ক্রিকেট যেন অস্কারজয়ী অভিনেতাদের যৌথ মহড়া!
- আপডেট সময় : ০৭:৩৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

ফুলটাইম বিড়াল ও পার্টটাইম বাঘের রোল প্লে করাতে খ্যাত বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। ঠিক যেমন আমার পড়ালেখার মতো; নেক্সট সেমিস্টার কামব্যাক দেওয়া আর বাংলাদেশ দলের নেক্সট ম্যাচ জেতা যেন একই সুতায় গাঁথা কারণ, কোনোটাই আর কামব্যাক হয় না। এই দুঃখে পড়ালেখাটা ছাড়তে না পারলেও ছেড়ে দিয়েছি বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ম্যাচ দেখা, যাতে অন্তত বুকের বাঁ পাশের ব্যথা কিছুটা হলেও কমে। তবে সোশ্যাল মিডিয়ার দুষ্টু অ্যালগরিদম আর সেই রেহাই দেয় নাকি! ঠিকই নিউজফিড একটু স্ক্রল করলেই চোখের সামনে বাঘের মুখোশে ‘বিড়াল’ খ্যাত দলটির লেটেস্ট ইনফো চলে আসে।
এই যে গতকালের কথাই বলি, একটু স্ক্রল করতেই দেখি বাংলাদেশ বনাম আফগানিস্তানের সাদা পোশাকের একটি ম্যাচের ক্লিপে হাহা–এর জোয়ার বয়ে গেছে। ঘটনা কী হয়েছে একটু ভালোভাবে বুঝতেই মনে হলো, এই ক্রিকেট যেন অস্কারজয়ী অভিনেতাদের যৌথ মহড়া!
তা নিয়ে গ্রুপ চ্যাটে বন্ধুদের সঙ্গে দেওয়া–নেওয়া শুরু করে দিলাম বিনোদন। জিজ্ঞেস করলাম এই ম্যাচ যদি হয় একটা সিনেমা, তাহলে সেটার নাম কী দেওয়া যায়? মাসুম বলে উঠল, ‘মিশন ড্র: একটি হার এড়ানোর গল্প’। যেখানে এক দলের চাওয়া যেভাবেই হোক জিততে হবে, আরেক দলের চাওয়া যেভাবেই হোক হার এড়িয়ে ড্র করতে হবে। রায়হান বলে উঠল, এই সিনেমাকে যে করেই হোক অ্যাওয়ার্ড জিতিয়ে দিতে চায় সে। প্রয়োজনে সে একটি নতুন একাডেমি খুলবে, যার নাম হবে ‘একাডেমি অব মোশন পিকচার্স অ্যান্ড ক্রিকেট কাউন্সিল’, যেখান থেকে প্রতিবছর দেওয়া হবে ক্রিকেটের অভিনয়ে অসামান্য অবদান রাখায় ‘ক্রিকেটীয় অস্কার’। জানতে চাইলাম তাহলে এ বছর এই ‘ক্রিকেটীয় অস্কার’ কে কে পাচ্ছে। রায়হান বলল, এই বছর ‘ক্রিকেটীয় অস্কারে’:
১। সেরা চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছে ‘মিশন ড্র: একটি হার এড়ানোর গল্প’।
এই সিনেমায় প্রথম চার দিন গতানুগতিক অন্যান্য সাদা পোশাকের ম্যাচের মতো গেলেও মূল ক্লাইম্যাক্স থ্রিলার শুরু হয় পঞ্চম দিনের শেষ দু’ঘণ্টায়, যা বেশ কয়েকবার সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার জেতা ‘অ্যাশেজ’–এও দেখা মেলে না। মূলত শেষ দু’ঘণ্টায়ই এই সিনেমাকে সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার এনে দিয়েছে। আরও ইন্টারেস্টিং বিষয় ‘ক্রিকেটীয় অস্কার’ ২০২৬–এর বেশকিছু বিভাগেও এই চলচ্চিত্রের দাপট দৃশ্যমান।
২। সেরা অভিনেতার পুরস্কার পেয়েছে ‘মিশন ড্র: একটি হার এড়ানোর গল্প’–এর আফগানিস্তানের খেলোয়াড় কাইস আহমেদ।
