ঢাকা ০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
একঝলক (১৯ অক্টোবর ২০২৬) কলকাতায় বিভিন্ন মণ্ডপের সামনে বইয়ের স্টল ভাঙচুর, হাইকোর্টে মামলা করল সিপিএম সৌদি কর্তৃপক্ষের অনুমতি পেলে আবার রিয়াদের ফ্লাইট চলাচল শুরু করা হবে: বিমানমন্ত্রী জুনে সিএনএন ছাড়ছেন ক্রিশ্চিয়ান আমানপুর সব ধর্মের মানুষ এক হয়ে কাজ করলে দেশ এগিয়ে যাবে: প্রধানমন্ত্রী সরকার পতন নয়, অবাধ নির্বাচন চাই: বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের সঙ্গে তুলনার জবাবে শশী থারুর উত্তাল ফ্রান্স, কয়েকটি শহরে কারফিউ জারি ৯ মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ৭৩, মব সহিংসতায় ১৮৭: এইচআরএসএস বন্দিতালিকায় দুজনের নাম থাকলেও শাস্তির তথ্য কেন ঊহ্য রাখা হলো, প্রশ্ন ঢাকার আফগানিস্তানের কাছে ১৫৮ রানের বড় ব্যবধানে হারল জিম্বাবুয়ে

আখড়াবাড়ি থেকে বোমা উদ্ধারে ‘জনশূন্য’ শেষ দিনের আয়োজন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:১৫:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আখড়াবাড়ি থেকে টাইমবোমা উদ্ধারের ঘটনায় উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা নিয়ে শেষ হলো ফকির লালন শাহর ১৩৬তম তিরোধান দিবসের এবারের আয়োজন। তিন দিনের আয়োজনের শেষ দিন গতকাল সোমবার সকালেই চলে যান অনেক ফকির–সাধু। বেলা ১১টার মধ্যে পুরো আখড়াবাড়ি প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়ে।

ফকির লালন শাহর তিরোধান দিবস উপলক্ষে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ছেঁউড়িয়ায় তিন দিনের আয়োজন শুরু হয় গত শনিবার। এর আগে থেকেই সেখানে ফকির-সাধুসহ অনেক মানুষ জড়ো হতে থাকে। গত রোববার মানুষের সমাগম ছিল সবচেয়ে বেশি। এদিন দিবাগত রাত দেড়টার দিকে আখড়াবাড়ির ভেতরে একটি ব্যাগে বোমা থাকার খবর পেয়ে এলাকাটি ঘিরে ফেলে পুলিশ। গতকাল সকালে ঢাকা থেকে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল এসে বোমাটি নিক্রিয় করে।

এ ঘটনায় আখড়াবাড়ির নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। পুলিশের নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি বিজিবির দুই প্লাটুন সদস্য মোতায়েন করা হয়। এতে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয় ফকির–সাধুসহ দর্শনার্থীদের মধ্যে। গতকাল দুপুর ১২টার দিকে আখড়াবাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পুরো প্রাঙ্গণে ফকির–সাধুদের সংখ্যা প্রায় শূন্য। সেখানে কয়েকজন দর্শনার্থী ঘোরাফেরা করছিলেন।

বোমা উদ্ধার হয় যেখান থেকে, তার পাশে আসন পেতেছিলেন গিয়াস ফকির। বাড়ি ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলায়। তিনি বলেন, ‘রাত দেড়টা–দুইটার দিকে পুলিশ–প্রশাসনের লোক আসল। পথ বন্ধ করে দিল। তারপর সবাইকে বলল, এখানে বোম আছে, সবাই সইরি যাও। সব চইলি যাও। এরপর সকালে আরও লোকজন আইসি জিনিসটা (বোমা) তুইলি নিই চলি গেল। একটা পলিথিনের ব্যাগ পইড়ি ছিল। পুলিশকে কে খবর দিল, কী বিষয়, কিছুই জানি না।’

কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘রাতে কুমারখালী থানার ওসি জানতে পারেন, আখড়াবাড়ির ভেতর বোমা আছে। এরপর সেটি কর্ডন করে (ঘিরে) রাখা হয়। এটা টাইমবোমা ছিল। যেকোনো সময় বিস্ফোরণ ঘটতে পারত। আল্লাহ বাঁচিয়েছেন। সকালে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল এসে সেটা নিষ্ক্রিয় করেছে। আখড়াবাড়ির নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। পুরো আখড়াবাড়ি তল্লাশি চালানো হয়েছে।’

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আখড়াবাড়ির মূল ফটক পার হয়ে ডান দিকে একটি নারকেলগাছের নিচে সাদা ব্যাগে মোড়ানো সন্দেহজনক বস্তু পড়ে থাকতে দেখে সতর্ক অবস্থান নেয় পুলিশ। রাতেই সাধু-ফকিরদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।স্থানীয় লোকজন বলছেন, ঘটনাস্থলের ২০ হাতের মধ্যে পুলিশের ১৫ থেকে ২০ জন সদস্য নিয়মিত বসে থাকেন। সেখানে পুলিশের অস্থায়ী একটা ক্যাম্প রয়েছে। বোমার বিষয়টি প্রথমে এক শিশুর নজরে আসে। সে এটা ফকিরদের জানায়। তারা জানায় পুলিশকে।

