১ কোটি ৪৩ লাখ ভিউ! কী আছে আলোচিত তুর্কি সিরিজে
- আপডেট সময় : ০৯:৪২:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে

কয়েক বছর ধরেই বিশ্বজুড়ে আলোচনায় তুরস্কের সিরিজ। দেশের বিভিন্ন টিভিতে বাংলায় ডাবকৃত তুর্কি সিরিয়াল জনপ্রিয়তা পেয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব সিরিজের রিলসও ভাইরাল হয়েছে। বিশ্বজুড়ে তুর্কি সিরিজের জনপ্রিয়তা কাজে লাগাতে চাইছে ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলো। গত কয়েক বছরে নেটফ্লিক্সে বেশ কয়েকটি তুর্কি সিরিজ ও সিনেমা এসেছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার এসেছে ওয়েব সিরিজ ‘নট আ স্ট্রেঞ্জার’। মের্ত বায়কাল পরিচালিত সিরিজটি মুক্তির পর বিশ্বজুড়ে দর্শকের মধ্যে সাড়া ফেলেছে। মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই নন–ইংলিশ সিরিজের তালিকায় শীর্ষে উঠেছে সিরিজটি। প্রথম দুই সপ্তাহে সিরিজটির ভিউ ছিল ১ কোটি ৪৩ লাখ।
এক মায়ের গল্পসিরিজটির কেন্দ্রীয় চরিত্র ফুন্দা (এলচিন সাঙ্গু); চিত্রশিল্পী। মা হওয়ার পর সংসার ও সন্তানের দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে নিজের শিল্পীজীবন থেকে অনেকটাই দূরে সরে গেছেন। নিজের পুরোনো সত্তায় ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা থাকলেও বাস্তবতার চাপে তা সহজ হয়ে ওঠে না। মেয়ের দেখাশোনার জন্য একজন আয়া নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সেই সূত্রেই তাঁর জীবনে আসে নাজলি (মেলিস সেজেন)। ধীরে ধীরে তাঁর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন ফুন্দা। কিন্তু পরিস্থিতি পাল্টে যায় যখন ফুন্দার স্বামী ইলকার (ওজান দোলুনাই) বাড়ি ফিরে নাজলিকে দেখে চিনতে পারেন। অতীতে তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল! এই পুরোনো সম্পর্কের কথা সামনে আসার পর ফুন্দার জীবনের স্বস্তি উবে যায়। স্বামীর অতীত, সংসার আর নিজের অবস্থান নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেন তিনি। নাজলি কি কেবল চাকরির জন্য এই বাড়িতে এসেছেন, নাকি তাঁর অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে?
জনপ্রিয়তার কারণ কী‘নট আ স্ট্রেঞ্জার’–এর গল্পের সবচেয়ে বড় শক্তি চিত্রনাট্য। গল্প চেনা হলেও নির্মাতারা পর্দায় রোমাঞ্চ তৈরি করতে পেরেছেন। সুখী দাম্পত্যে থেকে বিশ্বাসের সংকট—চিত্রনাট্যের গাঁথুনি এতটা মজবুত যে দর্শকেরা আগ্রহে থাকেন পরের পর্বে কী ঘটবে। রহস্যময় নাজলির চরিত্রটিও ভালোভাবে লেখা। তিনি যত বেশি পরিবারের আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন, তাঁর অতীত সম্পর্কে জানার আগ্রহও তত বাড়ে। দর্শক কেবল পরবর্তী ঘটনা কী ঘটবে, তা জানতে চান না; চরিত্রগুলোর আচরণের আড়ালে কী লুকিয়ে আছে, সেটিও বোঝার চেষ্টা করেন।
সমালোচকদের মিশ্র প্রতিক্রিয়াচলচ্চিত্রভিত্তিক অনলাইন গণমাধ্যম ডিসাইডারের পর্যালোচনায় সিরিজটির প্রথম পর্বের প্রশংসা করা হয়েছে। ফুন্দার মানসিক চাপ, নিজের শিল্পীসত্তায় ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা এবং দুই নারী চরিত্রের মধ্যকার রহস্যকে গল্প এগিয়ে নেওয়ার কার্যকর উপাদান হিসেবে দেখা হয়েছে।তবে সব সমালোচক সমানভাবে সন্তুষ্ট নন। তুরস্কের ইংরেজি দৈনিক ডেইলি সাবাহর পর্যালোচনায় গল্পের অস্পষ্টতা এবং কিছু বিষয় বারবার ব্যাখ্যা করার প্রবণতা নিয়ে আপত্তি তোলা হয়েছে। দৈনিকটির মতে, গল্পে সম্ভাবনা থাকলেও চিত্রনাট্য সব সময় সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারেনি।























