। একপর্যায়ে তার গলা চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা করা হয়। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। আমি এর সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা চাই।’

তবে অভিযুক্তদের সাথে এ বিষয়ে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এবিষয়ে সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ্ বলেন, ‘রোববার রাতে এ সংক্রান্ত একটি এজাহার পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’




















