ঢাকা ১১:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শৈশবের দুর্গাপূজা: আনন্দের এক অন্য জগৎ ইউপি সদস্যের পকেটে প্রতিবন্ধী ভাতার ১২ সিম কার্ড, টাকা তুলতে এসে ধরা ভেপিং ছেড়েছেন সেলেনা, বড় ক্ষতি হয়েছে জানালেন নিজেই শারদীয় দুর্গোৎসবের আবহে বাংলা সাহিত্য তৃণমূলের এমপি হয়ে যে জমিতে উচ্ছেদের নোটিশ, বিজেপির জোটে যোগ দিয়ে সেই জমিই উপহার পাচ্ছেন ইউসুফ পাঠান ইপিজেডে বিনিয়োগে শীর্ষে চীনা কোম্পানি, শীর্ষ পাঁচে কোন কোন দেশ পুজোর সাজে সাবেকি, না আধুনিক: মিমের আনারকলি, মন্দিরার বেনারসি, দীঘির কাঞ্চিপুরম, জয়ার সুতির শাড়ি কার লুক নজর কাড়ল সবচেয়ে বেশি ঢাকা থেকে ১৩৪ ফ্লাইট বাতিল-স্থগিতে ভোগান্তিতে ২০ হাজার ২৫৪ যাত্রী এক কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে: রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর কক্সবাজারের হিমছড়ি সৈকতে গোসলে নেমে তিন পর্যটকের মৃত্যু, নিখোঁজ ২

শারদীয় দুর্গোৎসবের আবহে বাংলা সাহিত্য

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১০:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শারদীয় দুর্গোৎসবের আবহে বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগীয় কাব্য ‘চণ্ডীমঙ্গল’ নিয়ে ভার্চ্যুয়ালি পাঠচক্রের আসর করেছে ড্যাফোডিল বন্ধুসভা। ১৯ অক্টোবর রাত ১০টায় অনুষ্ঠিত এই পাঠচক্রে কবিকঙ্কণ মুকুন্দরাম চক্রবর্তী রচিত কাব্যটির কালকেতু ও ফুল্লরার উপাখ্যান, সাহিত্যিক তাৎপর্য এবং মধ্যযুগের সমাজ ও লোকজীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

শুরুতে কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনিটি বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। কাহিনি অনুযায়ী, দেবী চণ্ডীর লীলায় কালকেতু বনে শিকার করতে গিয়ে কোনো পশুপাখির দেখা পান না। দিন শেষে বাড়ি ফেরার পথে তিনি একটি স্বর্ণগোধিকা দেখতে পান এবং সেটিকে ধরে বাড়িতে নিয়ে আসেন। পরবর্তী সময়ে দেবী চণ্ডী নিজের স্বরূপ প্রকাশ করে কালকেতু ও ফুল্লরাকে আশীর্বাদ করেন। দেবীর আশীর্বাদে কালকেতুর জীবনে ভাগ্য পরিবর্তনের সূচনা হয়। পরে তিনি বন পরিষ্কার করে গুজরাট নগরী প্রতিষ্ঠা এবং রাজা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

.

কাব্যের পরবর্তী অংশে কালকেতুর রাজ্য প্রতিষ্ঠা, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের আশ্রয় লাভ এবং কলিঙ্গরাজের সঙ্গে সংঘাতের ঘটনাও আলোচনায় উঠে আসে। এসব ঘটনার মধ্য দিয়ে মানুষের জীবনসংগ্রাম, বিশ্বাস, সামাজিক অবস্থান এবং প্রতিকূলতা অতিক্রম করে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়গুলো ফুটে ওঠে। একই সঙ্গে কাব্যটির মাধ্যমে মধ্যযুগের মানুষের জীবনযাপন ও তৎকালীন সামাজিক বাস্তবতা সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি হয়। কাব্যটির মধ্যযুগীয় ভাষা ও ছন্দ কিছুটা কঠিন হওয়া সত্ত্বেও বন্ধুরা আগ্রহ নিয়ে পাঠচক্রে অংশ নেন। আলোচনার মাধ্যমে কাব্যের বিভিন্ন অংশের অর্থ ও কাহিনি বোঝার চেষ্টা করেন এবং নিজেদের ভাবনা ও মতামত তুলে ধরেন।

সভাপতি মুসাভভির সাকির বলেন, ‘আগে কাব্যিক ছন্দে সাহিত্যচর্চার প্রচলন ছিল। ছন্দের মাধ্যমে কাহিনি সহজে মনে রাখা যেত এবং সুর করে পাঠের মাধ্যমে তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হতো। এভাবেই সাহিত্য মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ত। “চণ্ডীমঙ্গল”-এর মতো কাব্য বাংলা সাহিত্যের সেই সমৃদ্ধ ঐতিহ্যকে ধারণ করে আছে।’

