তীব্র তাপদাহে পুড়ছে সুন্দরগঞ্জ, জনজীবনে দুর্ভোগ
- আপডেট সময় : ০৫:১৯:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে

তীব্র তাপদাহে পুড়ছে নদ-নদী বেষ্টিত উত্তরের জনপদ গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ। সকালের সূর্য বেরোতেই সূর্যের তেজ বাড়তে শুরু করে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই তেজ পরিণত হয় অসহনীয় তাপপ্রবাহে। বাতাসে নেই কোনো শীতলতা, বরং প্রতিটি ঝাপটা যেন আগুনের মতো তাপ ছড়িয়ে দিচ্ছে শরীরে। শহর থেকে শুরু করে গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত জনজীবন এখন চরম ভোগান্তির মধ্যে সময় পার করছে।
গত কয়েক দিন ধরে টানা গরমে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার মানুষ, প্রাণী সহ প্রকৃতির সবকিছুই বিপর্যস্ত। জানা যায়, বেলা ১১টার পর থেকে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে থাকছে। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণও বেশি থাকায় বাস্তব অনুভূত তাপমাত্রা আরও বেশি মনে হচ্ছে। বাইরে বের হলে মনে হচ্ছে যেন রোদ শরীরের ওপর সরাসরি আগুন ঢেলে দিচ্ছে।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। পৌর শহরের সড়ক, বাজার ও জনসমাগম স্থলে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় মানুষের উপস্থিতি অনেক কম। যারা বের হচ্ছেন, তাদের বেশির ভাগই মাথায় গামছা, ছাতা বা কাপড় দিয়ে শরীর ঢেকে চলাচল করছেন।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। রিকশাচালক, ভ্যানচালক, ইজিবাইক চালক, নির্মাণশ্রমিক, দিনমজুর ও কৃষিশ্রমিকরা জীবিকার তাগিদে এই তীব্র রোদের মধ্যেও কাজ করছেন। প্রচণ্ড গরমে জীবিকার তাগিদে কাজ করতে করতে শরীর ঘামে ভিজে একাকার হয়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ ছায়ায় দাঁড়িয়ে বারবার বিশ্রাম নিচ্ছেন, আবার পানি পান করে সাময়িক স্বস্তি খুঁজছেন।
রিকশাচালক মো. আল আমিন ইসলাম বলেন, ‘সকাল থাইকাই রোদ খুব বেশি। দুপুরের সময় রাস্তায় থাকা যায় না। গরম বাতাসে বুকটা হাপাইয়া ওঠে। তারপরও পেটের দায়ে রিকশা চালাইতে হয়।’
নির্মাণ শ্রমিক মো. শহিদুল মিয়া বলেন, ‘টিনের নিচে কাজ করলে মনে হয় আগুনের ভেতরে আছি। শরীর দুর্বল হয়ে যায়। কাজ বন্ধ করলে সংসার চলবে না, তাই কষ্ট করেই কাজ করতে হয়।’
ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক চালক মো. আশরাফ আলী বলেন, ‘ঈদের দিন থেকেই গরম খুব বেশি। চরাঞ্চল থেকে ভুট্টা আর মালামাল পরিবহন করি। রোদের মধ্যে গাড়ি চালানো খুব কষ্টকর হয়ে গেছে।’
গরমের কারণে শহর ও গ্রামে ঠান্ডা পানি, শরবত, ডাব ও তরমুজের চাহিদা বেড়ে গেছে কয়েক গুণ। ফুটপাতের শরবতের দোকানগুলোতে ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেকেই গাছতলায় বসে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে স্বস্তি খুঁজছেন।
পৌর এলাকার বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে গরম বাড়ছেই। আজকে তো আরও বেশি কষ্ট লাগছে। দুপুরের পরে বাইরে বের হওয়া প্রায় অসম্ভব।’
এদিকে মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেল পৌনে তিনটার দিকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বজ্রসহ বৃষ্টি হয়। দুপুরের পর থেকেই আকাশে কালো মেঘ জমতে শুরু করে। কিছুক্ষণ পর শুরু হয় ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি, যা শহর থেকে শুরু করে গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
মুহূর্তেই ধুলোবালির স্তর ধুয়ে গিয়ে পরিবেশ কিছুটা শীতল হয়ে ওঠে। তবে সেই স্বস্তি ছিল সাময়িক। বৃষ্টির পর আবারও গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়া ফিরে আসে, ফলে মানুষের দুর্ভোগ পুরোপুরি কাটেনি।
ডাঃ ফারহানা বিনতে ফারুক আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) বলেন, ‘তীব্র গরমে শরীরে পানিশূন্যতা, হিটস্ট্রোক, মাথা ঘোরা, বমি, দুর্বলতা এসব সমস্যা বাড়ছে। শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছেন। সবাইকে পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে, খাবার স্যালাইন খেতে হবে এবং অপ্রয়োজনে দুপুরের রোদে বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’
রংপুর আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘উত্তরাঞ্চলের ওপর মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আকাশে মেঘ কম থাকায় সূর্যের তাপ সরাসরি ভূপৃষ্ঠে পড়ছে। এতে গরম বেশি অনুভূত হচ্ছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে কোথাও কোথাও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তখন তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসতে পারে।’




















