ঢাকা ০৫:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এই সড়কে দিনে চলতেও ভয় আসামে বাঙালি মুসলিমদের বাড়িঘর উচ্ছেদ, মসজিদ ভাঙার অভিযোগ হোয়াটসঅ্যাপ কি তথ্য সংগ্রহ বা বিক্রি করে সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার পক্ষে তরুণদের সোচ্চার থাকার আহ্বান রাষ্ট্রপতির সুন্দরগঞ্জে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও আর্থিক সহায়তা দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নজমুল হুদা আজ রাতে ঘুমালে আকাশের যা মিস করবেন প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬। বাংলা: বাঘের প্রধান আবাসস্থল সুন্দরবন কুমিল্লায় কর্ণফুলী এক্সপ্রেসের তিন বগি লাইনচ্যুত, আতঙ্কিত যাত্রীরা মৌলিক সংখ্যার একচ্ছত্র অধিপতি: প্রিমিটিভ রুট পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীকে দিল্লির বিমানবন্দরে হেনস্থার অভিযোগ, জরিমানাও করা হলো

আজ রাতে ঘুমালে আকাশের যা মিস করবেন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৪:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মহাজাগতিক বিস্ময় বলা হয় উল্কাপাতকে। প্রতিবছর অক্টোবর মাসে পৃথিবী যখন বিখ্যাত হ্যালিস কমেট বা ধূমকেতুর রেখে যাওয়া ধূলিকণা ও অবশিষ্টাংশের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করে, তখন চমৎকার উল্কাবৃষ্টি দেখা যায়। রাতের আকাশে উজ্জ্বল তারার খসে পড়ার এই দৃশ্য বিজ্ঞানপ্রেমী ও সাধারণ মানুষের জন্য এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা তৈরি করে। অক্টোবরের শেষ পাক্ষিকের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টি। বাংলাদেশের আকাশ থেকেও আজ দেখা যাবে এই উল্কাপাত।

.

আজ ২১ ও আগামীকাল ২২ অক্টোবর রাতের দিকে এই উল্কাবৃষ্টির চরম বা পিক সময়। হ্যালির ধূমকেতুর ফেলে যাওয়া ধ্বংসাবশেষের মধ্য দিয়ে পৃথিবীর পথচলার সময় এই আলোকোজ্জ্বল উল্কাবৃষ্টির সৃষ্টি হয়। ঘণ্টায় প্রায় ২০টি পর্যন্ত খসে পড়া তারা বা শুটিং স্টার রাতের আকাশে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ওরিয়ন নক্ষত্রমণ্ডলের এলাকা থেকে এই উল্কা ছড়িয়ে পড়ে বলে একে ওরিওনিড বলা হয়। হ্যালির কমেট প্রতি ৭৬ বছরে একবার সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। ২০৬১ সালে এটি আবার পৃথিবী থেকে দৃশ্যমান হবে। ওরিওনিড হলো হ্যালির ধূমকেতুর অবশিষ্টাংশ থেকে তৈরি বছরের দ্বিতীয় উল্কাপাত। এর আগে মে মাসে ইটা অ্যাকুয়ার্ডস উল্কাপাত দেখা গিয়েছিল।

.

বিশেষজ্ঞদের মতে, ২২ অক্টোবরের আগের রাতটি অর্থাৎ ২১ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে ভোরের মধ্যে এই উল্কাবৃষ্টি দেখার সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। আদর্শ ও অন্ধকার আকাশে এ সময় প্রতি ঘণ্টায় ১০ থেকে ২০টি উল্কাপাত দেখা যেতে পারে। তবে ৭৪ শতাংশ আলোকিত চাঁদের উজ্জ্বল আলোর কারণে রাতের একটি বড় সময় ধরে ফিকে উল্কাগুলো দেখা না–ও যেতে পারে। সৌভাগ্যবশত চাঁদের আলো কমে যাওয়ার পর ভোরের ঠিক আগের কয়েক ঘণ্টা চমৎকার অন্ধকার আকাশ পাওয়া যাবে। এ সময়টাতে পূর্ণ মহিমায় উল্কাবৃষ্টি উপভোগ করা সম্ভব হবে।

.

