ঢাকা ০৮:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

দুর্ঘটনায় পা হারানো সাকিবকে নগদ অর্থসহায়তা পটিয়া বন্ধুসভার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৮:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রথম আলোর ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘একটি ভালো কাজ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত চিকিৎসাধীন এক শিক্ষার্থীকে নগদ অর্থসহায়তা করেছে পটিয়া বন্ধুসভা। ২৪ অক্টোবর তাঁর হাতে এই অর্থসহায়তা তুলে দেওয়া হয়।

ওই শিক্ষার্থীর নাম ইফতিকার হোসেন সাকিব। পড়াশোনা করে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন তাঁর। কিন্তু পরিবারের দৈন্যদশায় ছোটবেলা থেকেই নিতে হয়েছে উপার্জনের দায়িত্ব। অসুস্থ বাবার সংসারে সহায়তা করতে নবম শ্রেণি থেকেই রংমিস্ত্রির কাজ শেখেন তিনি। পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করতেন, বাড়ির ছাদে দেশি মুরগি পালন করেও নিজের পড়ালেখার খরচ জোগাতেন। সেই অদম্য শিক্ষার্থী আজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। একটি পা হারিয়েও তাঁর স্বপ্ন আবার পড়াশোনায় ফিরে যাওয়া।

.

চট্টগ্রামের পটিয়ার দক্ষিণ গোবিন্দার খীল এলাকার ১৯ বছর বয়সী ইফতিকার হোসেন হুলাইন ছালেহ নুর ডিগ্রি কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। ছয় সদস্যের পরিবারের বড় সন্তান তিনি।

পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে জানা যায়, ১৩ অক্টোবর পটিয়ার একটি ভবনে রঙের কাজ করতে গিয়ে ছাদের ওপর অসাবধানতাবশত ১১ হাজার ভোল্টের বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে আসেন সাকিব। প্রায় এক মিনিট বিদ্যুতের সংস্পর্শে থাকার পর এক পথচারী তাঁকে দেখতে পান। পথচারী রং করার দড়ি নাড়িয়ে সাকিবকে বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শ থেকে বাঁচাতে গেলে তিনি ছিটকে ছাদ থেকে নিচে পড়ে যান। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে পটিয়ার একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করলে তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়। বিদ্যুৎস্পৃষ্টে তাঁর শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন করতে হয় পুরো বাঁ পা।

.

পটিয়া বন্ধুসভার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সাকিবের বাবা মো. ইদ্রিস বলেন, ‘আমার ছেলের পড়াশোনার পাশাপাশি উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন ছিল। সে ঘরের ছাদে মুরগির খামার গড়ে তুলেছিল ক্ষুদ্র পরিসরে। পরে পরিবারের অভাব–অনটনের কারণে এসবের পাশাপাশি রংমিস্ত্রির কাজ শুরু করে। ছেলের এমন অবস্থা দেখে আমরা দিশাহারা। আইসিইউতে চিকিৎসা করানো অনেক ব্যয়বহুল। আমরা গরিব মানুষ, এত খরচ চালানো সম্ভব হচ্ছে না।’

বন্ধুসভার উপদেষ্টা ও সদস্যদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে সাকিবের মা-বাবার হাতে চিকিৎসা সহায়তা হিসেবে নগদ ১০ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে সংকটময় সময়ে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি সাকিবের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার স্বপ্নের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন বন্ধুরা।

সভাপতি, পটিয়া বন্ধুসভা

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

দুর্ঘটনায় পা হারানো সাকিবকে নগদ অর্থসহায়তা পটিয়া বন্ধুসভার

আপডেট সময় : ০৪:৩৮:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

প্রথম আলোর ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘একটি ভালো কাজ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত চিকিৎসাধীন এক শিক্ষার্থীকে নগদ অর্থসহায়তা করেছে পটিয়া বন্ধুসভা। ২৪ অক্টোবর তাঁর হাতে এই অর্থসহায়তা তুলে দেওয়া হয়।

ওই শিক্ষার্থীর নাম ইফতিকার হোসেন সাকিব। পড়াশোনা করে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন তাঁর। কিন্তু পরিবারের দৈন্যদশায় ছোটবেলা থেকেই নিতে হয়েছে উপার্জনের দায়িত্ব। অসুস্থ বাবার সংসারে সহায়তা করতে নবম শ্রেণি থেকেই রংমিস্ত্রির কাজ শেখেন তিনি। পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করতেন, বাড়ির ছাদে দেশি মুরগি পালন করেও নিজের পড়ালেখার খরচ জোগাতেন। সেই অদম্য শিক্ষার্থী আজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। একটি পা হারিয়েও তাঁর স্বপ্ন আবার পড়াশোনায় ফিরে যাওয়া।

.

চট্টগ্রামের পটিয়ার দক্ষিণ গোবিন্দার খীল এলাকার ১৯ বছর বয়সী ইফতিকার হোসেন হুলাইন ছালেহ নুর ডিগ্রি কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। ছয় সদস্যের পরিবারের বড় সন্তান তিনি।

পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে জানা যায়, ১৩ অক্টোবর পটিয়ার একটি ভবনে রঙের কাজ করতে গিয়ে ছাদের ওপর অসাবধানতাবশত ১১ হাজার ভোল্টের বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে আসেন সাকিব। প্রায় এক মিনিট বিদ্যুতের সংস্পর্শে থাকার পর এক পথচারী তাঁকে দেখতে পান। পথচারী রং করার দড়ি নাড়িয়ে সাকিবকে বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শ থেকে বাঁচাতে গেলে তিনি ছিটকে ছাদ থেকে নিচে পড়ে যান। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে পটিয়ার একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করলে তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়। বিদ্যুৎস্পৃষ্টে তাঁর শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন করতে হয় পুরো বাঁ পা।

.

পটিয়া বন্ধুসভার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সাকিবের বাবা মো. ইদ্রিস বলেন, ‘আমার ছেলের পড়াশোনার পাশাপাশি উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন ছিল। সে ঘরের ছাদে মুরগির খামার গড়ে তুলেছিল ক্ষুদ্র পরিসরে। পরে পরিবারের অভাব–অনটনের কারণে এসবের পাশাপাশি রংমিস্ত্রির কাজ শুরু করে। ছেলের এমন অবস্থা দেখে আমরা দিশাহারা। আইসিইউতে চিকিৎসা করানো অনেক ব্যয়বহুল। আমরা গরিব মানুষ, এত খরচ চালানো সম্ভব হচ্ছে না।’

বন্ধুসভার উপদেষ্টা ও সদস্যদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে সাকিবের মা-বাবার হাতে চিকিৎসা সহায়তা হিসেবে নগদ ১০ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে সংকটময় সময়ে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি সাকিবের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার স্বপ্নের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন বন্ধুরা।

সভাপতি, পটিয়া বন্ধুসভা