ঢাকা ০৫:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বেতন বৃদ্ধির দাবিতে তিন ঘণ্টা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ, পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ খেলাপি ঋণের জালে আটকা ব্যাংকিং খাতের ভবিষ্যৎ কী এইচএসসিতে ২২ বছরের মধ্যে পাসের হার কম, কিন্তু কেন এই বিপর্যয় কুমিল্লা বোর্ডে এবার ১৫ প্রতিষ্ঠানের কেউ পাস করেননি খাবার না দেওয়ায় কাঠের চলা দিয়ে পিটুনি, বাবুর্চির পর আহত নারীর মৃত্যু ইতালিজুড়ে ধর্মঘট, রাস্তায় হাজারো মানুষ ভিটেমাটি বেদখল, গানও বেহাত—তবু অমলিন ‘ভ্রমর কইও গিয়া’ গানের রাধারমণ সাংবাদিক আলিফ হত্যা: প্রধান সন্দেহভাজন তাজুলের দুই সহযোগী গ্রেপ্তার সারা দেশের কোমর ভাঙা, তাই দেশ মেরামত করতে হবে ধানমন্ডিতে ছুরিকাঘাতে নারী নিহত, ছেলে আটক

২৪ ঘণ্টায় হামে ৭ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত এক হাজারের বেশি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১০:১৪:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬ ৫৯ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে এক হাজার ২৮২ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে ১৮০ জনের ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় হাম রোগ নিশ্চিত হয়েছে। একই সময়ে হাম সন্দেহে পাঁচ জন এবং নিশ্চিত হামে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে হাম রোগে সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮,৫৩৪ জন। এই সময়ের মধ্যে মোট ১,০৯৯ জনের হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫,৯৪০ জন, আর সুস্থ হয়ে ছাড় পেয়েছেন ৬,০১৬ জন।

মৃত্যুর পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ পাঁচ জন রোগী ঢাকায় হাম সন্দেহে প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নিশ্চিত হামে মারা গেছেন দুই জন। ১৫ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত নিশ্চিত হামে মারা গেছেন মোট ২০ জন, আর সন্দেহজনক হাম রোগে ১১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানাচ্ছে, হামের ঝুঁকি কমাতে জনসাধারণকে সতর্ক থাকা জরুরি। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে সযত্নে নজর রাখা প্রয়োজন। জ্বর, কাশি, সর্দি বা চাকা ওঠার মতো উপসর্গ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে নিকটস্থ হাসপাতাল বা কমিউনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নেওয়া আবশ্যক। আক্রান্তদের পর্যাপ্ত তরল খাবার সরবরাহ করা এবং শরীরকে ছায়া ও শীতল স্থানে রাখা জরুরি।

শিশুদের জন্য বয়স অনুযায়ী টিকা গ্রহণ করানোও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্য অধিদফতর সবার কাছে অনুরোধ করেছে, যে কোনো উপসর্গ দেখা দিলে নিজ দায়িত্বে ঘরে চিকিৎসা করার চেষ্টা না করে অবিলম্বে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে পৌঁছাতে হবে। এটি একমাত্র পথ হামের সংক্রমণ রোধ এবং মৃত্যু কমানোর জন্য।

বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম রোগীদের জন্য আইসোলেশন ইউনিট চালু করা হয়েছে। এসব ইউনিটে সংক্রমিত রোগীদের আলাদা রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এ রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে, তাই জনসাধারণকে সচেতন ও সতর্ক থাকতে হবে।

সমাজের সচেতনতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাই একমাত্র কার্যকর উপায় হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য। হাসপাতালগুলোতে রোগী বাড়তে থাকা এবং মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, রোগী সনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

২৪ ঘণ্টায় হামে ৭ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত এক হাজারের বেশি

আপডেট সময় : ১০:১৪:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে এক হাজার ২৮২ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে ১৮০ জনের ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় হাম রোগ নিশ্চিত হয়েছে। একই সময়ে হাম সন্দেহে পাঁচ জন এবং নিশ্চিত হামে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে হাম রোগে সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮,৫৩৪ জন। এই সময়ের মধ্যে মোট ১,০৯৯ জনের হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫,৯৪০ জন, আর সুস্থ হয়ে ছাড় পেয়েছেন ৬,০১৬ জন।

মৃত্যুর পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ পাঁচ জন রোগী ঢাকায় হাম সন্দেহে প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নিশ্চিত হামে মারা গেছেন দুই জন। ১৫ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত নিশ্চিত হামে মারা গেছেন মোট ২০ জন, আর সন্দেহজনক হাম রোগে ১১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানাচ্ছে, হামের ঝুঁকি কমাতে জনসাধারণকে সতর্ক থাকা জরুরি। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে সযত্নে নজর রাখা প্রয়োজন। জ্বর, কাশি, সর্দি বা চাকা ওঠার মতো উপসর্গ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে নিকটস্থ হাসপাতাল বা কমিউনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নেওয়া আবশ্যক। আক্রান্তদের পর্যাপ্ত তরল খাবার সরবরাহ করা এবং শরীরকে ছায়া ও শীতল স্থানে রাখা জরুরি।

শিশুদের জন্য বয়স অনুযায়ী টিকা গ্রহণ করানোও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্য অধিদফতর সবার কাছে অনুরোধ করেছে, যে কোনো উপসর্গ দেখা দিলে নিজ দায়িত্বে ঘরে চিকিৎসা করার চেষ্টা না করে অবিলম্বে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে পৌঁছাতে হবে। এটি একমাত্র পথ হামের সংক্রমণ রোধ এবং মৃত্যু কমানোর জন্য।

বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম রোগীদের জন্য আইসোলেশন ইউনিট চালু করা হয়েছে। এসব ইউনিটে সংক্রমিত রোগীদের আলাদা রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এ রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে, তাই জনসাধারণকে সচেতন ও সতর্ক থাকতে হবে।

সমাজের সচেতনতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাই একমাত্র কার্যকর উপায় হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য। হাসপাতালগুলোতে রোগী বাড়তে থাকা এবং মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, রোগী সনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে।