এআইয়ের সঙ্গে করা চ্যাট ডিলিট করলেও সব ডিলিট হয় না
- আপডেট সময় : ০৭:৫২:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

স্মার্টফোনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার এখন দৈনন্দিন ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। কখনো কাজের প্রয়োজনে, কখনো নিছক কৌতূহল মেটাতে আমরা এআইয়ের সঙ্গে নানা কথা বলি। চ্যাট শেষে অনেক সময় সেই কথোপকথন ডিলিটও করে দিই। আমরা ভাবি, ডিলিট করেছি মানে সবকিছু চিরতরে মুছে গেল। কিন্তু জর্জিয়া টেক ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক বলছেন অন্য কথা। তাঁদের নতুন গবেষণা প্রমাণ করেছে, ফোন থেকে এআই চ্যাট মুছে ফেললেও তার সব চিহ্ন মুছে যায় না।
গবেষকেরা এমন একটি টুল তৈরি করেছেন, যা অ্যান্ড্রয়েড ফোন থেকে মুছে ফেলা এআইয়ের সঙ্গে কথোপকথন ফিরিয়ে আনতে পারে। টুলটির নাম দেওয়া হয়েছে ওরিজা (ORISA)। মজার ব্যাপার হলো, এটি শুধু হারানো তথ্যই খুঁজে বের করে না, সেই তথ্যের টুকরোগুলো জোড়া লাগিয়ে আগের এআই সেশনটি পুরোপুরি সচলও করে দিতে পারে।
.
এই গবেষণার বিষয়টি বুঝতে হলে আগে লোকাল এআই এবং ক্লাউড এআইয়ের পার্থক্য বুঝতে হবে। আমরা সাধারণত চ্যাটজিপিটি বা জেমিনির মতো যেসব এআই ব্যবহার করি, সেগুলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে বড় কোনো সার্ভারে যুক্ত থাকে। এগুলো হলো ক্লাউড এআই। অন্যদিকে, কিছু এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট আছে যেগুলো ইন্টারনেটের সাহায্য ছাড়াই সরাসরি ফোনের প্রসেসরে চলে। এদের বলা হয় লোকাল এআই।
.৩৫০ বছরের গাণিতিক ধাঁধা মাত্র ১১ দিনে সমাধান করল এআই.
গবেষকেরা এমন একটি টুল তৈরি করেছেন, যা অ্যান্ড্রয়েড ফোন থেকে মুছে ফেলা এআইয়ের সঙ্গে কথোপকথন ফিরিয়ে আনতে পারে। টুলটির নাম দেওয়া হয়েছে ওরিজা।
.
অনেকেই মনে করেন, লোকাল এআই ব্যবহার করা বেশি নিরাপদ। কারণ, এতে ব্যক্তিগত কথোপকথন ইন্টারনেটের মাধ্যমে অন্য কোনো সার্ভারে যায় না। কিন্তু গবেষকেরা দেখিয়েছেন, এই লোকাল এআই যখন ফোনে চলে, তখন এর তথ্যগুলো ফোনের র্যামে জমা হতে থাকে। ব্যবহারকারী চ্যাট ডিলিট করে দিলেও র্যামের কোনো এক কোনায় সেই তথ্যের টুকরোগুলো থেকে যায়। ওরিজা ঠিক এই জায়গাতেই কাজ করে। এটি ফোনের মেমোরি তন্নতন্ন করে খুঁজে মুছে ফেলা চ্যাটের টুকরোগুলো খুঁজে বের করে।
বিষয়টি পরীক্ষা করার জন্য গবেষকেরা একটি অভিনব পদ্ধতি বেছে নিয়েছেন। তাঁরা চ্যাটারইউআই নামে একটি অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ব্যবহার করে ‘প্রজেক্ট নোট কিপার’ নামে একটি কাল্পনিক এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট তৈরি করেন।
.
এরপর সেই এআইকে একটি কাল্পনিক প্রজেক্টের ১০০টি তথ্য দেওয়া হয়। তথ্য দেওয়ার পর পুরো চ্যাট হিস্ট্রি ডিলিট করে দেন গবেষকেরা।
এরপরই শুরু হয় ওরিজার কাজ। ডিলিট করা চ্যাট থেকে তথ্য উদ্ধার করে টুলটি নতুন করে একটি সেশন চালু করে। গবেষকেরা যখন ওই উদ্ধার করা এআইয়ের কাছে আগের প্রজেক্টের তথ্য জানতে চান, তখন সেটি ২৬টি তথ্য নিখুঁতভাবে ফেরত দেয়।
.নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করে সিকিউরিটি সিস্টেম হ্যাকের চেষ্টা ১২০০ এআই এজেন্টের.