পাঠচক্রে আরও যুক্ত ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক সালমান ফারসী, দপ্তর সম্পাদক আবিদুর রহমান, প্রচার সম্পাদক কাফিল হোসেন, স্বাস্থ্য ও ক্রীড়া সম্পাদক মুহাম্মদ নাঈম, কার্যনির্বাহী সদস্য সুমাইয়া তৃষা, আবদুর রহিম ও তামিম সরকারসহ অন্য বন্ধুরা। সঞ্চালনা করেন পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক জেবা আনিকা।

পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক, ড্যাফোডিল বন্ধুসভা

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

শারদীয় দুর্গোৎসবের আবহে বাংলা সাহিত্য

আপডেট সময় : ১০:১০:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

শারদীয় দুর্গোৎসবের আবহে বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগীয় কাব্য ‘চণ্ডীমঙ্গল’ নিয়ে ভার্চ্যুয়ালি পাঠচক্রের আসর করেছে ড্যাফোডিল বন্ধুসভা। ১৯ অক্টোবর রাত ১০টায় অনুষ্ঠিত এই পাঠচক্রে কবিকঙ্কণ মুকুন্দরাম চক্রবর্তী রচিত কাব্যটির কালকেতু ও ফুল্লরার উপাখ্যান, সাহিত্যিক তাৎপর্য এবং মধ্যযুগের সমাজ ও লোকজীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

শুরুতে কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনিটি বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। কাহিনি অনুযায়ী, দেবী চণ্ডীর লীলায় কালকেতু বনে শিকার করতে গিয়ে কোনো পশুপাখির দেখা পান না। দিন শেষে বাড়ি ফেরার পথে তিনি একটি স্বর্ণগোধিকা দেখতে পান এবং সেটিকে ধরে বাড়িতে নিয়ে আসেন। পরবর্তী সময়ে দেবী চণ্ডী নিজের স্বরূপ প্রকাশ করে কালকেতু ও ফুল্লরাকে আশীর্বাদ করেন। দেবীর আশীর্বাদে কালকেতুর জীবনে ভাগ্য পরিবর্তনের সূচনা হয়। পরে তিনি বন পরিষ্কার করে গুজরাট নগরী প্রতিষ্ঠা এবং রাজা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

.

কাব্যের পরবর্তী অংশে কালকেতুর রাজ্য প্রতিষ্ঠা, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের আশ্রয় লাভ এবং কলিঙ্গরাজের সঙ্গে সংঘাতের ঘটনাও আলোচনায় উঠে আসে। এসব ঘটনার মধ্য দিয়ে মানুষের জীবনসংগ্রাম, বিশ্বাস, সামাজিক অবস্থান এবং প্রতিকূলতা অতিক্রম করে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়গুলো ফুটে ওঠে। একই সঙ্গে কাব্যটির মাধ্যমে মধ্যযুগের মানুষের জীবনযাপন ও তৎকালীন সামাজিক বাস্তবতা সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি হয়। কাব্যটির মধ্যযুগীয় ভাষা ও ছন্দ কিছুটা কঠিন হওয়া সত্ত্বেও বন্ধুরা আগ্রহ নিয়ে পাঠচক্রে অংশ নেন। আলোচনার মাধ্যমে কাব্যের বিভিন্ন অংশের অর্থ ও কাহিনি বোঝার চেষ্টা করেন এবং নিজেদের ভাবনা ও মতামত তুলে ধরেন।

সভাপতি মুসাভভির সাকির বলেন, ‘আগে কাব্যিক ছন্দে সাহিত্যচর্চার প্রচলন ছিল। ছন্দের মাধ্যমে কাহিনি সহজে মনে রাখা যেত এবং সুর করে পাঠের মাধ্যমে তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হতো। এভাবেই সাহিত্য মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ত। “চণ্ডীমঙ্গল”-এর মতো কাব্য বাংলা সাহিত্যের সেই সমৃদ্ধ ঐতিহ্যকে ধারণ করে আছে।’

পাঠচক্রে আরও যুক্ত ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক সালমান ফারসী, দপ্তর সম্পাদক আবিদুর রহমান, প্রচার সম্পাদক কাফিল হোসেন, স্বাস্থ্য ও ক্রীড়া সম্পাদক মুহাম্মদ নাঈম, কার্যনির্বাহী সদস্য সুমাইয়া তৃষা, আবদুর রহিম ও তামিম সরকারসহ অন্য বন্ধুরা। সঞ্চালনা করেন পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক জেবা আনিকা।

পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক, ড্যাফোডিল বন্ধুসভা