খুলনায় সকালে যুবক, সন্ধ্যায় গৃহবধূ খুন
- আপডেট সময় : ১১:২৮:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

মাত্র ১৫ ঘণ্টার ব্যবধানে খুলনা নগরে দুটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে নগরের পূর্ব বানিয়াখামার এলাকায় এক যুবককে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। আর সন্ধ্যার পর নগরের জিন্নাহপাড়া এলাকায় হত্যার শিকার হন এক গৃহবধূ।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, পৃথক দুটি হত্যাকাণ্ডের পেছনে মাদক ব্যবসাসংক্রান্ত বিরোধ থাকতে পারে।
.খুলনা নগরে ভোরে যুবককে গুলি করে হত্যা.
রাত পৌনে আটটার দিকে জিন্নাহপাড়া এলাকার বউবাজারের সাত নম্বর গলির মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয় খুশি (২৫) নামের এক গৃহবধূকে। তিনি ওই এলাকার খোকন শেখের মেয়ে এবং সুমন সরদারের স্ত্রী।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যার পর বাসা থেকে বের হয়ে পূর্ব দিকে যাচ্ছিলেন খুশি। বাসা থেকে কয়েক মিটার দূরে আগে থেকে অবস্থান করা দুই দুর্বৃত্ত তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় তাঁর মাথায় গুলি লাগে। পরে দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন খুশিকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
.
খুশি একা বের হয়েছিলেন, নাকি তাঁর সঙ্গে কেউ ছিলেন, তা জানা যায়নি। তবে বাসার কাছেই দুই দুর্বৃত্ত তাঁকে গুলি করে পালিয়ে যায়। খুশির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে।
সৈয়দ মোশারফ হোসেন, ওসি, লবণচরা থানা
.
গত জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে খুলনা মহানগরে ৩৩টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। পুলিশের দাবি, ইতিমধ্যে এসব ঘটনার ৩১টির রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। খুলনা নগরে অন্তত ১০টি শীর্ষ অপরাধী চক্র সক্রিয় রয়েছে।
.
লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোশারফ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, খুশি একা বের হয়েছিলেন, নাকি তাঁর সঙ্গে কেউ ছিলেন, তা জানা যায়নি। তবে বাসার কাছেই দুই দুর্বৃত্ত তাঁকে গুলি করে পালিয়ে যায়। খুশির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে।
খুশি ও তাঁর স্বামী সুমন সরদার ওরফে ব্লেড বাবু দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে জানিয়েছেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (খুলনা জোন) মো. শফিকুল ইসলাম। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ওই দম্পতির বিরুদ্ধে মাদক-সংশ্লিষ্ট মামলাও রয়েছে। প্রাথমিকভাবে মাদক-সংশ্লিষ্ট বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
.
রাতে যেখানে গৃহবধূ খুশি খুন হন এর প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে নগরের পূর্ব বানিয়াখামার এলাকায় সকালে তাওহিদুল ইসলাম (৩২) নামের এক যুবককে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। সদর থানার পূর্ব বানিয়াখামার আনসার আলী গলির সামনে গুলির ঘটনা ঘটে।
পরে পুলিশ তাওহিদুলের মরদেহ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি মোটরসাইকেল এবং কিছু দূর থেকে গুলির দুটি খোসা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে পূর্ব বানিয়াখামার খাদেমুল উলুম মাদ্রাসার সামনে কয়েকজন যুবকের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। এ সময় দুর্বৃত্তরা অস্ত্র বের করে গুলি চালালে তাওহিদুলের পিঠে একটি গুলি লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
.
খুলনা সদর থানার ওসি মো. লোকমান হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, নিহত তাওহিদুল কারাগারে আটক খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাশ গ্রুপের অন্যতম সক্রিয় সদস্য ছিলেন। প্রতিপক্ষ গ্রুপের গুলিতে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে। হত্যাকারীদের শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। তাওহিদুলের বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র আইনে মামলা আছে।
.
গত জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে খুলনা মহানগরে ৩৩টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। পুলিশের দাবি, ইতিমধ্যে এসব ঘটনার ৩১টির রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়েছে।
পুলিশের তালিকা অনুযায়ী, খুলনা নগরে অন্তত ১০টি শীর্ষ অপরাধী চক্র সক্রিয় রয়েছে। আধিপত্য বিস্তার করতে বা প্রতিশোধ নিতে তাদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

