গবেষকেরা দেখিয়েছেন, লোকাল এআই যখন ফোনে চলে, তখন এর তথ্যগুলো ফোনের র্যামে জমা হতে থাকে। ব্যবহারকারী চ্যাট ডিলিট করে দিলেও র্যামের কোনো এক কোনায় সেই তথ্য থেকে যায়।
.
এখানে একটি চমকপ্রদ ব্যাপার আছে। চ্যাট ডিলিট করার আগে মূল এআই সেশনটি একসঙ্গে মাত্র ১৪টি তথ্য মনে রাখতে পারত। কারণ যেকোনো এআইয়ের নির্দিষ্ট পরিমাণ তথ্য একসঙ্গে মনে রাখার একটা সীমা থাকে। কিন্তু ওরিজা যখন মেমোরি থেকে তথ্য উদ্ধার করল, তখন সেটি ২৬টি তথ্য বের করে আনল। এর মানে, চ্যাট চলাকালীন এআই নিজে যে তথ্যগুলো সক্রিয় মেমোরি থেকে বাদ দিয়ে দিয়েছিল, ওরিজা র্যাম ঘেঁটে সেগুলোও বের করে এনেছে।
এই গবেষক দলের প্রধান এবং পিএইচডি শিক্ষার্থী কেন শু বলেন, ‘কেউ একজন এআইয়ের সঙ্গে কী শেয়ার করেছে এবং বিনিময়ে কী সাহায্য পেয়েছে, তা বের করতে এই টুল দারুণ কাজে আসবে।’
.
গবেষকেরা ১০টি আলাদা অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ এবং ৩টি ভিন্ন এআই মডেলের ওপর ওরিজার পরীক্ষা চালিয়েছেন। মোট ৬০টি ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা করে দেখা গেছে, টুলটি প্রতিবারই মেমোরিতে থেকে যাওয়া তথ্য উদ্ধার করতে সফল হয়েছে।
এই গবেষণা একদিকে যেমন ডিজিটাল অপরাধ তদন্তকারীদের জন্য নতুন দুয়ার খুলে দিয়েছে, অন্যদিকে সাধারণ ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলেছে। অপরাধীরা ফোনে এআই ব্যবহার করে কোনো পরিকল্পনা সাজানোর পর তা মুছে ফেললেও তদন্তকারীরা এখন তা উদ্ধার করতে পারবেন। কিন্তু সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত চ্যাটও যে কেউ চাইলেই ফিরিয়ে আনতে পারে, সেই ভয় থেকেই যাচ্ছে।
.এআই বানালো প্রথম কৃত্রিম ভাইরাস.
গবেষক দলের প্রধান এবং পিএইচডি শিক্ষার্থী কেন শু বলেন, ‘কেউ একজন এআইয়ের সঙ্গে কী শেয়ার করেছে এবং বিনিময়ে কী সাহায্য পেয়েছে, তা বের করতে এই টুল দারুণ কাজে আসবে।’
.
তবে এতে স্বস্তির একটি জায়গাও আছে। গবেষকেরা জানিয়েছেন, ফোন থেকে ডিলিট করা তথ্য চিরকাল র্যামে থাকে না। ফোন ব্যবহার করার সময় আমরা যখন অন্য অ্যাপ চালাই বা গেম খেলি, তখন মেমোরির ওই জায়গাগুলো নতুন তথ্য দিয়ে পূর্ণ হতে থাকে। একে বলা হয় ওভাররাইট। অর্থাৎ, ডিলিট করার পর যত বেশি সময় পার হবে এবং ফোনে যত বেশি কাজ করা হবে, হারানো এআই চ্যাট উদ্ধার করা তত কঠিন হয়ে পড়বে।
২০২৬ সালের ‘আইইইই সিম্পোজিয়াম অন সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রাইভেসি’ সম্মেলনে এই গবেষণাপত্রটি উপস্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমেই ডিজিটাল নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার বিতর্কে যুক্ত হলো এক নতুন মাত্রা।
সূত্র: জর্জিয়া টেক ও ফিউচারিটি
.এআই কি এখন গণিত অলিম্পিয়াডের প্রশ্ন সমাধান করতে পারে
























