ঢাকা ০৯:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
১ কোটি ৪৩ লাখ ভিউ! কী আছে আলোচিত তুর্কি সিরিজে অনিয়ম, তেল চুরি ও প্রাণহানি বন্ধ করুন কলোরাডোর সান জুয়ান রেঞ্জে: একপশলা মুক্তি আর টেলুরাইড জেলেপাড়ায় সারা বছর টানাটানির সংসার, দুর্গাপূজায় আনন্দের কমতি নেই জমি দান বা হেবায় দানকর, আয়কর ও সম্পত্তি হস্তান্তরের হিসাব কীভাবে করবেন মণ্ডপে মণ্ডপে উৎসবের আমেজ, আজ মহাষ্টমী রবীন্দ্রনাথের বিরোধিতা, নাকি বাঙালির বিভাজন ৬ মাস থেকে ৯ বছরের শিশুদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ২ সপ্তাহের মধ্যে হামের টিকা দিতে হবে হোয়াটসঅ্যাপের এই ৭টি গোপন ট্রিকস আপনার স্মার্টফোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতাই বদলে দেবে ক্রিকেট যেন অস্কারজয়ী অভিনেতাদের যৌথ মহড়া!

কানাডায় সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৪, আহত ৩৯

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৮:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কানাডার আলবার্টা প্রদেশের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৪ সেনাসদস্য নিহত ও অন্তত ৩৯ জন আহত হয়েছেন। তবে এই অগ্নিকাণ্ডের পেছনে কোনো সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ড বা নাশকতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি বলে নিশ্চিত করেছে সামরিক কর্তৃপক্ষ। শনিবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টার দিকে দেশটির অন্যতম ব্যস্ত সামরিক প্রশিক্ষণ ঘাঁটি ‘কানাডিয়ান ফোর্সেস বেস ওয়েনরাইট’-এ আগুনের সূত্রপাত হয়।

রোববার রাজধানী অটোয়া থেকে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এই ঘটনাকে ভয়াবহ ট্র্যাজেডি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আলবার্টার প্রাদেশিক সরকারের প্রধান (প্রিমিয়ার) ড্যানিয়েল স্মিথ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৩৯ জনের মধ্যে অন্তত ১৯ জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।

অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো সেনাসদস্যরা হলেন, সার্জেন্ট মরগান ওং এবং সৈনিক শন ফারেল, এইডান গুল্ডিং ও হেইডেন লাইকমার্ক।

মেজর জেনারেল ওয়েড রাটল্যান্ড সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনার সময় পদাতিক বাহিনীর সদস্যরা গ্রেনেড রেঞ্জ এবং অ্যাটাক রেঞ্জে আসল গোলাবারুদ ব্যবহার করে ‘উচ্চ-মাত্রার যুদ্ধ প্রশিক্ষণ’ চালাচ্ছিলেন। সেখানে গ্রেনেড লাঞ্চার, গ্রেনেড, ছোট অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ব্যবহার করা হচ্ছিল।

প্রশিক্ষণ স্থান থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার দূরে শুকনো ঘাসে প্রথম আগুনের সূত্রপাত হয়। অস্বাভাবিক তীব্র বাতাসের কারণে সেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং গতিপথ বদলে রেঞ্জের প্রশাসনিক এলাকার দিকে চলে আসে।

ঘাঁটিতে ছড়িয়ে পড়া আগুন নেভাতে সামরিক বাহিনী ও জরুরি সেবাদানকারী দলগুলো সারা রাত ধরে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে লড়াই করে। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে অগ্নিকাণ্ডের পেছনে কোনো সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ড বা নাশকতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি বলে নিশ্চিত করেছে সামরিক কর্তৃপক্ষ।

দুর্ঘটনার পরই আলবার্টা প্রদেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা সংকটজনক হওয়ায় তাদের এয়ার অ্যাম্বুলেন্স এবং ২২টি অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে ওয়েনরাইট থেকে প্রাদেশিক রাজধানী এডমন্টনের বড় হাসপাতালগুলোতে স্থানান্তর করা হয়েছে।

ওয়েনরাইট স্বাস্থ্যকেন্দ্রের এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, রাতভর সারিবদ্ধভাবে অ্যাম্বুলেন্স আসতে থাকে। অ্যাম্বুলেন্সের ভেতর থেকে আহতদের আর্তনাদ আসছিল, যা কোনো যুদ্ধক্ষেত্রের দৃশ্যের মতো মনে হচ্ছিল।

