ঢাকা ০৭:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফের কুকুরের কামড়ে চার শিশু আহত ‘দাঁড়িপাল্লা’ নিয়ে বিতর্ক, জ্ঞানের পিরামিডে কোনো আইকন থাকছে না কৃষকের হাতে এআই, মাঠের নতুন সহায়ক সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুলসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা বিচারের জন্য প্রস্তুত ফতুল্লায় স্বামীর বাসা থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার শিশুকে ধর্ষণের দায়ে ইমামের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে কাউকে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা দিইনি: মীর শাহে আলম শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা: একটি সর্বজনীন উৎসব জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬। Changing Sentences গুলো পরিবর্তন করে লেখো দুর্ঘটনায় পা হারানো সাকিবকে নগদ অর্থসহায়তা পটিয়া বন্ধুসভার

শিশুকে ধর্ষণের দায়ে ইমামের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৪২:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় এক শিশুকে ধর্ষণের দায়ে এক ইমামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুরে জামালপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত–১–এর বিচারক মুহাম্মদ আবদুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি মো. মুছা মিয়া (৩৩)। তাঁর বাড়ি গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার হরিচণ্ডি গ্রামে। ২০২০ সালের ওই ঘটনার সময় তিনি দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার একটি গ্রামের মসজিদের ইমাম ছিলেন। আজ রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

.

মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় ভুক্তভোগী শিশুটির বয়স ছিল ১৫ বছর। সে প্রতিদিন সকালে ওই মসজিদে আরবি পড়তে যেত। ইমাম প্রায়ই অন্য শিশুদের ছুটি দিয়ে তাকে রেখে দিতেন এবং তাকে দিয়ে মসজিদ পরিষ্কারের কাজ করাতেন। একপর্যায়ে শিশুটিকে বিয়ের প্রলোভন দেখান। ২০২০ সালের ২৮ নভেম্বর অন্যদিনের মতো অন্য শিশুদের ছুটি দিয়ে ভুক্তভোগী শিশুকে রেখে দেন ইমাম। পরে তিনি শিশুটিকে ধর্ষণ করেন এবং ঘটনাটি কাউকে জানাতে নিষেধ করেন। একই বছরের ১ ও ২ ডিসেম্বর আবারও শিশুটিকে তিনি ধর্ষণ করেন।

.

শিশুটির আচরণ ও মানসিক অবস্থার পরিবর্তন লক্ষ করেন পরিবারের সদস্যরা। পরে সে তাঁদের কাছে ঘটনার বিস্তারিত জানায়। পরিবার বিষয়টি গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানায়। তাঁদের পরামর্শে শিশুর মা বাদী হয়ে ২০২০ সালের ৮ ডিসেম্বর দেওয়ানগঞ্জ থানায় মামলা করেন।

.

জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত–১–এর সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) ফজলুল হক প্রথম আলোকে বলেন, মামলায় ভুক্তভোগী শিশুসহ ১০ জনের সাক্ষ্য নিয়েছেন আদালত। শুনানিতে অভিযোগ প্রমাণিত হয়। পরে আদালত আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করেন। জরিমানার টাকা শিশুটির পরিবারকে দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রায়ের পর আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

শিশুকে ধর্ষণের দায়ে ইমামের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

আপডেট সময় : ০৫:৪২:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় এক শিশুকে ধর্ষণের দায়ে এক ইমামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুরে জামালপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত–১–এর বিচারক মুহাম্মদ আবদুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি মো. মুছা মিয়া (৩৩)। তাঁর বাড়ি গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার হরিচণ্ডি গ্রামে। ২০২০ সালের ওই ঘটনার সময় তিনি দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার একটি গ্রামের মসজিদের ইমাম ছিলেন। আজ রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

.

মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় ভুক্তভোগী শিশুটির বয়স ছিল ১৫ বছর। সে প্রতিদিন সকালে ওই মসজিদে আরবি পড়তে যেত। ইমাম প্রায়ই অন্য শিশুদের ছুটি দিয়ে তাকে রেখে দিতেন এবং তাকে দিয়ে মসজিদ পরিষ্কারের কাজ করাতেন। একপর্যায়ে শিশুটিকে বিয়ের প্রলোভন দেখান। ২০২০ সালের ২৮ নভেম্বর অন্যদিনের মতো অন্য শিশুদের ছুটি দিয়ে ভুক্তভোগী শিশুকে রেখে দেন ইমাম। পরে তিনি শিশুটিকে ধর্ষণ করেন এবং ঘটনাটি কাউকে জানাতে নিষেধ করেন। একই বছরের ১ ও ২ ডিসেম্বর আবারও শিশুটিকে তিনি ধর্ষণ করেন।

.

শিশুটির আচরণ ও মানসিক অবস্থার পরিবর্তন লক্ষ করেন পরিবারের সদস্যরা। পরে সে তাঁদের কাছে ঘটনার বিস্তারিত জানায়। পরিবার বিষয়টি গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানায়। তাঁদের পরামর্শে শিশুর মা বাদী হয়ে ২০২০ সালের ৮ ডিসেম্বর দেওয়ানগঞ্জ থানায় মামলা করেন।

.

জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত–১–এর সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) ফজলুল হক প্রথম আলোকে বলেন, মামলায় ভুক্তভোগী শিশুসহ ১০ জনের সাক্ষ্য নিয়েছেন আদালত। শুনানিতে অভিযোগ প্রমাণিত হয়। পরে আদালত আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করেন। জরিমানার টাকা শিশুটির পরিবারকে দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রায়ের পর আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়।