খাবার না দেওয়ায় কাঠের চলা দিয়ে পিটুনি, বাবুর্চির পর আহত নারীর মৃত্যু
- আপডেট সময় : ০৪:৪২:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার একটি মাদ্রাসায় খাবার পরিবেশনের সময় পিটুনিতে বাবুর্চির মৃত্যুর পর তাঁর সহকারী আহত সোনাবান বিবিও (৬৫) মারা গেছেন। আজ শনিবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
এর আগে গতকাল শুক্রবার দুপুরে গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া আঞ্জুমান-ই-কাদেরিয়া মাদ্রাসাতু সাবি-ইল-হাসান দাখিল মাদ্রাসায় ওই ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য, খাবার চাওয়ার পর না দেওয়ায় এক ব্যক্তি রান্নার কাজে ব্যবহৃত কাঠের চলা দিয়ে বাবুর্চি ফজের আলী সরদার (৭০) ও তাঁর সহকারী সোনাবান বিবির মাথা ও শরীরে আঘাত করেন। এতে ফজের আলীর মৃত্যু হয়।
.
গুরুতর আহত সোনাবান বিবিকে প্রথমে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে রাতে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন।
নিহত ফজের আলী রাজবাড়ী সদর উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের মল্লিকপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং সোনাবান বিবি গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের বাহিরচর দৌলতদিয়া এলাকার সিদ্দিক কাজীপাড়ার প্রয়াত সাইমুদ্দিন শেখের স্ত্রী।
.
এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। প্রথমে পরিচয় জানা না গেলেও পরে পরিচয় শনাক্ত হয়। পুলিশ জানায়, ওই ব্যক্তির নাম মো. সেন্টু (৪২)। তিনি নাটোর সদর উপজেলার তেবাড়িয়া ইউনিয়নের একডালা দক্ষিণপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। প্রায় ১০ বছর আগে বাড়ি ছেড়ে ভবঘুরে জীবনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে রান্না শেষে মাদ্রাসার ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থীদের খাবার পরিবেশন করছিলেন ফজের আলী ও তাঁর সহকারী সোনাবান বিবি। এ সময় সেন্টু সেখানে গিয়ে খাবার চান। কিন্তু খাবার না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি পাশে থাকা রান্নার কাঠের চলা দিয়ে ফজের আলীর মাথা ও ঘাড়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে সোনাবান বিবিকেও মারধর করা হয়। এ সময় তাঁদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে ওই ব্যক্তিকে আটক করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে হেফাজতে নেয়।
.
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি সফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, নিহত ফজের আলীর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আটক সেন্টুর স্বজনেরা জানিয়েছেন, প্রায় ১০ বছর আগে তিনি বাড়ি ছেড়ে চলে যান এবং তাঁর মানসিক সমস্যা আছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, খাবার না পেয়ে তিনি বাবুর্চি ও তাঁর সহকারীর ওপর হামলা করেন। সেন্টু গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসক ছাড়পত্র দিলে তাঁকে আদালতে পাঠানো হবে।






















