ব্যাংকে বন্ধক থাকা জমি তৃতীয় পক্ষকে দখল বুঝিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওসির বিরুদ্ধে
- আপডেট সময় : ০১:৫৩:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে অগ্রণী ব্যাংকের কাছে বন্ধক রাখা ৩০ শতক জমি তৃতীয় পক্ষকে দখল বুঝিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ্’র বিরুদ্ধে। পুলিশের এমন ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জমির মালিক, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়রা।
উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের বৈদ্যনাথ গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।
ব্যাংকের নথি অনুযায়ী, সোনারায় ইউনিয়নের বৈদ্যনাথ মৌজার জেএল নম্বর-১৯ এর অন্তর্ভুক্ত ওই জমির সিএস খতিয়ান নম্বর-৬৫৭, এসএ খতিয়ান নম্বর-৬৯৫, নামজারি/খারিজ খতিয়ান নম্বর-১৮৩৫ এবং বিআরএস/ডিপি খতিয়ান নম্বর-৬৮৫। সাবেক সিএস ও এসএ দাগ নম্বর-৩২৫২ ও ৩২৫৬ এবং হাল বিআরএস/ডিপি দাগ নম্বর-৩৯৮১। জমির পরিমাণ ৩০ শতক।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, জমিটির মালিক সোনারায় ইউনিয়নের ফতেখাঁ গ্রামের মৃত তোজাম্মেল হকের ছেলে সৈয়দ বদিরুল আহসান। তিনি ২০১৮ সালে জমিটি কেনেন এবং ২০২৩ সালে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি, সুন্দরগঞ্জ শাখায় জমিটি বন্ধক রেখে ২০ লাখ টাকা ঋণ নেন। ঋণের টাকা এখনো পরিশোধ না হওয়ায় জমিটি ব্যাংকের কাছে বন্ধক রয়েছে। জমিতে ব্যাংকের বন্ধকসংক্রান্ত সাইনবোর্ডও দেখা গেছে।
এর মধ্যে একই ইউনিয়নের বৈদ্যনাথ গ্রামের মো. খোরশেদ আলমের ছেলে ও ইউপি সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম জমিটির মালিকানা দাবি করেন। তার দাবি, জমির ১৫ শতক সৈয়দ বদিরুল আহসান তার কাছে বিক্রি করেছেন। এ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে তিনি থানায় অভিযোগ দেন।
জমির মালিক সৈয়দ বদিরুল আহসান বলেন, ‘২০১৮ সালে আমি জমিটি ক্রয় করি। পরে ২০২৩ সালে অগ্রণী ব্যাংক সুন্দরগঞ্জ শাখায় জমিটি বন্ধক রেখে ২০ লাখ টাকা ঋণ নিই। এখনো ওই ঋণের টাকা পরিশোধ করা হয়নি। এ অবস্থায় মো. রফিকুল ইসলাম জমিটি নিজের বলে দাবি করে থানায় অভিযোগ করেন। বিষয়টি নিয়ে ওসি সাহেবের সঙ্গে কথা হলে আমি তাকে স্পষ্টভাবে জানাই, জমিটি অগ্রণী ব্যাংকের কাছে বন্ধক রয়েছে। এরপরও গত মাসের ২৫ তারিখে ওসি সাহেব ওই জমিতে গিয়ে মো. রফিকুল ইসলামকে জমিটির দখল বুঝিয়ে দেন। আমার জানা মতে, ব্যাংকের কাছে বন্ধক থাকা জমির দখল এভাবে তৃতীয় পক্ষকে বুঝিয়ে দেওয়া ঠিক হয়নি।’
অন্যদিকে জমির মালিকানা দাবি করা ইউপি সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘১৫ শতাংশ জমি আমার কবলাকৃত। সৈয়দ বদিরুল আহসান আমার কাছে বিক্রি করেছেন। কিন্তু তিনি ওই জমি আমাকে বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন না। পরে তিনি ওই জমিতে খুঁটি গাড়েন। তখন আমি থানায় অভিযোগ দিই। পরে থানার ওসি সাহেব সরেজমিনে কাগজপত্র দেখে আমার জমি আমাকে বুঝিয়ে দেন। এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।’
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি শনিবার দুপুর ১২টার দিকে এসে জমি মাপি দিছে।’
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘থানার ওসি জমিতে নিজে এসে রফিকুল মেম্বারকে জমি মেপে দিছে।’
অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি সুন্দরগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘জমিটি ব্যাংকে বন্ধক রাখা আছে। ওই জমিতে ব্যাংকের সাইনবোর্ডও লাগানো আছে। কাগজপত্র যাচাই-বাছাই না করে পুলিশ একটি পক্ষকে জমির দখল দিয়েছেন। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।’
স্থানীয়দের প্রশ্ন, ব্যাংকের কাছে বন্ধক থাকা জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধের ক্ষেত্রে পুলিশ কীভাবে সরেজমিনে গিয়ে জমি মাপজোক বা দখল বুঝিয়ে দিতে পারে। এ ঘটনায় কোনো পক্ষকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ্ বলেন, ‘কাউকে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা আমার নেই। তাছাড়া ওই জমিতে আমি যাইওনি। বর্তমানে ওই জমির বিষয়টি অমীমাংসিত আছে। যেহেতু আমি চলে যাচ্ছি, সেহেতু পরবর্তীতে বামনডাঙ্গা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের আইসি বিষয়টি দেখবেন।’




