বোমা উদ্ধারের ঘটনায় কুমারখালী থানা পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দীন প্রথম আলোকে বলেন, মামলা হয়েছে। তবে আসামি অজ্ঞাত। পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মামলাটি তদন্ত করছে।বোমা–আতঙ্কে সাধু–ফকিরেরা নির্ধারিত সময়ের আগেই আখড়াবাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ায় শেষ দিনে তেমন কিছুই হয়নি। সমাপনী আলোচনা সভা হওয়ার কথা ছিল সন্ধা ছয়টায়। তবে দুই ঘণ্টা এগিয়ে এনে বিকেল চারটায় আলোচনা সভা হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন-হাসানের সভাপতিত্বে সেখানে মুখ্য আলোচক হিসেবে ছিলেন প্রাবন্ধিক আহমেদ শাকিল হাসমী। স্বাগত বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মিজানুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন, পুলিশ সুপার (এসপি) আমিনুল ইসলাম, সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য রাগিব রউফ চৌধুরী, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব জাকির হোসেন সরকার প্রমুখ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

আখড়াবাড়ি থেকে বোমা উদ্ধারে ‘জনশূন্য’ শেষ দিনের আয়োজন

আপডেট সময় : ১২:১৫:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

আখড়াবাড়ি থেকে টাইমবোমা উদ্ধারের ঘটনায় উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা নিয়ে শেষ হলো ফকির লালন শাহর ১৩৬তম তিরোধান দিবসের এবারের আয়োজন। তিন দিনের আয়োজনের শেষ দিন গতকাল সোমবার সকালেই চলে যান অনেক ফকির–সাধু। বেলা ১১টার মধ্যে পুরো আখড়াবাড়ি প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়ে।

ফকির লালন শাহর তিরোধান দিবস উপলক্ষে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ছেঁউড়িয়ায় তিন দিনের আয়োজন শুরু হয় গত শনিবার। এর আগে থেকেই সেখানে ফকির-সাধুসহ অনেক মানুষ জড়ো হতে থাকে। গত রোববার মানুষের সমাগম ছিল সবচেয়ে বেশি। এদিন দিবাগত রাত দেড়টার দিকে আখড়াবাড়ির ভেতরে একটি ব্যাগে বোমা থাকার খবর পেয়ে এলাকাটি ঘিরে ফেলে পুলিশ। গতকাল সকালে ঢাকা থেকে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল এসে বোমাটি নিক্রিয় করে।

এ ঘটনায় আখড়াবাড়ির নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। পুলিশের নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি বিজিবির দুই প্লাটুন সদস্য মোতায়েন করা হয়। এতে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয় ফকির–সাধুসহ দর্শনার্থীদের মধ্যে। গতকাল দুপুর ১২টার দিকে আখড়াবাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পুরো প্রাঙ্গণে ফকির–সাধুদের সংখ্যা প্রায় শূন্য। সেখানে কয়েকজন দর্শনার্থী ঘোরাফেরা করছিলেন।

বোমা উদ্ধার হয় যেখান থেকে, তার পাশে আসন পেতেছিলেন গিয়াস ফকির। বাড়ি ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলায়। তিনি বলেন, ‘রাত দেড়টা–দুইটার দিকে পুলিশ–প্রশাসনের লোক আসল। পথ বন্ধ করে দিল। তারপর সবাইকে বলল, এখানে বোম আছে, সবাই সইরি যাও। সব চইলি যাও। এরপর সকালে আরও লোকজন আইসি জিনিসটা (বোমা) তুইলি নিই চলি গেল। একটা পলিথিনের ব্যাগ পইড়ি ছিল। পুলিশকে কে খবর দিল, কী বিষয়, কিছুই জানি না।’

কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘রাতে কুমারখালী থানার ওসি জানতে পারেন, আখড়াবাড়ির ভেতর বোমা আছে। এরপর সেটি কর্ডন করে (ঘিরে) রাখা হয়। এটা টাইমবোমা ছিল। যেকোনো সময় বিস্ফোরণ ঘটতে পারত। আল্লাহ বাঁচিয়েছেন। সকালে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল এসে সেটা নিষ্ক্রিয় করেছে। আখড়াবাড়ির নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। পুরো আখড়াবাড়ি তল্লাশি চালানো হয়েছে।’

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আখড়াবাড়ির মূল ফটক পার হয়ে ডান দিকে একটি নারকেলগাছের নিচে সাদা ব্যাগে মোড়ানো সন্দেহজনক বস্তু পড়ে থাকতে দেখে সতর্ক অবস্থান নেয় পুলিশ। রাতেই সাধু-ফকিরদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।স্থানীয় লোকজন বলছেন, ঘটনাস্থলের ২০ হাতের মধ্যে পুলিশের ১৫ থেকে ২০ জন সদস্য নিয়মিত বসে থাকেন। সেখানে পুলিশের অস্থায়ী একটা ক্যাম্প রয়েছে। বোমার বিষয়টি প্রথমে এক শিশুর নজরে আসে। সে এটা ফকিরদের জানায়। তারা জানায় পুলিশকে।

বোমা উদ্ধারের ঘটনায় কুমারখালী থানা পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দীন প্রথম আলোকে বলেন, মামলা হয়েছে। তবে আসামি অজ্ঞাত। পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মামলাটি তদন্ত করছে।বোমা–আতঙ্কে সাধু–ফকিরেরা নির্ধারিত সময়ের আগেই আখড়াবাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ায় শেষ দিনে তেমন কিছুই হয়নি। সমাপনী আলোচনা সভা হওয়ার কথা ছিল সন্ধা ছয়টায়। তবে দুই ঘণ্টা এগিয়ে এনে বিকেল চারটায় আলোচনা সভা হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন-হাসানের সভাপতিত্বে সেখানে মুখ্য আলোচক হিসেবে ছিলেন প্রাবন্ধিক আহমেদ শাকিল হাসমী। স্বাগত বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মিজানুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন, পুলিশ সুপার (এসপি) আমিনুল ইসলাম, সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য রাগিব রউফ চৌধুরী, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব জাকির হোসেন সরকার প্রমুখ।