ইউসিবিতে বড় বিনিয়োগ আনার পথে আইনি বাধা কাটল, ৩০% শেয়ার ধারণেও ছাড়
- আপডেট সময় : ০৯:৫০:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

ব্যাংকের শেয়ার ধারণ সংক্রান্ত দুটি আইনি বাধ্যবাধকতায় বিশেষ ছাড় পেয়েছে বেসরকারি খাতের ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক বা ইউসিবি। ব্যাংক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক এই ছাড় দিয়েছে। গত সোমবার এ–সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
বিশেষ এই ছাড়ের ফলে ইউসিবি ব্যাংক উদ্যোক্তা–পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণ সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি একক কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে নতুন করে যেকোনো পরিমাণ শেয়ার ইস্যু করার সুযোগ পেয়েছে। ব্যাংকটির বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক এই ছাড় দিয়েছে।
.
বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইউসিবি সূত্রে জানা যায়, ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাভেদ, তাঁর ভাই, স্ত্রীসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের হাতে ব্যাংকটির উল্লেখযোগ্য পরিমাণ শেয়ার ছিল। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ব্যাংকটির নানা অনিয়মের সঙ্গে এই পরিবারের সদস্যদের জড়িত থাকার বিষয়টি সামনে আসে। এ ছাড়া রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশ ছেড়ে চলে যান সাইফুজ্জামান চৌধুরী, তাঁর ভাই, স্ত্রীসহ পরিবারের বেশির ভাগ সদস্য। ওই পটপরিবর্তনের পর ব্যাংকটির পর্ষদ ভেঙে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। পাশাপাশি অনিয়মের কারণে সাইফুজ্জামান চৌধুরীসহ তাঁর পরিবারের সদস্যদের শেয়ার বাজেয়াপ্ত করে। এতে ব্যাংকটির উদ্যোক্তা–পরিচালকদের সম্মিলিত শেয়ার ধারণের পরিমাণ ৩০ শতাংশের নিচে নেমে আসে। তাতে ব্যাংকটির নতুন করে শেয়ার ইস্যুর পথও বন্ধ হয়ে যায়। তাই উদ্যোক্তা–পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণের বাধ্যবাধকতা থেকে ছাড় পেতে বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন করে ইউসিবি। তারই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক এই আইনি বাধ্যবাধকতা থেকে ব্যাংকটি বিশেষ ছাড় দিয়েছে।
.
সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা যায়, আর্থিক সংকটে থাকা ইউসিবি নতুন করে শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে বাধার মুখে পড়েছে ব্যাংকটি। ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৪ক (১) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, কোম্পানি বা কোনো পরিবারের সদস্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে, একক বা অন্যের সঙ্গে মিলে যৌথভাবে বা উভয়ভাবে, কোনো ব্যাংকের শতকরা ১০ (দশ) ভাগের বেশি শেয়ার কিনতে পারবে না। আইনি এই বাধ্যবাধকতার কারণে ইউসিবি দেশি–বিদেশি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে বড় অঙ্কের শেয়ার ইস্যু করতে পারছিল না। আইনি এই বিধিনিষেধ থেকেও এখন ইউসিবিকে বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে। ফলে এখন ব্যাংকটি যেকোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির কাছে ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার বিক্রি করতে পারবে।
.
বিশেষ এই ছাড়ের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউসিবির প্রধান যোগাযোগ কর্মকর্তা জীশান কিংশুক হক বলেন, ইউসিবিকে একটি শক্তিশালী, স্বচ্ছ ও আস্থাশীল ব্যাংক হিসেবে গড়ে তুলতে অন্যতম অগ্রাধিকার হচ্ছে ব্যাংকের মূলধনভিত্তি শক্তিশালী করা। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে বেশ কিছু বাস্তব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন করে ৭৭৫ কোটি টাকার রাইট শেয়ার ইস্যুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৮০০ কোটি টাকার বন্ডও ইস্যু করা হবে। এ ছাড়া দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে ইউসিবিতে যুক্ত করার চেষ্টা চলছে। তবে কৌশলগত বিনিয়োগকারীদের বড় অঙ্কের বিনিয়োগের সুযোগটি সীমিত ছিল এত দিন। এখন বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিধান থেকে ইউসিবিকে অব্যাহতি দেওয়ায় বড় অঙ্কের বিনিয়োগ আনার পথটি সহজ হবে।
























