গাইবান্ধায় মেয়াদোত্তীর্ণ ইনজেকশন বিক্রি, জরিমানা ও কারাদণ্ড
- আপডেট সময় : ০১:৩৮:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে এক অন্তঃসত্ত্বা নারীর কাছে মেয়াদোত্তীর্ণ ইনজেকশন বিক্রির অভিযোগে ‘পপুলার মেডিসিন সেন্টার অ্যান্ড সার্জিক্যাল’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে জরিমানা ও কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বুধবার (৩ জুন) বিকেলে গোবিন্দগঞ্জ পৌর শহরের হাসপাতাল রোড এলাকায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তামশীদ ইরাম খান এ অভিযান পরিচালনা করেন।
এসময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির মালিক মো. আনোয়ার হোসেনকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড ও ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত মো. আনোয়ার হোসেন গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শিবপুর সর্দারহাট এলাকার মো. আলেফ উদ্দিন ব্যাপারীর ছেলে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, এক অন্তঃসত্ত্বা নারীর কাছে মেয়াদোত্তীর্ণ ইনজেকশন বিক্রির অভিযোগের ভিত্তিতে ওই প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি এবং ফিজিশিয়ান স্যাম্পল বিক্রির সত্যতা পাওয়া গেলে ঔষধ ও কসমেটিকস আইনে তাকে এ দণ্ড প্রদান করা হয়।
ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের পুনতাইর (সিংজানী) গ্রামের মোছা. হুরে জান্নাত নামে তিন মাসের এক অন্তঃসত্ত্বা নারী শারীরিক অসুস্থতা ও রক্তক্ষরণের কারণে গত ২৪ মে ডাঃ তৌহিদা ইয়াসমিন সমা নামের এক এমবিবিএস (গাইনী এন্ড অবস) চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। পরে চিকিৎসকের দেওয়া প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী তিনি ‘পপুলার মেডিসিন সেন্টার অ্যান্ড সার্জিক্যাল’ থেকে ওষুধ ও ইনজেকশন ক্রয় করেন।
তার অভিযোগ, প্রেসক্রিপশনে উল্লেখ থাকা চারটি ইনজেকশনের মধ্যে তিনটি সরবরাহ করা হলেও চারটির মূল্য নেওয়া হয়। পরে স্থানীয় এক পল্লী চিকিৎসকের মাধ্যমে দুটি ইনজেকশন পুশ করার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পুনরায় চিকিৎসকের কাছে গেলে তিনি জানতে পারেন, তাকে মেয়াদোত্তীর্ণ ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে। এতে গর্ভের সন্তানের ক্ষতির আশঙ্কার কথাও জানান চিকিৎসক।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে বিষয়টি তদন্তে নামে প্রশাসন। পরে অভিযানে গিয়ে দোকানে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের সত্যতা পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তামশীদ ইরাম খান বলেন, ‘মানুষের জীবন নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম বা প্রতারণা সহ্য করা হবে না। জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে জড়িত বিষয়ে প্রশাসন সবসময় কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’




















