পাচারচক্রের বিরুদ্ধে বন বিভাগের অভিযান: মুখপোড়া হনুমান ও ১২ কচ্ছপ উদ্ধার, আটক ১
- আপডেট সময় : ০৯:৫৮:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বনাঞ্চল থেকে বন্যপ্রাণী সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচারের সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের সদস্যকে আটক করেছে বন বিভাগ। এ সময় তার হেফাজত থেকে বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির একটি মুখপোড়া হনুমান ও ১২টি কচ্ছপ উদ্ধার করা হয়।
সোমবার (৮ জুন) বিকেল ৫টার দিকে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, চট্টগ্রামের চুনতি রেঞ্জ কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান শেখের নেতৃত্বে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ভাঙ্গারমুখ বাজার এলাকা থেকে এসব বন্যপ্রাণী উদ্ধার এবং এক পাচারকারীকে আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তি মো. হাদিস রহমান (৪০)। তিনি ঢাকা জেলার মিরপুর-১১ এলাকার বাসিন্দা এবং সুলতান মিয়ার ছেলে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন বনাঞ্চল থেকে গোপনে বন্যপ্রাণী সংগ্রহ করে ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাচার করে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, পাচারের উদ্দেশ্যে চকরিয়ার একটি বাড়িতে বেশ কিছু বন্যপ্রাণী মজুদ রাখা হয়েছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে বন বিভাগের দল।
অভিযানকালে ওই বাড়ি থেকে একটি বিলুপ্তপ্রায় মুখপোড়া হনুমান এবং ১২টি কচ্ছপ উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে হাদিস রহমানকে আটক করা হয়।
চুনতি বন্যপ্রাণী ও অভয়ারণ্য রেঞ্জ কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান শেখ আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, উদ্ধার হওয়া প্রাণীগুলো অবৈধভাবে সংগ্রহ ও পাচারের প্রস্তুতি চলছিল। এ ঘটনায় আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, চট্টগ্রামের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবু নাছের মোহাম্মদ ইয়াসিন নেওয়াজ বলেন, বাংলাদেশে বন্যপ্রাণী শিকার, হত্যা, আটক, ক্রয়-বিক্রয় ও পাচার আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। অপরাধের ধরন ও সংশ্লিষ্ট প্রাণীর গুরুত্ব অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১২ বছর কারাদণ্ড এবং ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, একটি শক্তিশালী ও সংঘবদ্ধ পাচারচক্র দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বনাঞ্চল থেকে বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণী সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাচার করে আসছে। এ ধরনের অপরাধ দমনে বন বিভাগের অভিযান অব্যাহত থাকবে।



















