ঢাকা ১১:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ব্যবসা বেড়েছে, তারপরও লোকসান বাড়ল সিঙ্গারের জুলাই গণ–অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে চালু হলো বিনা মূল্যে হুইলচেয়ার সেবা স্টার্কের ৬ বলে ৪ উইকেট, কেপটাউনে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন অস্ট্রেলিয়ার ব্যালন ডি’অরের মঞ্চে কে এই বাংলাদেশি ফুয়াদ আবদুল–আজিজ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণ জানতে তদন্ত কমিটি ২৮ অক্টোবর দিনভর আওয়ামী লীগ তাণ্ডব চালানোর সুযোগ পেল কীভাবে, প্রশ্ন জামায়াত আমিরের যুক্তির লড়াইয়ে ফাইনালে দুই দল, জয়-পরাজয়ের বাইরে বন্ধুত্বের চর্চা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পৌঁছাল দ্বিতীয় ইউনিটের তৃতীয় চালানের ইউরেনিয়াম ইউসিবিতে বড় বিনিয়োগ আনার পথে আইনি বাধা কাটল, ৩০% শেয়ার ধারণেও ছাড় কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হয়ে কারখানাশ্রমিকের মৃত্যু

হুমকিতে বন্ধ, রাজশাহীতে পুলিশের উপস্থিতিতে খুলল সার ডিলারের দোকান

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:০২:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজশাহীর পবা উপজেলার হরিয়ান বাজারে বিএনপি ও যুবদল নেতার অনুসারীদের হুমকিতে বন্ধ করে দেওয়া সারের দোকান খুলে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য শফিকুল হকের নির্দেশে আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশের উপস্থিতিতে ডিলার সাইদুর রহমান তাঁর দোকান খোলেন। পরে সংসদ সদস্য মুঠোফোনে ডিলারের সঙ্গে কথা বলেন।

এ সময় পবা উপজেলা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী হোসেনসহ দলটির নেতা–কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সার বিক্রি শুরু করা হয়। এর আগে গতকাল বিএনপি ও যুবদল নেতার অনুসারীদের হুমকিতে তিনি দোকান বন্ধ করে দিয়েছিলেন।

সাইদুর রহমান হরিয়ান বাজারের সাইদুর এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী এবং বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) অনুমোদিত ডিলার। পাশাপাশি প্রায় ছয় বছর ধরে হরিয়ান বাজার কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

.

চলতি বছরের ৫ এপ্রিল কৃষকদের কাছে সরবরাহের জন্য নেওয়া ৩০ বস্তা ইউরিয়া সার পথে আটকে দেন হরিয়ান ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি রজব আলী ও যুবদল নেতা আব্দুস সালাম। তখন তাঁদের বিরুদ্ধে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও মারধরের অভিযোগে একটি মামলা করেন সাইদুর রহমান। সেই মামলায় সোমবার দুই নেতাকে কারাগারে পাঠানোর পর তাঁদের অনুসারীদের হুমকিতে দোকান বন্ধ করে দিয়েছিলেন তিনি।

সাইদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, দোকান বন্ধ রাখার হুমকির বিষয়ে তিনি সংসদ সদস্য শফিকুল হকসহ (মিলন) জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানিয়েছিলেন। পরে মঙ্গলবার সকালে পবা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী হোসেন তাঁকে ফোন করে দোকান খুলতে বলেন। এরপর তিনি বাজারে এসে বিএনপির নেতা–কর্মীদের সহযোগিতায় দোকান খোলেন।

.

বিএনপি নেতা আলী হোসেন বলেন, সারের বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। এ নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হওয়ায় আগের দিন নেতাদের মধ্যে আলোচনা হয়। তাঁদের কেউ কেউ ক্ষোভ প্রকাশও করেন। পরে সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শফিকুল হকের নির্দেশে দলের নেতা–কর্মীদের সঙ্গে পরামর্শ করে ডিলারকে দোকান খোলার বিষয়ে সহযোগিতা করা হয়। তিনি বলেন, সার বিক্রির ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। কৃষকেরা যাতে ভোগান্তিতে না পড়েন, সে বিষয়ে ডিলারকে সতর্ক থাকতে হবে।

আজ সকালে হরিয়ান বাজারে গিয়ে সাইদুর রহমানের দোকান প্রথমে বন্ধ দেখা যায়। প্রতিদিন সকাল আটটায় তিনি দোকান খোলেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, রজব আলীর অনুসারীরা ঝামেলা করতে পারেন—এমন আশঙ্কায় সাইদুর রহমান দোকান বন্ধ রেখেছিলেন। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সকাল থেকেই দোকানের পাশে পুলিশ অবস্থান নেয়। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দোকান খোলা হয়।

.

কাটাখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, ডিলারের করা মামলায় দুজনকে সোমবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। ডিলারের দোকানের সামনে ঝামেলা হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ ছিল না। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

হুমকিতে বন্ধ, রাজশাহীতে পুলিশের উপস্থিতিতে খুলল সার ডিলারের দোকান

আপডেট সময় : ০৯:০২:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

রাজশাহীর পবা উপজেলার হরিয়ান বাজারে বিএনপি ও যুবদল নেতার অনুসারীদের হুমকিতে বন্ধ করে দেওয়া সারের দোকান খুলে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য শফিকুল হকের নির্দেশে আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশের উপস্থিতিতে ডিলার সাইদুর রহমান তাঁর দোকান খোলেন। পরে সংসদ সদস্য মুঠোফোনে ডিলারের সঙ্গে কথা বলেন।

এ সময় পবা উপজেলা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী হোসেনসহ দলটির নেতা–কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সার বিক্রি শুরু করা হয়। এর আগে গতকাল বিএনপি ও যুবদল নেতার অনুসারীদের হুমকিতে তিনি দোকান বন্ধ করে দিয়েছিলেন।

সাইদুর রহমান হরিয়ান বাজারের সাইদুর এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী এবং বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) অনুমোদিত ডিলার। পাশাপাশি প্রায় ছয় বছর ধরে হরিয়ান বাজার কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

.

চলতি বছরের ৫ এপ্রিল কৃষকদের কাছে সরবরাহের জন্য নেওয়া ৩০ বস্তা ইউরিয়া সার পথে আটকে দেন হরিয়ান ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি রজব আলী ও যুবদল নেতা আব্দুস সালাম। তখন তাঁদের বিরুদ্ধে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও মারধরের অভিযোগে একটি মামলা করেন সাইদুর রহমান। সেই মামলায় সোমবার দুই নেতাকে কারাগারে পাঠানোর পর তাঁদের অনুসারীদের হুমকিতে দোকান বন্ধ করে দিয়েছিলেন তিনি।

সাইদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, দোকান বন্ধ রাখার হুমকির বিষয়ে তিনি সংসদ সদস্য শফিকুল হকসহ (মিলন) জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানিয়েছিলেন। পরে মঙ্গলবার সকালে পবা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী হোসেন তাঁকে ফোন করে দোকান খুলতে বলেন। এরপর তিনি বাজারে এসে বিএনপির নেতা–কর্মীদের সহযোগিতায় দোকান খোলেন।

.

বিএনপি নেতা আলী হোসেন বলেন, সারের বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। এ নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হওয়ায় আগের দিন নেতাদের মধ্যে আলোচনা হয়। তাঁদের কেউ কেউ ক্ষোভ প্রকাশও করেন। পরে সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শফিকুল হকের নির্দেশে দলের নেতা–কর্মীদের সঙ্গে পরামর্শ করে ডিলারকে দোকান খোলার বিষয়ে সহযোগিতা করা হয়। তিনি বলেন, সার বিক্রির ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। কৃষকেরা যাতে ভোগান্তিতে না পড়েন, সে বিষয়ে ডিলারকে সতর্ক থাকতে হবে।

আজ সকালে হরিয়ান বাজারে গিয়ে সাইদুর রহমানের দোকান প্রথমে বন্ধ দেখা যায়। প্রতিদিন সকাল আটটায় তিনি দোকান খোলেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, রজব আলীর অনুসারীরা ঝামেলা করতে পারেন—এমন আশঙ্কায় সাইদুর রহমান দোকান বন্ধ রেখেছিলেন। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সকাল থেকেই দোকানের পাশে পুলিশ অবস্থান নেয়। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দোকান খোলা হয়।

.

কাটাখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, ডিলারের করা মামলায় দুজনকে সোমবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। ডিলারের দোকানের সামনে ঝামেলা হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ ছিল না। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।