ঈদের পরদিন রোদের হাসি, চাষিদের মুখে স্বস্তির আলো
- আপডেট সময় : ০৩:১২:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে

ঈদের আনন্দ শেষ না হতেই গাইবান্ধার চরাঞ্চলের কৃষকদের মুখে ফুটেছে স্বস্তির হাসি। ঈদের পরদিন সকাল থেকেই দেখা মিলেছে ঝলমলে রোদের। আর এই রোদই যেন স্বস্তি ফিরিয়েছে ভুট্টাচাষিদের জীবনে। ঈদের আনন্দের চেয়েও এখন তাদের কাছে বড় হয়ে উঠেছে মাঠ-উঠানে শুকাতে দেওয়া ভুট্টা ঠিকভাবে ঘরে তুলতে পারা।
শুক্রবার (২৯ মে) সকাল থেকে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সদর উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে, বাড়ির উঠান, রাস্তার ধারে, খোলা মাঠ ও বাঁশের চাটাইজুড়ে শুকাতে দেওয়া হয়েছে ভুট্টা। কৃষকরা সকাল থেকেই ব্যস্ত ভুট্টা উল্টেপাল্টে দিতে, বস্তা খুলে রোদে ছড়িয়ে রাখতে এবং শুকনো ভুট্টা আলাদা করতে।
কয়েকদিনের অনিশ্চিত আবহাওয়া আর মাঝেমধ্যে বৃষ্টির কারণে দুশ্চিন্তায় ছিলেন কৃষকরা। কারণ ভুট্টা ঠিকভাবে শুকাতে না পারলে দাম কমে যায়, অনেক সময় ফসল নষ্টও হয়ে যায়। তাই আজকের রোদকে তারা আশীর্বাদ হিসেবেই দেখছেন।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল মতিন বলেন, আজকের রোদটা আমাদের জন্য অনেক বড় শান্তি। কয়েকদিন ধরেই টেনশনে ছিলাম। ভুট্টা ভিজে গেলে বড় ক্ষতি হইত। এখন মনে হয় ভালোভাবেই ঘরে তুলতে পারমু।
ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া এলাকার কৃষক হাফিজার রহমান বলেন, ঈদের আনন্দ তো একদিনের। কিন্তু এই ভুট্টা দিয়াই পুরো বছর সংসার চলবে। তাই রোদ উঠছে দেখে এখন মনটা ভালো লাগতেছে।
চরাঞ্চলের অনেক পরিবারে দেখা গেছে, নারী-পুরুষ সবাই মিলে ভুট্টা শুকানোর কাজে ব্যস্ত। শিশুরাও ছোট ছোট ঝুড়ি নিয়ে ভুট্টা আনা-নেওয়া করছে। ঈদের নতুন পোশাক গায়ে থাকলেও তাদের সময় কাটছে উঠান আর মাঠেই।
তালুক বেলকা গ্রামের গৃহিণী নুরুন্নাহার বেগম বলেন, গত দুইদিন খুব চিন্তায় ছিলাম। বৃষ্টি আইলে সব ভুট্টা নষ্ট হইয়া যাইত। আজ সকাল থেইকা রোদ থাকায় এখন একটু স্বস্তি লাগতেছে।
কৃষি উদ্যোক্তা জিয়াউর রহমান সরকার রয়েল বলেন, চরাঞ্চলের কৃষকদের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ভুট্টা ঠিকভাবে শুকানো ও সংরক্ষণ করা। কয়েকদিনের বৃষ্টি আর আর্দ্র আবহাওয়ার কারণে অনেক কৃষক দুশ্চিন্তায় ছিলেন। আজ রোদ উঠায় তারা স্বস্তি পেয়েছেন, কারণ ভেজা ভুট্টা বাজারে নিলে দাম কমে যায় এবং সংরক্ষণেও সমস্যা হয়।
স্থানীয় কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গাইবান্ধার চরাঞ্চলে ভুট্টা এখন অন্যতম অর্থকরী ফসল। অনেক কৃষক ঋণ নিয়ে চাষ করেছেন। তাই ফসল ঘরে তুলতে না পারলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে তাদের।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মিজানুর রহমান বলেন, এবার চরাঞ্চলে ভুট্টার ভালো ফলন হয়েছে। এখন কৃষকরা ফসল শুকানো ও সংরক্ষণ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। টানা রোদ থাকলে কৃষকরা উপকৃত হবেন।
ঈদের পরদিন তাই গাইবান্ধার চরাঞ্চলে উৎসবের আমেজের চেয়ে বেশি দেখা গেছে কাজের ব্যস্ততা। কারণ এই কৃষকদের কাছে রোদের প্রতিটি ঘণ্টা মানে ফসল বাঁচানো, ঋণ শোধের আশা আর পরিবারের ভবিষ্যৎ রক্ষা করার লড়াই।




