ম্যাচের কাট-অফ টাইম বিকাল ৫টা ১০ মিনিটে। তখন ঘড়ির কাঁটায় স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা বেজে ৫৭ মিনিট। ম্যাচ জিততে বাংলাদেশের প্রয়োজন দুই উইকেট আর ড্র করতে আফগানিস্তানের প্রয়োজন যেভাবেই হোক, আর ১৩ মিনিট মাঠে টিকে থাকা। নাটকের শুরু ওখান থেকেই। শেষ ওভারের আগের ওভারের প্রথম বল ব্যাটার কাইস আহমেদ ঠেকানোর ন্যানো সেকেন্ডের মাথায় হুট করে ইনজুরির অজুহাত দেখিয়ে মাটিতে শুয়ে গেল। মাসল ক্র্যাম্পের শিকার হয়েছে বোঝাতে চেয়ে মাটিতে এমন অতিপ্রাকৃতিক ভঙ্গিমায় শুয়ে পড়েছে স্বয়ং ডিক্যাপ্রিও এসে তার কাছে অভিনয় শিখতে চাওয়াটাও অস্বাভাবিক না।
বলে রাখা ভালো, ২০২৪ সালে ‘ক্রিকেটীয় অস্কারের’ সেরা অভিনেতার পুরস্কারটাও পেয়েছিল আফগানিস্তানের গুলবাদিন নাইব। মজার বিষয় সেবারও প্রতিপক্ষ ছিল বাংলাদেশ। টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের সেই ম্যাচে ডিএলএস সিস্টেমে চলতে থাকা ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটিং চলাকালীন হুট করেই ফিল্ডিংয়ে দাঁড়ানো গুলবাদিন একই জনরার ‘মাসল ক্র্যাম্প’ নিয়ে মাটিতে শুয়ে গিয়ে সময় ক্ষেপণ করে সেরা অভিনেতার পুরস্কার জিতে নেয়।
৩। সেরা আবহ সংগীতের পুরস্কার যৌথভাবে পেয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল এবং ধারাভাষ্যকার।
কাইস শুয়ে যেতে দেরি হয়নি প্রথম ধারাভাষ্যকার অট্টহাসিতে বলে উঠল, ‘কাইস আবারও এটা করে বসল। এই ঘটনা আমাকে ২০২৪ এর টি-টুয়েন্টি ওয়ার্ল্ডকাপে গুলবাদিনের করা অভিনয়কে মনে করিয়ে দিচ্ছে।’
দ্বিতীয় ধারাভাষ্যকার বললেন, ‘আমাদের সম্ভবত রিপ্লে দেখতে হবে কী ঘটনা ঘটেছে।’
প্রথম ধারাভাষ্যকার জবাবে অট্টহাসিতে জানালেন, ‘রিপ্লে দেখার প্রয়োজন নেই। আমরা বুঝতে পেরেছি কী ঘটেছে।’
আবার এইদিকে বাংলাদেশি খেলোয়াড়দেরও হাসাহাসির সুর শোনা যাচ্ছে। দর্শকেরা তো এই আবহ সংগীতে পুরোয় অবাক। ব্যাটসম্যান শুয়ে আছে মাঠে ইনজুরিতে কোথায় ব্যাকগ্রাউন্ডে একটু ইমোশনাল স্যাড সং ছাড়বে হৃদয়বিদারক দৃশ্যে! তা না করে হাসাহাসির সংগীত ছেড়ে দিয়েছে, যা হৃদয়বিদারক জনরার এই দৃশ্যকে বানিয়ে দিয়েছে কমেডি জনরার দৃশ্য। তাই সেরা আবহ সংগীতের পুরস্কার যৌথভাবে পেয়ে গেছে বাংলাদেশের খেলোয়াড় এবং ধারাভাষ্যকার।
৪। লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট পুরস্কার পেয়েছে সাকিব আল হাসান।
পুরো সিনেমায় কোথাও সাকিব আল হাসানের অস্তিত্ব না থাকলেও শেষ দু’ঘণ্টার ক্লাইম্যাক্সের শেষ ১৩ মিনিট সে প্রতিটি দর্শকের মস্তিষ্কে ঠিকই রাজত্ব করেছে। কারণ, সে মাঠে উপস্থিত থাকলে ঠিকই কোনো না কোনো এলাহিকাণ্ড ঘটে যেতই। সেটা তার ‘টাইম আউট’, ‘ওয়াইড–কাণ্ড’ কিংবা ‘স্টাম্প প্রলয়’ সিনেমাগুলো দেখলেই বোঝা যায়। হয়তো এই সিনেমাতেও তার কোনো একটা এলাহিকাণ্ড নিয়ে আলাদা একটা সিনেমা হলেও হতে পারত যাকে সিনেমার ভাষাতে বলা হয় Standalone Film। তার এই অনুপস্থিতি তাকে এনে দিয়েছে ‘ক্রিকেটীয় অস্কার’ ২০২৬–এর লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট পুরস্কার।




















