আত্মসাৎ করা অর্থ বিনিয়োগের অভিযোগ, সম্পদ বাজেয়াপ্ত নিয়ে আপিল দ্রুত নিষ্পত্তি চায় ইউএই
- আপডেট সময় : ০৩:০০:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

আত্মসাৎ করা অর্থ বাংলাদেশে কয়েকটি কোম্পানিতে বিনিয়োগের অভিযোগ ঘিরে সংশ্লিষ্ট শেয়ার বাজেয়াপ্ত সম্পর্কিত আপিল দ্রুত শুনানি ও নিষ্পত্তিতে সহযোগিতা চেয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলের সঙ্গে সাক্ষাতে এই অনুরোধ জানান বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউএইর রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলী আবদুল্লাহ আলহামুদি। বুধবার সকালে রাষ্ট্রদূত সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে অবস্থিত অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে এসে এ সাক্ষাৎ করেন।
ব্যবসায়ী খাতের মাসাদ সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রাস আল-খাইমাহ ইনভেস্টমেন্ট অথরিটির (আরএআইএ) সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)। ২০০৫ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত তিনি ওই পদে ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্বে থাকার সময় তিনি সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেন এবং অর্থের একটি অংশ বাংলাদেশে বিনিয়োগ করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলেছে, বৈঠকে পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। রাষ্ট্রদূত আপিল দ্রুত শুনানি ও নিষ্পত্তিতে সহযোগিতার অনুরোধ জানান। অ্যাটর্নি জেনারেলও ইউএইর কাছে পারস্পরিক আইনি সহায়তা চান। বাংলাদেশে আরও বেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি আরও কর্মী নেওয়ার বিষয়টি উদার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার কথাও বলেন অ্যাটর্নি জেনারেল।
অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস বলেছেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে আমি রাষ্ট্রদূতকে বলেছি যে সরকারের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইউএইকে এবং আরএআইএকে সহযোগিতার জন্য আমাদের যে উদ্যোগ, তা অব্যাহত থাকবে এবং আরও গতিশীল হবে।’
নথিপত্র থেকে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১৪ মে ইউএইর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পারস্পরিক আইনি সহায়তা চুক্তির (এমএলএটি) আওতায় বাংলাদেশ সরকারের কাছে সহায়তা চায়। তাদের অনুরোধ, বাংলাদেশে মাসাদের বিনিয়োগ করা শেয়ারগুলো বাজেয়াপ্ত করে ইউএইর মনোনীত প্রতিষ্ঠানের কাছে যেন হস্তান্তর করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে আদালতের অনুমতি চেয়ে আবেদন করে। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২১ সালের ৪ জানুয়ারি ঢাকার আদালত শেয়ারগুলো বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেন। এই আদেশের বিরুদ্ধে ২০২১ সালে হাইকোর্টে আপিল করেন জন্মসূত্রে লেবানিজ মাসাদ। হাইকোর্ট ২০২১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি মাসাদের আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন এবং নথি তলব করেন।
মাসাদের করা আপিলের ওপর শুনানি হয় এবং হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ গত ৯ আগস্ট সেটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দেন বলে জানান সাক্ষাতে উপস্থিত ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ওসমান চৌধুরী। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, নিম্ন আদালতের আদেশ অনুযায়ী বাংলাদেশের তিনটি কোম্পানিতে খাতের মাসাদের শেয়ার বাজেয়াপ্ত ও হস্তান্তরের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে ওই আপিল দ্রুত শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে অ্যাটর্নি জেনারেলকে অনুরোধ জানিয়েছেন ইউএই রাষ্ট্রদূত।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, ‘রাষ্ট্রটির খাতের মাসাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ হচ্ছে, যখন রাস আল-খাইমাহ ইনভেস্টমেন্ট অথরিটির সিইও ছিলেন, তখন অপব্যবহার করে এক বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ বিদেশে পাচার করেছেন। তিনি বাংলাদেশের তিনটি কোম্পানিতে বিনিয়োগ করেছেন। বাংলাদেশে স্টার সিরামিকস লিমিটেড, স্টার পরসেলিন লিমিটেড ও রাকিন ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড—এই তিনটি কোম্পানির মধ্যে রাকিন ডেভেলপমেন্টে খাতের মাসাদের নিজের নামে শেয়ার রয়েছে। বাকি দুটি তাঁর গড়া বিদেশি কোম্পানি, যে দুটি বাংলাদেশের দুটি কোম্পানিতে বিনিয়োগ করেছে। অর্থাৎ তিনটি কোম্পানিতে তাঁর বিনিয়োগ তথা শেয়ার রয়েছে। পাচার হয়ে যে অর্থ আমাদের দেশে আনা হয়েছে বলে দেশটির অভিযোগ, সে–সম্পর্কিত সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে সহযোগিতা এবং দ্রুত আপিল শুনানি ও নিষ্পত্তিতে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।’
আদালতে দাখিল করা নথি অনুযায়ী, খাতের মাসাদের স্টার সিরামিকসে ৬ কোটি ৫৩ লাখ ৩৩ হাজার শেয়ার, স্টার পরসেলিনে ২ কোটি ৩ লাখ ১২ হাজার ৫০০ শেয়ার এবং রাকিন ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডে ৪ কোটি ৪ লাখ ৭১ হাজার ৬৮০ শেয়ার রয়েছে।

















