ঢাকা ১২:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে তিন বিষয় রূপপুরে পৌঁছাল ইউরেনিয়ামের আরেকটি চালান রাজশাহী মেডিকেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি, চিকিৎসাসেবা ব্যাহত এক দিনে ১৩ উইকেট হারিয়ে ইনিংস হারের শঙ্কায় অস্ট্রেলিয়া শৈশবের দুর্গাপূজা: আনন্দের এক অন্য জগৎ ইউপি সদস্যের পকেটে প্রতিবন্ধী ভাতার ১২ সিম কার্ড, টাকা তুলতে এসে ধরা ভেপিং ছেড়েছেন সেলেনা, বড় ক্ষতি হয়েছে জানালেন নিজেই শারদীয় দুর্গোৎসবের আবহে বাংলা সাহিত্য তৃণমূলের এমপি হয়ে যে জমিতে উচ্ছেদের নোটিশ, বিজেপির জোটে যোগ দিয়ে সেই জমিই উপহার পাচ্ছেন ইউসুফ পাঠান ইপিজেডে বিনিয়োগে শীর্ষে চীনা কোম্পানি, শীর্ষ পাঁচে কোন কোন দেশ

এক কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে: রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৫০:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশে ৮০ লাখ থেকে ১ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে জানিয়ে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে দারিদ্র্য পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং মানুষের জীবনে স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আজ বুধবার রাজবাড়ী পৌরসভা মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। জেলা প্রশাসন আয়োজিত এ সভায় রাজবাড়ী জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুস সালাম মিয়া উপস্থিত ছিলেন।

.

সভায় রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ‘আমরা ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছি। উত্তরাধিকার সূত্রে একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছি। দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির কারণে বিশেষ করে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে। হিসাব অনুযায়ী, ৮০ লাখ থেকে ১ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে।’

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা জানান, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে অনেক মানুষকে তাঁদের সঞ্চয় ভাঙতে হচ্ছে, আবার অনেককে ঋণ করতে হচ্ছে। বিনিয়োগ পরিস্থিতি, বিশেষ করে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগের দুরবস্থার কারণে কর্মসংস্থানের সংকট বেড়েছে। যুব বেকারত্ব ও শিক্ষিত বেকারত্বও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে অর্থনীতির ওপর নতুন চাপ তৈরি হয়েছে।

.

দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) নিয়ে বিভিন্ন সংস্থা বিভিন্ন তথ্য দিচ্ছে উল্লেখ করে অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেন, এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল ধারণা ও বিকৃত তথ্য প্রচার করা হচ্ছে।

অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর গুরুত্ব দেন রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেন, দেশের জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় সৌরবিদ্যুতের মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ ছিল। কিন্তু আগের সরকার এ ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। তাঁর অভিযোগ, স্বজনপ্রীতি ও পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক ব্যবস্থার কারণে অর্থনীতির বিভিন্ন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ব্যাংক খাতের সংস্কারে ৪০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে। এ ছাড়া গ্যাস অনুসন্ধান ও টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও অতীতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বিনিয়োগ বাড়াতে হলে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।

.

সরকার কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করছে জানিয়ে এ উপদেষ্টা বলেন, শিক্ষিত তরুণদের বেকারত্ব কমাতে দক্ষতা উন্নয়নের বিকল্প নেই। এ জন্য শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম শিক্ষা খাতে জিডিপির ২ শতাংশ ব্যয় করা হবে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে তা ধাপে ধাপে ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর আরও বলেন, ‘দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার পাশাপাশি সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশও প্রয়োজন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো ২০ শয্যার ব্যবস্থা করা হয়েছিল এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সময়ে তা ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। এখন উপজেলা পর্যায়ে ১৫১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

এক কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে: রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর

আপডেট সময় : ০৮:৫০:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

দেশে ৮০ লাখ থেকে ১ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে জানিয়ে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে দারিদ্র্য পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং মানুষের জীবনে স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আজ বুধবার রাজবাড়ী পৌরসভা মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। জেলা প্রশাসন আয়োজিত এ সভায় রাজবাড়ী জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুস সালাম মিয়া উপস্থিত ছিলেন।

.

সভায় রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ‘আমরা ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছি। উত্তরাধিকার সূত্রে একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছি। দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির কারণে বিশেষ করে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে। হিসাব অনুযায়ী, ৮০ লাখ থেকে ১ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে।’

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা জানান, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে অনেক মানুষকে তাঁদের সঞ্চয় ভাঙতে হচ্ছে, আবার অনেককে ঋণ করতে হচ্ছে। বিনিয়োগ পরিস্থিতি, বিশেষ করে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগের দুরবস্থার কারণে কর্মসংস্থানের সংকট বেড়েছে। যুব বেকারত্ব ও শিক্ষিত বেকারত্বও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে অর্থনীতির ওপর নতুন চাপ তৈরি হয়েছে।

.

দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) নিয়ে বিভিন্ন সংস্থা বিভিন্ন তথ্য দিচ্ছে উল্লেখ করে অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেন, এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল ধারণা ও বিকৃত তথ্য প্রচার করা হচ্ছে।

অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর গুরুত্ব দেন রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেন, দেশের জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় সৌরবিদ্যুতের মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ ছিল। কিন্তু আগের সরকার এ ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। তাঁর অভিযোগ, স্বজনপ্রীতি ও পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক ব্যবস্থার কারণে অর্থনীতির বিভিন্ন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ব্যাংক খাতের সংস্কারে ৪০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে। এ ছাড়া গ্যাস অনুসন্ধান ও টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও অতীতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বিনিয়োগ বাড়াতে হলে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।

.

সরকার কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করছে জানিয়ে এ উপদেষ্টা বলেন, শিক্ষিত তরুণদের বেকারত্ব কমাতে দক্ষতা উন্নয়নের বিকল্প নেই। এ জন্য শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম শিক্ষা খাতে জিডিপির ২ শতাংশ ব্যয় করা হবে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে তা ধাপে ধাপে ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর আরও বলেন, ‘দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার পাশাপাশি সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশও প্রয়োজন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো ২০ শয্যার ব্যবস্থা করা হয়েছিল এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সময়ে তা ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। এখন উপজেলা পর্যায়ে ১৫১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’