ঢাকা ০৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কলকাতায় পূজামণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে নারী, শিশুসহ নিহত ১৮, আহত ৩৭ অঞ্জলি, আরতি আর দেবীদর্শনে মুখর রমনা কালীমন্দির শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি দিপকের, এখনো আটক সৌরভ ও রাঙ্কা ব্যাটসম্যানদেরই জেতানো উচিত ছিল, বলছেন তাসকিন কাদসিয়ার কাছে হেরে এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগ শুরু ফর্টিসের ৬ বছরের শিশুকে যৌন হয়রানি: ৮ বছর পর আসামির ১০ বছরের কারাদণ্ড স্বাধীনতার কথা বলে দিল্লির কৃতদাসত্ব করেছে আওয়ামী লীগ সরকার: রুহুল কবির রিজভী শাহজালাল বিমানবন্দরে লাগেজের গতিবিধি ক্যামেরায় দেখতে পারবেন যাত্রীরা, বসল ১৮টি মনিটর ও ৩২ ক্যামেরা ফ্রান্সজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, গ্রেপ্তার ২৭২ এবার জমবে কি পার্থ–নীহার রসায়ন

১২২ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ৮৪তম, ক্ষুধা কমানোয় অগ্রগতি ধীর

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:২৪:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ক্ষুধা দূর করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতি আগের চেয়ে ধীরগতির হয়েছে। ২০২৬ সালের গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেস্কের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের ১২২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৪তম। এ সূচকে বাংলাদেশের স্কোর ১৯ দশমিক ২। এ অনুযায়ী দেশে ক্ষুধার মাত্রা এখনো ‘মাঝারি’ পর্যায়ে রয়েছে।

গত বুধবার জার্মানির বার্লিনে এক অনুষ্ঠানে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনের তুলনামূলক তথ্য বলছে, ২০১৮ সালে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ২০, যা এবার কমে ১৯ দশমিক ২ হয়েছে। অর্থাৎ আট বছরে স্কোর কমেছে শূন্য দশমিক ৮ পয়েন্ট বা ৪ শতাংশ। অথচ এর আগে ২০০০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে স্কোর ৩৪ দশমিক ৬ থেকে কমে ২০ হয়েছিল। ওই সময়ে স্কোর কমেছিল ৪২ শতাংশের বেশি। এই দুই সময়ের ব্যবধানই স্পষ্ট করে যে দেশে ক্ষুধা কমানোর গতি আগের তুলনায় ধীর হয়েছে।

এদিকে শিশুদের পুষ্টি পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে উচ্চতার অনুপাতে ওজন কম হওয়ার (কৃশকায় বা তীব্র অপুষ্টি) হার উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। ২০১৮ সালে এ হার ছিল ৮ দশমিক ৪ শতাংশ, যা সর্বশেষ মূল্যায়নে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ৯ শতাংশে। ২০০০ সালের পর এটা সর্বোচ্চ।

অন্যদিকে একই বয়সী শিশুদের মধ্যে বয়সের তুলনায় কম উচ্চতার (খর্বকায়) হার কিছুটা কমেছে। ২০০০ সালে এই হার ছিল ৫৪ দশমিক ৯ শতাংশ, যা ২০১৮ সালে কমে হয় ২৯ দশমিক ৮ শতাংশ। আর সর্বশেষ মূল্যায়নে তা আরও কমে ২৪ শতাংশে নেমেছে। দীর্ঘ মেয়াদে অগ্রগতি হলেও এখনো দেশের প্রায় প্রতি চার শিশুর একজনের বয়স অনুযায়ী স্বাভাবিক উচ্চতা বাড়ছে না।

সার্বিক জনসংখ্যার মধ্যে অপুষ্টির হার অবশ্য কিছুটা কমেছে। ২০১৮ সালে এ হার ছিল ১২ দশমিক ১ শতাংশ, যা সর্বশেষ মূল্যায়নে নেমে এসেছে ৮ দশমিক ২ শতাংশে। একই সময়ে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যুহার ৩ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে কমে ৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে শ্রীলঙ্কা ও নেপাল। সূচকে ১০ দশমিক ২ স্কোর নিয়ে শ্রীলঙ্কার অবস্থান ৫৩তম এবং ১৪ দশমিক ৫ স্কোর নিয়ে নেপাল রয়েছে ৭২তম স্থানে। তবে বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে ভারত, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। দেশ তিনটির অবস্থান যথাক্রমে ১০০তম (স্কোর ২৪.১), ১০৬তম (স্কোর ২৫.৫) ও ১০৮তম (স্কোর ২৮.৬)।

দক্ষিণ এশিয়ার সামগ্রিক গড় স্কোর ২৩ দশমিক ৫, যা এই অঞ্চলে ‘গুরুতর’ মাত্রার ক্ষুধা নির্দেশ করছে। তবে বৈশ্বিক গড় স্কোর ১৮ দশমিক ১; সে হিসাবে বিশ্বে সার্বিক ক্ষুধার মাত্রা ‘মাঝারি’।