উল্লেখ্য, আলবার্টার রাজধানী এডমন্টন থেকে প্রায় ২১০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত ওয়েনরাইট ঘাঁটিটি কানাডীয় সামরিক বাহিনীর তাজা গোলাবারুদ (লাইভ-ফায়ার) অনুশীলনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। এখানে কানাডা ছাড়াও বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর সেনারা প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকেন। সাধারণত দিনে এই ঘাঁটিতে প্রায় ৬৯০ জন সামরিক কর্মী এবং ৩০০ জন বেসামরিক কর্মী অবস্থান করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

কানাডায় সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৪, আহত ৩৯

আপডেট সময় : ০৬:৩৮:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

কানাডার আলবার্টা প্রদেশের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৪ সেনাসদস্য নিহত ও অন্তত ৩৯ জন আহত হয়েছেন। তবে এই অগ্নিকাণ্ডের পেছনে কোনো সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ড বা নাশকতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি বলে নিশ্চিত করেছে সামরিক কর্তৃপক্ষ। শনিবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টার দিকে দেশটির অন্যতম ব্যস্ত সামরিক প্রশিক্ষণ ঘাঁটি ‘কানাডিয়ান ফোর্সেস বেস ওয়েনরাইট’-এ আগুনের সূত্রপাত হয়।

রোববার রাজধানী অটোয়া থেকে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এই ঘটনাকে ভয়াবহ ট্র্যাজেডি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আলবার্টার প্রাদেশিক সরকারের প্রধান (প্রিমিয়ার) ড্যানিয়েল স্মিথ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৩৯ জনের মধ্যে অন্তত ১৯ জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।

অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো সেনাসদস্যরা হলেন, সার্জেন্ট মরগান ওং এবং সৈনিক শন ফারেল, এইডান গুল্ডিং ও হেইডেন লাইকমার্ক।

মেজর জেনারেল ওয়েড রাটল্যান্ড সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনার সময় পদাতিক বাহিনীর সদস্যরা গ্রেনেড রেঞ্জ এবং অ্যাটাক রেঞ্জে আসল গোলাবারুদ ব্যবহার করে ‘উচ্চ-মাত্রার যুদ্ধ প্রশিক্ষণ’ চালাচ্ছিলেন। সেখানে গ্রেনেড লাঞ্চার, গ্রেনেড, ছোট অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ব্যবহার করা হচ্ছিল।

প্রশিক্ষণ স্থান থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার দূরে শুকনো ঘাসে প্রথম আগুনের সূত্রপাত হয়। অস্বাভাবিক তীব্র বাতাসের কারণে সেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং গতিপথ বদলে রেঞ্জের প্রশাসনিক এলাকার দিকে চলে আসে।

ঘাঁটিতে ছড়িয়ে পড়া আগুন নেভাতে সামরিক বাহিনী ও জরুরি সেবাদানকারী দলগুলো সারা রাত ধরে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে লড়াই করে। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে অগ্নিকাণ্ডের পেছনে কোনো সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ড বা নাশকতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি বলে নিশ্চিত করেছে সামরিক কর্তৃপক্ষ।

দুর্ঘটনার পরই আলবার্টা প্রদেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা সংকটজনক হওয়ায় তাদের এয়ার অ্যাম্বুলেন্স এবং ২২টি অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে ওয়েনরাইট থেকে প্রাদেশিক রাজধানী এডমন্টনের বড় হাসপাতালগুলোতে স্থানান্তর করা হয়েছে।

ওয়েনরাইট স্বাস্থ্যকেন্দ্রের এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, রাতভর সারিবদ্ধভাবে অ্যাম্বুলেন্স আসতে থাকে। অ্যাম্বুলেন্সের ভেতর থেকে আহতদের আর্তনাদ আসছিল, যা কোনো যুদ্ধক্ষেত্রের দৃশ্যের মতো মনে হচ্ছিল।

উল্লেখ্য, আলবার্টার রাজধানী এডমন্টন থেকে প্রায় ২১০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত ওয়েনরাইট ঘাঁটিটি কানাডীয় সামরিক বাহিনীর তাজা গোলাবারুদ (লাইভ-ফায়ার) অনুশীলনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। এখানে কানাডা ছাড়াও বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর সেনারা প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকেন। সাধারণত দিনে এই ঘাঁটিতে প্রায় ৬৯০ জন সামরিক কর্মী এবং ৩০০ জন বেসামরিক কর্মী অবস্থান করেন।