ঢাকা ০৬:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
২৮ বিশিষ্টজনের বিবৃতি: স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত ঠিক করে দিতে পারে না কে মুক্তিযোদ্ধা, কে নন যশোর বোর্ডে ৫৫ ভাগ শিক্ষার্থী পাস করেননি, কমেছে জিপিএ-৫ ‘বাঁধনহারা’র পাতায় মুক্তির খোঁজ: নজরুলের উপন্যাস নিয়ে পাঠচক্র এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ–৫, তাঁর নাটকের ভিউ সবচেয়ে বেশি… বেতন বৃদ্ধির দাবিতে তিন ঘণ্টা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ, পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ খেলাপি ঋণের জালে আটকা ব্যাংকিং খাতের ভবিষ্যৎ কী এইচএসসিতে ২২ বছরের মধ্যে পাসের হার কম, কিন্তু কেন এই বিপর্যয় কুমিল্লা বোর্ডে এবার ১৫ প্রতিষ্ঠানের কেউ পাস করেননি খাবার না দেওয়ায় কাঠের চলা দিয়ে পিটুনি, বাবুর্চির পর আহত নারীর মৃত্যু ইতালিজুড়ে ধর্মঘট, রাস্তায় হাজারো মানুষ

তপ্ত রোদে দাকোপের নারী শ্রমিকদের ঘাম ঝরানো জীবন

দাকোপ (খুলনা) প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৩:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬ ৫২ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

খুলনার দাকোপের দিগন্তজোড়া মাঠ এখন তরমুজের সবুজ সমারোহে ভরা। তবে এই রসালো ফলের মিষ্টতার আড়ালে লুকিয়ে আছে শত শত শ্রমজীবী নারীর নোনা ঘাম আর বঞ্চনার গল্প। তীব্র দাবদাহে যখন জনজীবন ওষ্ঠাগত, তখন মাত্র ৭০ টাকা ঘণ্টা চুক্তিতে হাড়ভাঙ্গা খাটুনি খাটছেন এ অঞ্চলের হতদরিদ্র পরিবারের নারীরা।

সরেজমিনে উপজেলার পানখালী, তিলডাঙ্গা ও বাজুয়া ইউনিয়নের তরমুজ ক্ষেতগুলো ঘুরে দেখা গেছে, কাঠফাটা রোদে পুরুষ শ্রমিকদের পাশাপাশি সমানতালে কাজ করছেন নারীরা। কেউ চারাগাছ পরিচর্যা করছেন, কেউ বা সেচের পাইপ নিয়ে তরমুজ খেতে সেচ দিচ্ছে। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিশ্রম করেও দিনশেষে তাদের আয় হয় মাত্র ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা।

কাজে ব্যস্ত থাকা বারুইখালি এলাকার সবিতা মন্ডল বলেন, সংসারে অভাবের শেষ নেই। পেটের তাগিদে এই তপ্ত রোদে তরমুজ খেতে কামলা দিচ্ছি। এক ঘণ্টা খাটলে পাই সত্তর টাকা। এই টাকায় এখন এক কেজি ভালো চালও কেনা যায় না। তাও কাজ না করলে উপোস থাকতে হবে।

বাজুয়া এলাকার আরেক নারী শ্রমিক আমেনা বেগম জানান, সকাল ৬টায় মাঠে আসি, যাই সন্ধ্যায়। এই রোদে এক ফোঁটা ছায়া নেই। পানির তৃষ্ণায় বুক ফেটে যায়। শুধু দুপুরে দুটো খাবার বিশ্রাম পাই এর পর আবার কাজে নেমে পড়ি। আগে ৫০ টাকা ৬০ টাকায় ও কাজ করেছি এখন প্রতি ঘণ্টায় ৭০ টাকা পায় ঠিকই, কিন্তু শরীর যে ভেঙে পড়ে সেটার ওষুধ কেনার পয়সা জোটে না।

