নিরাপত্তা বাহিনীর পাহারায় সাজেক থেকে ফিরেছেন পর্যটকেরা, হোটেল না পেয়ে ভোগান্তি
- আপডেট সময় : ০৭:৪৪:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

আঞ্চলিক দুটি সংগঠনের ডাকা অবরোধের কারণে রাঙামাটির সাজেকে আটকা পড়া ২ হাজার ৯৩৩ পর্যটক ফিরেছেন। আজ বৃহস্পতিবার বেলা একটার দিকে নিরাপত্তা বাহিনীর পাহারায় তাঁদের খাগড়াছড়ি শহরে নিয়ে আসা হয়। পর্যটকেরা জানান, ফেরার পথে অবরোধকারীদের বাধা ও গোলাগুলির ঘটনায় আতঙ্কে ছিলেন।
খাগড়াছড়ি শহরের শাপলা চত্বরে কথা হয় ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা পর্যটক আব্দুল মালেকের সঙ্গে। পরিবারের আট সদস্যকে নিয়ে বুধবার দুপুরে সাজেকে গিয়েছিলেন তিনি। আগামীকাল শুক্রবার সকালে তাঁদের খাগড়াছড়িতে ফেরার কথা ছিল।আব্দুল মালেক বলেন, ‘সন্ধ্যায় হঠাৎ শুনি, একটি সংগঠন সড়ক অবরোধের ডাক দিয়েছে। আজ ফেরার পথে অবরোধকারীরা গাড়ি আটকে রেখেছিলেন। ভয়ভীতির মধ্যেও ভালোভাবেই খাগড়াছড়িতে পৌঁছেছি। এখন রাতে বাড়ি পৌঁছাতে পারলেই শান্তি।’
সাজেকের সাম্পারি গেস্টহাউসের কর্মচারী জুগেশ্বর ত্রিপুরা বলেন, ‘সাজেক বন্ধ ঘোষণা করায় বাড়ি ফিরছিলাম। উজো বাজারে এসে দেখি, গাড়িগুলো আটকে দেওয়া হয়েছে। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আমাদের গাড়িগুলো নিয়ে আসেন।’
.
তবে সাজেক থেকে ফিরে হোটেলের কক্ষ খালি না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন পর্যটকেরা। মিজানুর রহমান নামে এক পর্যটক বলেন, ‘আমাদের পরিবারের ছোট–বড় মিলিয়ে শুক্রবার পর্যন্ত সাজেকে থাকার কথা ছিল। সে অনুযায়ী শুক্রবার রাতে ঢাকা যাওয়ার টিকিট করেছি। এখন খাগড়াছড়ি এসে শহরের দুইটি ভালো হোটেলে রুম খালি না থাকায় পরিবার–পরিজন নিয়ে কী করব বুঝতে পারছি না।’
খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, সব পর্যটক নিরাপদে খাগড়াছড়ি ফিরেছেন। অনেকে খাগড়াছড়ি ছেড়ে চলে যাচ্ছেন, অনেকে এখনো খাগড়াছড়িতে অবস্থান করছেন।
আজ সকালে সাজেক থেকে খাগড়াছড়ি ফেরার পথে প্রায় ২ হাজার ৯৩৩ পর্যটক আটকা পড়েন। সকাল নয়টার দিকে সেনাবাহিনী ও পুলিশের পাহারায় তাঁদের গাড়িবহর সাজেক থেকে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। তবে অবরোধের কারণে সকাল সাড়ে নয়টার দিকে বাঘাইছড়ির উজো বাজার এলাকায় তাঁরা আটকা পড়েন।
.
অবরোধকারীরা উজো বাজার এলাকায় অবস্থান নেওয়ায় পর্যটকেরা সেখান থেকে এগোতে পারছিলেন না। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা লাঠিপেটা করলে অবরোধকারীরা সরে যান। এরপর বেলা ১১টার দিকে পর্যটকবাহী গাড়িবহর উজো বাজার এলাকা ছাড়ে। এ ঘটনার পর বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর গোলাগুলি শুরু হয় বলে জানায় পুলিশ। রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
গতকাল বুধবার সাজেক পর্যটন সড়কে তৃতীয় দফায় অবরোধের ঘোষণা দেয় সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন নামের দুটি সংগঠন। এক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠন দুটি জানায়, আজ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধ চলবে। তাই গতকালকের মধ্যে সাজেক থেকে সব পর্যটককে চলে আসার অনুরোধ করা হয়।
আঞ্চলিক দুটি সংগঠনের ডাকা অবরোধের পর নিরাপত্তার কারণ উল্লেখ করে সাজেক বন্ধের ঘোষণা দেয় জেলা প্রশাসন। গতকাল সন্ধ্যায় এক গণবিজ্ঞপ্তিতে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী জানান, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। ওই বিজ্ঞপ্তিতে আজ বিকেল চারটার মধ্যে সবাইকে নিরাপদে সাজেক ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
.
জেলা প্রশাসনের এ নির্দেশনা মেনে আজ সকালে সাজেক ছাড়ছিলেন পর্যটকেরা। তবে সাজেক থেকে বের হওয়ার আধা ঘণ্টার মধ্যেই বাঘাইছড়ির উজো বাজারে অবরোধকারীদের সামনে পড়েন তাঁরা।
এর আগে ১৫ অক্টোবর সকাল ৬টা থেকে সাজেক পর্যটন সড়কে দ্বিতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু করেন সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের নেতা-কর্মীরা। তাঁরা সড়কের বিভিন্ন স্থানে টায়ার ও গাছের গুঁড়িতে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন।
অবরোধকারীদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-সন্তু লারমা) সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া। ১১ অক্টোবর একই দাবিতে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ডাক দিয়েছিলেন তাঁরা।
.
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে জেএসএস। সংগঠনটির প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা প্রথম আলোকে বলেন, সাজেকে সাধারণ মানুষের ওপর ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের দীর্ঘদিনের নিপীড়ন ও হয়রানির বিষয়টি আড়াল করতেই এমন অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
অবরোধ ও পর্যটন বন্ধের ঘোষণায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরা। সাজেক রিসোর্ট কটেজ মালিক সমিতির সহসাধারণ সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা প্রথম আলোকে বলেন, অবরোধের কারণে পর্যটকদের সাজেক ছাড়তে হচ্ছে। অনেকে রিসোর্টের আগাম বুকিং বাতিল করেছেন। সাজেকে সড়ক অবরোধ হলে শুধু পর্যটক বা ব্যবসায়ীরা নন, স্থানীয় বাসিন্দারাও চরম ভোগান্তিতে পড়েন। খাদ্যসামগ্রী কেনাকাটা ও উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়া বন্ধ হয়ে যায়।

























