ঢাকা ০৫:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বেতন বৃদ্ধির দাবিতে তিন ঘণ্টা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ, পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ খেলাপি ঋণের জালে আটকা ব্যাংকিং খাতের ভবিষ্যৎ কী এইচএসসিতে ২২ বছরের মধ্যে পাসের হার কম, কিন্তু কেন এই বিপর্যয় কুমিল্লা বোর্ডে এবার ১৫ প্রতিষ্ঠানের কেউ পাস করেননি খাবার না দেওয়ায় কাঠের চলা দিয়ে পিটুনি, বাবুর্চির পর আহত নারীর মৃত্যু ইতালিজুড়ে ধর্মঘট, রাস্তায় হাজারো মানুষ ভিটেমাটি বেদখল, গানও বেহাত—তবু অমলিন ‘ভ্রমর কইও গিয়া’ গানের রাধারমণ সাংবাদিক আলিফ হত্যা: প্রধান সন্দেহভাজন তাজুলের দুই সহযোগী গ্রেপ্তার সারা দেশের কোমর ভাঙা, তাই দেশ মেরামত করতে হবে ধানমন্ডিতে ছুরিকাঘাতে নারী নিহত, ছেলে আটক

গোপালগঞ্জে সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টে ব্যাপক দুর্নীতি, ভোগান্তিতে ৯০০ পরিবার

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৮:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬ ৫৩ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাটগাতী ইউনিয়নের গওহরডাঙ্গা সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় করা পানির বিল সরকারি ব্যাংক হিসাবে জমা না দিয়ে বড় একটি অংশ আত্মসাৎ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে সরকার যেমন রাজস্ব হারাচ্ছে, তেমনি ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত সংযোগ দেওয়ায় তীব্র পানি সংকটে পড়েছেন প্রায় ৯০০ পরিবার।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত প্ল্যান্টটির কাজ শেষ হয় ২০২৪ সালের জুনে। পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে পানি সরবরাহ শুরু হয়। নিয়ম অনুযায়ী, চালুর পর প্রথম দুই বছর প্রকল্পটির পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব থাকবে নির্মাণকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ওপর। এ সময়ে গ্রাহকদের বিল একটি নির্ধারিত যৌথ ব্যাংক হিসাবে জমা হওয়ার কথা, যা পরবর্তীতে ইউনিয়ন পরিষদের কাছে হস্তান্তরের পর রক্ষণাবেক্ষণ কাজে ব্যবহৃত হওয়ার কথা রয়েছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্ল্যান্টের আওতাভুক্ত প্রায় ৯০০ গ্রাহকের মধ্যে মাত্র ৮০ থেকে ১০০ জন ব্যাংকে বিল জমা দেন। বাকি অন্তত ৮০০ গ্রাহকের কাছ থেকে নগদে বিল আদায় করা হচ্ছে। গত ১৪ মাসে প্রায় ৩০ লাখ টাকা আদায়ের কথা থাকলেও ব্যাংকে জমা হয়েছে মাত্র ৬ লাখ টাকার মতো। বাকি প্রায় ২৪ লাখ টাকার কোনো হিসাব মিলছে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশে এই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ রঞ্জু খান বলেন, প্রকল্পের শুরু থেকেই নানা অনিয়ম চলছে। গ্রাহকের প্রকৃত সংখ্যা গোপন রাখা হচ্ছে এবং বিলের টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে সরাসরি হাতে নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পানি সরবরাহেও রয়েছে অব্যবস্থাপনা। অনেক সময় ঘোলাটে পানি দেওয়া হচ্ছে এবং পানিতে প্রয়োজনীয় পরিমাণে ওষুধ ব্যবহার করা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

নিয়মিত বিল পরিশোধ করেও কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গ্রাহকরা। তারা জানান, আগে প্রতিদিন পানি সরবরাহ করা হলেও এখন একদিন পরপর পানি দেওয়া হচ্ছে। কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি না থাকায় দৈনন্দিন কাজে বিঘ্ন ঘটছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে পানি সংরক্ষণের জন্য অতিরিক্ত খরচ করছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একদিন পরপর পানি সরবরাহ করায় বিদ্যুৎ খরচ কমছে, যার আর্থিক সুবিধাও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ভাগ হয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে পাটগাতী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সুভাষ বিশ্বাস বলেন, চুক্তি অনুযায়ী পরিচালনার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের। পানি সরবরাহ কমে যাওয়ার বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।

