নালিতাবাড়ীতে ভূমি কর্মকর্তার ভুয়া প্রতিবেদন দাখিলের অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৫:১৫:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬ ৫৭ বার পড়া হয়েছে

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় নাম খারিজ বাতিলের আবেদনের প্রেক্ষিতে তলবি তদন্ত প্রতিবেদন দিতে গিয়ে পক্ষপাতমূলক ও ভুয়া তথ্য উপস্থাপনের অভিযোগ উঠেছে এক ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত কর্মকর্তা সেলিনা পারভিন নয়াবিল ও রামচন্দ্রকুড়া মন্ডলিয়াপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মরত। তার বিরুদ্ধে অনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমেও প্রভাবিত প্রতিবেদন দেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে, উপজেলার নাকুগাঁও মৌজার নাকুগাঁও স্থলবন্দর এলাকায় ৫১৬ নম্বর দাগে ডেপুটি কমিশনারের নামে রেকর্ডভুক্ত প্রায় ৩ একর ১৩ শতক জমি রয়েছে, যা বাড়ি শ্রেণিভুক্ত। অতীতে ভূমিহীনদের বসতি থাকলেও গত প্রায় ২৫ বছর ধরে জমিটি বিভিন্ন ব্যক্তির দখলে থেকে স্থলবন্দরের ডিপো হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
এর মধ্যে ভূমিহীন হাবেজ উদ্দিনের দখলে থাকা প্রায় ২০ শতক জমিতে আর্থিক চুক্তির ভিত্তিতে তৌহিদুল আলমের মালিকানাধীন ‘নিলয় এন্টারপ্রাইজ’ সেমিপাকা ও টিনশেড স্থাপনা নির্মাণ করে কয়লা ও পাথর আমদানির ডিপো পরিচালনা করছে।
সম্প্রতি ওই জমির মালিকানা দাবি করে স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা জামাল উদ্দিন ১৯৯০ সালের একটি কবুলিয়তনামা বন্দোবস্ত দলিল উপস্থাপন করেন, যা ভুয়া বলে অভিযোগ উঠেছে। জমি দখলের উদ্দেশ্যে তিনি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের দ্বারস্থ হলে উপ-সহকারী কর্মকর্তা সেলিনা পারভিন পতাকা টানিয়ে দখল বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে বর্তমান দখলদারদের বাধার মুখে সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।
পরবর্তীতে দলিলটির সত্যতা যাচাই করতে গেলে শেরপুর মহাফেজখানায় এর কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে জানান তল্লাসীকারক রেজুয়ান হোসেন। এ অবস্থায় ভোগদখলকারী হাবেজ উদ্দিন জামাল উদ্দিনের নামে হওয়া নাম খারিজ বাতিলের আবেদন করেন।
আবেদনের প্রেক্ষিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আনিসুর রহমান তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। কিন্তু সেলিনা পারভিন তার প্রতিবেদনে জমিটি ডেপুটি কমিশনারের নামে রেকর্ডভুক্ত হলেও তা বাদী বা বিবাদী কারও দখলে নেই বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি পূর্বে জমিটি জামাল উদ্দিনের দখলে ছিল বলেও প্রতিবেদনে দাবি করেন, যা স্থানীয়দের বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এ বিষয়ে দখলদার হাবেজ উদ্দিন, নিলয় এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপকসহ আশপাশের ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা জানান, স্বাধীনতার পর থেকেই জমিটি হাবেজ উদ্দিনের দখলে রয়েছে। পরবর্তীতে স্থলবন্দর চালু হলে তিনি বসতভিটা সরিয়ে জমিটি ডিপো হিসেবে ব্যবহারের জন্য ভাড়া দেন। তারা অভিযোগ করেন, মোটা অংকের আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য গোপন করে ভুয়া প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।
নাকুগাঁও স্থলবন্দর আমদানী-রফতানীকারক সমিতির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল বলেন, ‘জমিটি দীর্ঘদিন ধরে হাবেজ উদ্দিনের দখলে। এটি কখনোই জামাল উদ্দিনের দখলে ছিল না।’
অভিযুক্ত জামাল উদ্দিন তার দাবি সঠিক বলে উল্লেখ করে বলেন, ‘জমিটি বর্তমানে নিলয় এন্টারপ্রাইজের দখলে রয়েছে। সরকারিভাবে বন্দোবস্ত পেলে নেব, না হলে নেব না।’
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ভূমি কর্মকর্তা সেলিনা পারভিন প্রথমে দাবি করেন, জমিটি কারও দখলে নেই। পরে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখে বলতে হবে।’ একপর্যায়ে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) আনিসুর রহমান বলেন, বিষয়টি নিয়ে মিসকেস করা হয়েছে এবং এখনো শুনানি হয়নি। শুনানির সময় বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরুতে নিজ কার্যালয়ে বসে আর্থিক লেনদেনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সেলিনা পারভিনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। যদিও তিনি দাবি করেন, ওই অর্থ ঘুষ ছিল না।
স্থানীয়দের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম বন্ধ হয়।


























