২৬ দিনে তিন হ্যাটট্রিক, তাঁকে জার্মানি চায়, ইতালিও চায়—কে এই ত্রেসোল্ডি
- আপডেট সময় : ০৪:০৮:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে

ক্লাব ব্রুগা আর তাঁকে বেশি দিন ধরে রাখতে পারবে বলে মনে হয় না।
আর্সেনাল, চেলসি আর ম্যানচেস্টার সিটি তাঁর দিকে চোখ রাখছে বলে শোনা যাচ্ছে বেশ কিছুদিন ধরে। কিন্তু সপ্তাহের পর সপ্তাহ নিকোলা ত্রেসোল্ডি যা করে যাচ্ছেন, তাতে জানুয়ারিতেই তাঁকে বেলজিয়ামের ক্লাবটি থেকে নিয়ে যেতে পারে যে কেউই।
গত চার সপ্তাহের মধ্যে ছয়টি ম্যাচ খেলেছেন ত্রেসোল্ডি, এর মধ্যে তিনটিতে করেছেন হ্যাটট্রিক। সেই হ্যাটট্রিকও আবার নির্দিষ্ট একটি লিগে নয়, তিনটি ভিন্ন প্রতিযোগিতায়, দুটি ভিন্ন দলের হয়ে।
৩০ সেপ্টেম্বর জার্মানির অনূর্ধ্ব-২১ দলের হয়ে মাল্টার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক। ইউরোপিয়ান অনূর্ধ্ব-২১ চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাইপর্বে। ১৩ অক্টোবর চ্যাম্পিয়নস লিগে ইন্টার মিলানের মাঠে আরেক হ্যাটট্রিক। সর্বশেষ শনিবার বেলজিয়ান প্রো লিগে সিন্ট-ট্রুইডেন্সের বিপক্ষে তিন গোল। তিন প্রতিযোগিতা, দুই দল, তিন হ্যাটট্রিক। মাঝখানে মাত্র ২৬ দিন!
.
একটি হ্যাটট্রিক বয়সভিত্তিক দলের হয়ে বলে দ্রুততম তিন হ্যাটট্রিকের রেকর্ডে তাঁর নাম উঠবে না। কিন্তু তাতে কী! এমন গোল–বন্যা দেখে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলো জানুয়ারির দলবদলের বাজারেই ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে।
কিন্তু ক্লাবের চেয়েও বড় প্রশ্ন এখন তাঁর জাতীয় দল। ত্রেসোল্ডির জন্ম ২০০৪ সালে ইতালির সার্দিনিয়া দ্বীপের কালিয়ারিতে। বাবা এমানুয়েল ত্রেসোল্ডি ছিলেন ফুটবলার। সিরি আর ক্লাব আতালান্তাতেও খেলেছেন। বাবা ছিলেন ডিফেন্ডার, ছেলে হয়েছেন স্ট্রাইকার। বাবা গোল আটকাতেন, ছেলে গোল করেন!
মা বারবারা কাফি আবার আর্জেন্টাইন বংশোদ্ভূত। অর্থাৎ ইতালি, জার্মানির পাশাপাশি আর্জেন্টিনার হয়েও খেলার সুযোগ আছে ত্রেসোল্ডির। ইতালিতেই বেড়ে ওঠা। ২০১৭ সালে মায়ের চাকরির কারণে পরিবারের সঙ্গে চলে যান জার্মানির হ্যানোভারে। সেখানেই ফুটবলজীবনের নতুন অধ্যায়।
.
হ্যানোভার ৯৬-এর যুব একাডেমিতে শুরু। ২০২০ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে অনূর্ধ্ব-১৭ দলের হয়ে তিন ম্যাচে পাঁচ গোল। ইতালির গোলডটকম তখন জানিয়েছিল, যুব পর্যায়ে প্রতি মৌসুমে প্রায় ২০ গোল করতেন তিনি।
এরপর জার্মানির অনূর্ধ্ব-১৯ দলে ডাক। ২০২২ সালে পেশাদার চুক্তি। হ্যানোভারের হয়ে দ্বিতীয় বিভাগে টানা তিন মৌসুম খেলার পর ২০২৫ সালের জুনে যোগ দেন ক্লাব ব্রুগায়। সেখান থেকেই এখন ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর নজরে।
জার্মানির অনূর্ধ্ব-২১ দলে খেলছেন ত্রেসোল্ডি। ২০২৬ বিশ্বকাপের দলেও তাঁকে বিবেচনা করেছিলেন জার্মান কোচ ইউলিয়ান নাগলসমান। বলেছিলেন, জার্মানির যে ধরনের নম্বর নাইন দরকার, ত্রেসোল্ডি তা–ই। তবে শেষ পর্যন্ত নানা সমীকরণের চক্কারে আর ডাকা হয়নি। তবে ইতালি চাইলে এখনই তাঁকে জাতীয় দলে নিতে পারে।
.
ইতালির সংবাদমাধ্যম গাজেত্তা দেলো স্পোর্ত জানিয়েছে, ইতালির কোচ রবার্তো মানচিনি ও জার্মানির কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপের সঙ্গে কথা হয়েছে ত্রেসোল্ডির। দুই দেশের ফুটবল কর্মকর্তারাও যোগাযোগ করেছেন।
আর্জেন্টাইন যোগসূত্র থাকলেও আপাতত আলোচনায় নেই লিওনেল মেসির দেশ। স্প্যানিশ ভাষায় সাবলীল ত্রেসোল্ডির সামনে মূলত দুটি পথ। ইতালি ও জার্মানি। সেপ্টেম্বরে বলেছিলেন, দুই দেশই তাঁর কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ। আগে বুঝতে চান, কার পরিকল্পনায় তাঁর জন্য কতটা জায়গা আছে। তাই সিদ্ধান্ত এখনো ‘৫০-৫০’।
গোলপোস্টের সামনে অবশ্য ত্রেসোল্ডির সিদ্ধান্ত নিতে এত সময় লাগে না। বল পেলেই জানেন, কোথায় পাঠাতে হবে। শুধু নিজের ভবিষ্যতের ঠিকানাটা এখনো ঠিক করতে পারেননি।
.নীল জলের ছেলেটিই মেসির উত্তরসূরি