অভিযুক্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী প্রদীপ মজুমদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সব টাকা নিয়ম অনুযায়ী জমা হচ্ছে এবং অনেক গ্রাহক বিল পরিশোধ না করায় জমার পরিমাণ কম। তবে ২৪ লাখ টাকার গরমিল নিয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

প্ল্যান্ট চালুর পর থেকেই অনিয়মের অভিযোগ থাকায় এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে বিষয়টি খতিয়ে দেখার এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

গোপালগঞ্জে সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টে ব্যাপক দুর্নীতি, ভোগান্তিতে ৯০০ পরিবার

আপডেট সময় : ০৪:৩৮:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাটগাতী ইউনিয়নের গওহরডাঙ্গা সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় করা পানির বিল সরকারি ব্যাংক হিসাবে জমা না দিয়ে বড় একটি অংশ আত্মসাৎ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে সরকার যেমন রাজস্ব হারাচ্ছে, তেমনি ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত সংযোগ দেওয়ায় তীব্র পানি সংকটে পড়েছেন প্রায় ৯০০ পরিবার।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত প্ল্যান্টটির কাজ শেষ হয় ২০২৪ সালের জুনে। পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে পানি সরবরাহ শুরু হয়। নিয়ম অনুযায়ী, চালুর পর প্রথম দুই বছর প্রকল্পটির পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব থাকবে নির্মাণকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ওপর। এ সময়ে গ্রাহকদের বিল একটি নির্ধারিত যৌথ ব্যাংক হিসাবে জমা হওয়ার কথা, যা পরবর্তীতে ইউনিয়ন পরিষদের কাছে হস্তান্তরের পর রক্ষণাবেক্ষণ কাজে ব্যবহৃত হওয়ার কথা রয়েছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্ল্যান্টের আওতাভুক্ত প্রায় ৯০০ গ্রাহকের মধ্যে মাত্র ৮০ থেকে ১০০ জন ব্যাংকে বিল জমা দেন। বাকি অন্তত ৮০০ গ্রাহকের কাছ থেকে নগদে বিল আদায় করা হচ্ছে। গত ১৪ মাসে প্রায় ৩০ লাখ টাকা আদায়ের কথা থাকলেও ব্যাংকে জমা হয়েছে মাত্র ৬ লাখ টাকার মতো। বাকি প্রায় ২৪ লাখ টাকার কোনো হিসাব মিলছে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশে এই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ রঞ্জু খান বলেন, প্রকল্পের শুরু থেকেই নানা অনিয়ম চলছে। গ্রাহকের প্রকৃত সংখ্যা গোপন রাখা হচ্ছে এবং বিলের টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে সরাসরি হাতে নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পানি সরবরাহেও রয়েছে অব্যবস্থাপনা। অনেক সময় ঘোলাটে পানি দেওয়া হচ্ছে এবং পানিতে প্রয়োজনীয় পরিমাণে ওষুধ ব্যবহার করা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

নিয়মিত বিল পরিশোধ করেও কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গ্রাহকরা। তারা জানান, আগে প্রতিদিন পানি সরবরাহ করা হলেও এখন একদিন পরপর পানি দেওয়া হচ্ছে। কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি না থাকায় দৈনন্দিন কাজে বিঘ্ন ঘটছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে পানি সংরক্ষণের জন্য অতিরিক্ত খরচ করছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একদিন পরপর পানি সরবরাহ করায় বিদ্যুৎ খরচ কমছে, যার আর্থিক সুবিধাও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ভাগ হয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে পাটগাতী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সুভাষ বিশ্বাস বলেন, চুক্তি অনুযায়ী পরিচালনার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের। পানি সরবরাহ কমে যাওয়ার বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।

অভিযুক্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী প্রদীপ মজুমদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সব টাকা নিয়ম অনুযায়ী জমা হচ্ছে এবং অনেক গ্রাহক বিল পরিশোধ না করায় জমার পরিমাণ কম। তবে ২৪ লাখ টাকার গরমিল নিয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

প্ল্যান্ট চালুর পর থেকেই অনিয়মের অভিযোগ থাকায় এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে বিষয়টি খতিয়ে দেখার এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।