ঢাকা ০১:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আম্মু আমার ফোন লুকিয়ে রাখেন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:০৪:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বেশি দিন আগের কথা নয়, গত বছরের শেষের দিকের ঘটনা। স্কুল থেকে সায় ফিরে গোসল করে বের হয়েছিমাত্র, এমন সময় মনে পড়ল, সোমার একটা জরুরি মেসেজ আসার কথা ছিল। সেটা দেখতে হলে আমার ফোনটা দরকার। কিন্তু আসল সমস্যা বাধল তখনই, যখন পুরো বাসা খুঁজেও ফোনটা কোথাও পেলাম না।

ফোনটা চার্জে বসিয়ে রেখে গিয়েছিলাম। তাই চার্জ দেওয়ার জায়গাতেই কার কথা। ফোনের তো আর পা কিংবা ডানা নেই যে নিজে নিজেই কোথাও চলে যাবে! তার মানে, কেউ একজন ফোনটা সরিয়েছে। আর সেই ব্যক্তি যে আমাদের বাসারই কেউ, তা বুঝতে আমার বেশি সময় লাগল না।

সোজা চলে গেলাম আম্মুর কাছে। জিজ্ঞেস করলাম, ‘আম্মু, তুমি কি আমার ফোনটা দেখেছ, নাকি নিয়েছ?’

আম্মু সোজা অস্বীকার করলেন। কিন্তু আমি বেশ ভালো করেই বুঝতে পারছিলাম, কাজটা আম্মুরই। আসলে এর পেছনে একটা কারণও আছে। আমি স্মার্টফোন একটু বেশিই ব্যবহার করি। জানি, এটা ঠিক নয়। অভ্যাসটা ছাড়ারও চেষ্টা করছি। কিন্তু পুরোপুরি পেরে উঠছি না। আর আমার এ অভ্যাস শুধরে দিতেই আম্মু এমন পদক্ষেপ নিয়েছেন!

এবার ভাবতে লাগলাম, আম্মু ফোনটা কোথায় লুকাতে পারেন। এমন সময় আব্বুর বাটন ফোনটার দিকে চোখ পড়ল। সঙ্গে সঙ্গে মাথায় একটা বুদ্ধি এল। ইশ্! কী বোকা আমি! এই ফোন থেকে আমার ফোনে একটা কল দিলেই তো হয়!

যে–ই ভাবা, সেই কাজ। আব্বুর ফোন থেকে নিজের নম্বরে কল দিলাম। বেজে উঠল আমার ফোনের রিংটোন। শব্দ অনুসরণ করে এগিয়ে গিয়ে ফোনটা খুঁজে বের করলাম। এক বিরাট সাফল্য!

ফোনটা ছিল আমার স্কুলব্যাগের ভেতর। আমি যখন গোসল করতে গিয়েছিলাম, তখনই আম্মু সেটা ব্যাগে লুকিয়ে রেখেছিলেন।

অবশেষে ফোন উদ্ধার করে মেসেজটা দেখলাম। কিন্তু আমার আনন্দ বেশিদিন স্থায়ী হলো না। পরেরবার থেকে আম্মু ফোন লুকানোর সময় সেটাকে সাইলেন্ট করে বা সুইচ অফ করে রাখতে শুরু করলেন।লেখক: শিক্ষার্থী, অষ্টম শ্রেণি, সিটি সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, চট্টগ্রাম

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

আম্মু আমার ফোন লুকিয়ে রাখেন

আপডেট সময় : ০১:০৪:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

বেশি দিন আগের কথা নয়, গত বছরের শেষের দিকের ঘটনা। স্কুল থেকে সায় ফিরে গোসল করে বের হয়েছিমাত্র, এমন সময় মনে পড়ল, সোমার একটা জরুরি মেসেজ আসার কথা ছিল। সেটা দেখতে হলে আমার ফোনটা দরকার। কিন্তু আসল সমস্যা বাধল তখনই, যখন পুরো বাসা খুঁজেও ফোনটা কোথাও পেলাম না।

ফোনটা চার্জে বসিয়ে রেখে গিয়েছিলাম। তাই চার্জ দেওয়ার জায়গাতেই কার কথা। ফোনের তো আর পা কিংবা ডানা নেই যে নিজে নিজেই কোথাও চলে যাবে! তার মানে, কেউ একজন ফোনটা সরিয়েছে। আর সেই ব্যক্তি যে আমাদের বাসারই কেউ, তা বুঝতে আমার বেশি সময় লাগল না।

সোজা চলে গেলাম আম্মুর কাছে। জিজ্ঞেস করলাম, ‘আম্মু, তুমি কি আমার ফোনটা দেখেছ, নাকি নিয়েছ?’

আম্মু সোজা অস্বীকার করলেন। কিন্তু আমি বেশ ভালো করেই বুঝতে পারছিলাম, কাজটা আম্মুরই। আসলে এর পেছনে একটা কারণও আছে। আমি স্মার্টফোন একটু বেশিই ব্যবহার করি। জানি, এটা ঠিক নয়। অভ্যাসটা ছাড়ারও চেষ্টা করছি। কিন্তু পুরোপুরি পেরে উঠছি না। আর আমার এ অভ্যাস শুধরে দিতেই আম্মু এমন পদক্ষেপ নিয়েছেন!

এবার ভাবতে লাগলাম, আম্মু ফোনটা কোথায় লুকাতে পারেন। এমন সময় আব্বুর বাটন ফোনটার দিকে চোখ পড়ল। সঙ্গে সঙ্গে মাথায় একটা বুদ্ধি এল। ইশ্! কী বোকা আমি! এই ফোন থেকে আমার ফোনে একটা কল দিলেই তো হয়!

যে–ই ভাবা, সেই কাজ। আব্বুর ফোন থেকে নিজের নম্বরে কল দিলাম। বেজে উঠল আমার ফোনের রিংটোন। শব্দ অনুসরণ করে এগিয়ে গিয়ে ফোনটা খুঁজে বের করলাম। এক বিরাট সাফল্য!

ফোনটা ছিল আমার স্কুলব্যাগের ভেতর। আমি যখন গোসল করতে গিয়েছিলাম, তখনই আম্মু সেটা ব্যাগে লুকিয়ে রেখেছিলেন।

অবশেষে ফোন উদ্ধার করে মেসেজটা দেখলাম। কিন্তু আমার আনন্দ বেশিদিন স্থায়ী হলো না। পরেরবার থেকে আম্মু ফোন লুকানোর সময় সেটাকে সাইলেন্ট করে বা সুইচ অফ করে রাখতে শুরু করলেন।লেখক: শিক্ষার্থী, অষ্টম শ্রেণি, সিটি সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, চট্টগ্রাম