লোহাগাড়ায় খোলা মাঠে শতাধিক শিশুর অংশগ্রহণে গ্রীষ্মকালীন ফল উৎসব
- আপডেট সময় : ১০:২৩:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬ ৩৫ বার পড়া হয়েছে

জ্যৈষ্ঠের বিকেল। পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়া সূর্যের কোমল আলোয় মুখরিত হয়ে উঠেছিল সবুজে ঘেরা এক খোলা মাঠ। সেখানে জড়ো হয়েছিল শতাধিক শিশু-কিশোর। তাদের সঙ্গে ছিলেন এলাকার তরুণ, অভিভাবক ও প্রবীণ ব্যক্তিরাও। মাঠের একপাশে টেবিলজুড়ে সাজানো ছিল দেশীয় মৌসুমি ফল—আম, কাঁঠাল, লিচু, জাম, তাল, আনারসসহ নানা রঙ ও স্বাদের ফল। স্বেচ্ছাসেবী তরুণরা ফলগুলো সুন্দরভাবে কেটে প্লেটে সাজিয়ে শিশুদের মাঝে পরিবেশন করেন।
কিছুক্ষণ পর পুরো মাঠ যেন পরিণত হয় এক আনন্দমেলায়। সবুজ ঘাসের ওপর সারিবদ্ধভাবে বসে শিশুরা তৃপ্তি ভরে মৌসুমি ফল খেতে থাকে। হাসি-আনন্দ আর উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন। ফল খাওয়ার পাশাপাশি শিশুদের মধ্যে দেশীয় ফলের পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য সচেতনতা সম্পর্কেও আলোচনা করা হয়।
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের বাঁশখালিয়া পাড়া এলাকায় স্থানীয় সামাজিক সংগঠন বাঁশখালিয়া পাড়া ফাউন্ডেশন এ ব্যতিক্রমধর্মী গ্রীষ্মকালীন ফল উৎসবের আয়োজন করে। শনিবার বিকেলে এলাকার অস্থায়ী খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত এই আয়োজন স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আমিরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, মৌসুমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এমন আয়োজন সত্যিই প্রশংসনীয়। আমাদের দেশীয় ফলের ঐতিহ্য ও পুষ্টিগুণ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শিশুদের হাসিমুখ দেখে খুব ভালো লাগছে। আমি আশা করি, এলাকার তরুণরা ভবিষ্যতেও এমন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
তিনি আরও বলেন, “বর্তমান সময়ে শিশুদের মোবাইল ও প্রযুক্তিনির্ভর জীবন থেকে কিছুটা বের করে এনে প্রকৃতি ও দেশীয় সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে এমন আয়োজন বিশেষভাবে প্রয়োজন।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আমিরাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম, চাকসুর আলাওল হলের সাবেক ভিপি রাকিব মাহমুদ, সমাজকর্মী মনোয়ার হোসেন, আমীর হোসেন, বোরহান উদ্দিন সুজন, মোহাম্মদ জুনাইদ, মুজাহিদুল ইসলাম পারভেজ, মোহাম্মদ এহেসান, আবু হানিফ, ফয়সাল, আয়াত ও ফাহিম উদ্দীনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
আয়োজকরা জানান, শিশুদের দেশীয় ফলের প্রতি আগ্রহ বাড়ানো, সুস্থ খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা এবং সামাজিক সম্প্রীতি জোরদারের লক্ষ্যে এ আয়োজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও শিশু-কিশোরদের নিয়ে শিক্ষা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতিভিত্তিক বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তারা।
ব্যতিক্রমী এই ফল উৎসব শেষে শিশুদের মাঝে আনন্দের আবহ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারাও এমন আয়োজনকে স্বাগত জানিয়ে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এ ধরনের উৎসব আয়োজনের আহ্বান জানান।



