ওরিওনিড উল্কাপাত দেখার জন্য বিশেষ কোনো যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হয় না। তবে পরিষ্কার আকাশ এবং খোলা জায়গা থাকা জরুরি। ওরিয়ন নক্ষত্রমণ্ডলের লাল দানব তারা বেটেলজিউসের কাছাকাছি আকাশ থেকে এই উল্কার উৎস বলে মনে হবে। উল্কাপাত ভালোভাবে উপভোগ করতে উজ্জ্বল আলোগুলো থেকে দূরে কোনো নিরিবিলি জায়গায় যেতে হবে। চোখের দৃষ্টি অন্ধকার সয়ে নিতে ২০ থেকে ৩০ মিনিট সময় দিতে হবে। হ্যালির কমেটের প্রাচীন কণাগুলো ঘণ্টায় ১ লাখ ৪৭ হাজার ৬০০ মাইল বেগে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে। বায়ুমণ্ডলের সঙ্গে সংঘর্ষে এগুলো বাষ্পীভূত হয় এবং প্রাকৃতিক আতশবাজির মতো ঝলমলে দৃশ্য তৈরি করবে।

সূত্র: স্পেস ডটকম

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

আজ রাতে ঘুমালে আকাশের যা মিস করবেন

আপডেট সময় : ০৩:৫৪:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

মহাজাগতিক বিস্ময় বলা হয় উল্কাপাতকে। প্রতিবছর অক্টোবর মাসে পৃথিবী যখন বিখ্যাত হ্যালিস কমেট বা ধূমকেতুর রেখে যাওয়া ধূলিকণা ও অবশিষ্টাংশের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করে, তখন চমৎকার উল্কাবৃষ্টি দেখা যায়। রাতের আকাশে উজ্জ্বল তারার খসে পড়ার এই দৃশ্য বিজ্ঞানপ্রেমী ও সাধারণ মানুষের জন্য এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা তৈরি করে। অক্টোবরের শেষ পাক্ষিকের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টি। বাংলাদেশের আকাশ থেকেও আজ দেখা যাবে এই উল্কাপাত।

.

আজ ২১ ও আগামীকাল ২২ অক্টোবর রাতের দিকে এই উল্কাবৃষ্টির চরম বা পিক সময়। হ্যালির ধূমকেতুর ফেলে যাওয়া ধ্বংসাবশেষের মধ্য দিয়ে পৃথিবীর পথচলার সময় এই আলোকোজ্জ্বল উল্কাবৃষ্টির সৃষ্টি হয়। ঘণ্টায় প্রায় ২০টি পর্যন্ত খসে পড়া তারা বা শুটিং স্টার রাতের আকাশে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ওরিয়ন নক্ষত্রমণ্ডলের এলাকা থেকে এই উল্কা ছড়িয়ে পড়ে বলে একে ওরিওনিড বলা হয়। হ্যালির কমেট প্রতি ৭৬ বছরে একবার সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। ২০৬১ সালে এটি আবার পৃথিবী থেকে দৃশ্যমান হবে। ওরিওনিড হলো হ্যালির ধূমকেতুর অবশিষ্টাংশ থেকে তৈরি বছরের দ্বিতীয় উল্কাপাত। এর আগে মে মাসে ইটা অ্যাকুয়ার্ডস উল্কাপাত দেখা গিয়েছিল।

.

বিশেষজ্ঞদের মতে, ২২ অক্টোবরের আগের রাতটি অর্থাৎ ২১ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে ভোরের মধ্যে এই উল্কাবৃষ্টি দেখার সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। আদর্শ ও অন্ধকার আকাশে এ সময় প্রতি ঘণ্টায় ১০ থেকে ২০টি উল্কাপাত দেখা যেতে পারে। তবে ৭৪ শতাংশ আলোকিত চাঁদের উজ্জ্বল আলোর কারণে রাতের একটি বড় সময় ধরে ফিকে উল্কাগুলো দেখা না–ও যেতে পারে। সৌভাগ্যবশত চাঁদের আলো কমে যাওয়ার পর ভোরের ঠিক আগের কয়েক ঘণ্টা চমৎকার অন্ধকার আকাশ পাওয়া যাবে। এ সময়টাতে পূর্ণ মহিমায় উল্কাবৃষ্টি উপভোগ করা সম্ভব হবে।

.

ওরিওনিড উল্কাপাত দেখার জন্য বিশেষ কোনো যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হয় না। তবে পরিষ্কার আকাশ এবং খোলা জায়গা থাকা জরুরি। ওরিয়ন নক্ষত্রমণ্ডলের লাল দানব তারা বেটেলজিউসের কাছাকাছি আকাশ থেকে এই উল্কার উৎস বলে মনে হবে। উল্কাপাত ভালোভাবে উপভোগ করতে উজ্জ্বল আলোগুলো থেকে দূরে কোনো নিরিবিলি জায়গায় যেতে হবে। চোখের দৃষ্টি অন্ধকার সয়ে নিতে ২০ থেকে ৩০ মিনিট সময় দিতে হবে। হ্যালির কমেটের প্রাচীন কণাগুলো ঘণ্টায় ১ লাখ ৪৭ হাজার ৬০০ মাইল বেগে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে। বায়ুমণ্ডলের সঙ্গে সংঘর্ষে এগুলো বাষ্পীভূত হয় এবং প্রাকৃতিক আতশবাজির মতো ঝলমলে দৃশ্য তৈরি করবে।

সূত্র: স্পেস ডটকম