মূলত চারটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকের স্কোর নির্ধারণ করা হয়। এগুলো হলো, জনসংখ্যার মধ্যে অপুষ্টির হার, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের বয়সের তুলনায় কম উচ্চতা, উচ্চতার তুলনায় কম ওজন এবং পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যুর হার। সূচকে স্কোর যত কম হয়, ক্ষুধার তীব্রতাও তত কম ধরা হয়। সাধারণত স্কোর ১০ থেকে ১৯ দশমিক ৯-এর মধ্যে থাকলে ক্ষুধাকে ‘মাঝারি’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

১২২ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ৮৪তম, ক্ষুধা কমানোয় অগ্রগতি ধীর

আপডেট সময় : ০২:২৪:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

ক্ষুধা দূর করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতি আগের চেয়ে ধীরগতির হয়েছে। ২০২৬ সালের গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেস্কের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের ১২২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৪তম। এ সূচকে বাংলাদেশের স্কোর ১৯ দশমিক ২। এ অনুযায়ী দেশে ক্ষুধার মাত্রা এখনো ‘মাঝারি’ পর্যায়ে রয়েছে।

গত বুধবার জার্মানির বার্লিনে এক অনুষ্ঠানে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনের তুলনামূলক তথ্য বলছে, ২০১৮ সালে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ২০, যা এবার কমে ১৯ দশমিক ২ হয়েছে। অর্থাৎ আট বছরে স্কোর কমেছে শূন্য দশমিক ৮ পয়েন্ট বা ৪ শতাংশ। অথচ এর আগে ২০০০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে স্কোর ৩৪ দশমিক ৬ থেকে কমে ২০ হয়েছিল। ওই সময়ে স্কোর কমেছিল ৪২ শতাংশের বেশি। এই দুই সময়ের ব্যবধানই স্পষ্ট করে যে দেশে ক্ষুধা কমানোর গতি আগের তুলনায় ধীর হয়েছে।

এদিকে শিশুদের পুষ্টি পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে উচ্চতার অনুপাতে ওজন কম হওয়ার (কৃশকায় বা তীব্র অপুষ্টি) হার উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। ২০১৮ সালে এ হার ছিল ৮ দশমিক ৪ শতাংশ, যা সর্বশেষ মূল্যায়নে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ৯ শতাংশে। ২০০০ সালের পর এটা সর্বোচ্চ।

অন্যদিকে একই বয়সী শিশুদের মধ্যে বয়সের তুলনায় কম উচ্চতার (খর্বকায়) হার কিছুটা কমেছে। ২০০০ সালে এই হার ছিল ৫৪ দশমিক ৯ শতাংশ, যা ২০১৮ সালে কমে হয় ২৯ দশমিক ৮ শতাংশ। আর সর্বশেষ মূল্যায়নে তা আরও কমে ২৪ শতাংশে নেমেছে। দীর্ঘ মেয়াদে অগ্রগতি হলেও এখনো দেশের প্রায় প্রতি চার শিশুর একজনের বয়স অনুযায়ী স্বাভাবিক উচ্চতা বাড়ছে না।

সার্বিক জনসংখ্যার মধ্যে অপুষ্টির হার অবশ্য কিছুটা কমেছে। ২০১৮ সালে এ হার ছিল ১২ দশমিক ১ শতাংশ, যা সর্বশেষ মূল্যায়নে নেমে এসেছে ৮ দশমিক ২ শতাংশে। একই সময়ে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যুহার ৩ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে কমে ৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে শ্রীলঙ্কা ও নেপাল। সূচকে ১০ দশমিক ২ স্কোর নিয়ে শ্রীলঙ্কার অবস্থান ৫৩তম এবং ১৪ দশমিক ৫ স্কোর নিয়ে নেপাল রয়েছে ৭২তম স্থানে। তবে বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে ভারত, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। দেশ তিনটির অবস্থান যথাক্রমে ১০০তম (স্কোর ২৪.১), ১০৬তম (স্কোর ২৫.৫) ও ১০৮তম (স্কোর ২৮.৬)।

দক্ষিণ এশিয়ার সামগ্রিক গড় স্কোর ২৩ দশমিক ৫, যা এই অঞ্চলে ‘গুরুতর’ মাত্রার ক্ষুধা নির্দেশ করছে। তবে বৈশ্বিক গড় স্কোর ১৮ দশমিক ১; সে হিসাবে বিশ্বে সার্বিক ক্ষুধার মাত্রা ‘মাঝারি’।

মূলত চারটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকের স্কোর নির্ধারণ করা হয়। এগুলো হলো, জনসংখ্যার মধ্যে অপুষ্টির হার, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের বয়সের তুলনায় কম উচ্চতা, উচ্চতার তুলনায় কম ওজন এবং পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যুর হার। সূচকে স্কোর যত কম হয়, ক্ষুধার তীব্রতাও তত কম ধরা হয়। সাধারণত স্কোর ১০ থেকে ১৯ দশমিক ৯-এর মধ্যে থাকলে ক্ষুধাকে ‘মাঝারি’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।