উপকূলীয় এই অঞ্চলে খুব বেশি বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকায় নারীরা এই সস্তা শ্রমে বাধ্য হচ্ছেন। কৃষিভিত্তিক এই অর্থনীতিতে নারীদের অবদান অনস্বীকার্য হলেও তারা ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত। তপ্ত রোদ আর গরম বাতাসের মাঝে দাঁড়িয়ে দাকোপের এই অদম্য মায়েরা স্বপ্ন দেখেন একমুঠো ভাতের, যা প্রতিদিন অর্জিত হয় শরীরের শেষ বিন্দু ঘাম আর মাত্র ৭০ টাকার বিনিময়ে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

তপ্ত রোদে দাকোপের নারী শ্রমিকদের ঘাম ঝরানো জীবন

আপডেট সময় : ০৪:৩৩:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

খুলনার দাকোপের দিগন্তজোড়া মাঠ এখন তরমুজের সবুজ সমারোহে ভরা। তবে এই রসালো ফলের মিষ্টতার আড়ালে লুকিয়ে আছে শত শত শ্রমজীবী নারীর নোনা ঘাম আর বঞ্চনার গল্প। তীব্র দাবদাহে যখন জনজীবন ওষ্ঠাগত, তখন মাত্র ৭০ টাকা ঘণ্টা চুক্তিতে হাড়ভাঙ্গা খাটুনি খাটছেন এ অঞ্চলের হতদরিদ্র পরিবারের নারীরা।

সরেজমিনে উপজেলার পানখালী, তিলডাঙ্গা ও বাজুয়া ইউনিয়নের তরমুজ ক্ষেতগুলো ঘুরে দেখা গেছে, কাঠফাটা রোদে পুরুষ শ্রমিকদের পাশাপাশি সমানতালে কাজ করছেন নারীরা। কেউ চারাগাছ পরিচর্যা করছেন, কেউ বা সেচের পাইপ নিয়ে তরমুজ খেতে সেচ দিচ্ছে। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিশ্রম করেও দিনশেষে তাদের আয় হয় মাত্র ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা।

কাজে ব্যস্ত থাকা বারুইখালি এলাকার সবিতা মন্ডল বলেন, সংসারে অভাবের শেষ নেই। পেটের তাগিদে এই তপ্ত রোদে তরমুজ খেতে কামলা দিচ্ছি। এক ঘণ্টা খাটলে পাই সত্তর টাকা। এই টাকায় এখন এক কেজি ভালো চালও কেনা যায় না। তাও কাজ না করলে উপোস থাকতে হবে।

বাজুয়া এলাকার আরেক নারী শ্রমিক আমেনা বেগম জানান, সকাল ৬টায় মাঠে আসি, যাই সন্ধ্যায়। এই রোদে এক ফোঁটা ছায়া নেই। পানির তৃষ্ণায় বুক ফেটে যায়। শুধু দুপুরে দুটো খাবার বিশ্রাম পাই এর পর আবার কাজে নেমে পড়ি। আগে ৫০ টাকা ৬০ টাকায় ও কাজ করেছি এখন প্রতি ঘণ্টায় ৭০ টাকা পায় ঠিকই, কিন্তু শরীর যে ভেঙে পড়ে সেটার ওষুধ কেনার পয়সা জোটে না।

উপকূলীয় এই অঞ্চলে খুব বেশি বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকায় নারীরা এই সস্তা শ্রমে বাধ্য হচ্ছেন। কৃষিভিত্তিক এই অর্থনীতিতে নারীদের অবদান অনস্বীকার্য হলেও তারা ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত। তপ্ত রোদ আর গরম বাতাসের মাঝে দাঁড়িয়ে দাকোপের এই অদম্য মায়েরা স্বপ্ন দেখেন একমুঠো ভাতের, যা প্রতিদিন অর্জিত হয় শরীরের শেষ বিন্দু ঘাম আর মাত্র ৭০ টাকার বিনিময়ে।