ঢাকা ০৯:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জনসমুদ্রে পরিণত রমনা পার্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৪:২০:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ ৫০ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পহেলা বৈশাখ ও বাংলা নববর্ষ উদযাপনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর রমনা পার্কে নেমেছে মানুষের ঢল।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ভোরের আলো ফুটতেই বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পার্ক ও আশপাশের এলাকা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় বাড়তে থাকে, আর বেলা গড়ানোর আগেই পুরো এলাকা পরিণত হয় এক বিশাল জনসমুদ্রে।

নতুন বছরকে বরণ করে নিতে শিশু থেকে শুরু করে তরুণ-তরুণী, মধ্যবয়সি থেকে প্রবীণ—সব বয়সি মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে, আবার কেউ বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে দল বেঁধে এসেছেন। সবার মাঝেই ছিল নতুন বছরের আনন্দ, নতুন আশা আর পুরোনো ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলার এক আন্তরিক চেষ্টা।

রমনা পার্ক ও এর আশপাশের সড়কজুড়ে বসেছে বৈশাখী মেলা। গ্রামীণ ঐতিহ্যের ছোঁয়া নিয়ে সাজানো এসব মেলায় পাওয়া গেছে পিঠা-পুলি, মিষ্টান্ন, হাতে তৈরি অলংকার, মাটির তৈরি জিনিসপত্র, বাঁশ ও কাঠের খেলনা, মুখোশসহ নানা রকম লোকজ পণ্য। দোকানগুলোর সামনে ভিড় ছিল ক্রেতা-দর্শনার্থীদের। অনেকেই স্মৃতি হিসেবে কিনে নিয়েছেন বৈশাখী উপহার।

খাবারের দোকানগুলোতেও ছিল ব্যাপক ভিড়। চিতই পিঠা, ভাপা পিঠা, ফুচকা, চটপটিসহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদ নিতে মানুষের আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে শিশুদের আনন্দ ছিল সীমাহীন—রঙিন বেলুন, খেলনা ও নানা বিনোদনের উপকরণ তাদের উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

রমনা বটমূল এলাকাতেও ছিল ব্যাপক মানুষের সমাগম। সেখানে সকাল থেকেই আয়োজন করা হয় বর্ষবরণ অনুষ্ঠান, যা দেখতে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হন। গান, কবিতা ও দেশীয় সংস্কৃতির নানা উপস্থাপনায় নতুন বছরকে স্বাগত জানান উপস্থিত দর্শনার্থীরা।

উৎসবকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ছিল জোরদার। বাংলাদেশ পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পুরো এলাকায় নজরদারিতে ছিলেন। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বসানো হয় চেকপোস্ট এবং সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়। পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায়ও নেওয়া হয় বিশেষ উদ্যোগ, যাতে যানজট নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

তবে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে কিছু এলাকায় চলাচলে ধীরগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে পার্কের প্রবেশপথ ও প্রধান সড়কগুলোতে মানুষের চাপ ছিল বেশি। তবুও সামগ্রিকভাবে উৎসবমুখর পরিবেশে কোনো বড় ধরনের বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি।

সব মিলিয়ে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে রমনা পার্ক পরিণত হয়েছে এক মিলনমেলায়, যেখানে শহরের কোলাহল ভুলে মানুষ ডুব দেয় বাঙালির হাজার বছরের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের রঙে। নতুন বছরের প্রথম দিনটি এখানে উদযাপিত হয়েছে আনন্দ, উচ্ছ্বাস, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির এক অনন্য সমন্বয়ে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

জনসমুদ্রে পরিণত রমনা পার্ক

আপডেট সময় : ০৪:২০:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

পহেলা বৈশাখ ও বাংলা নববর্ষ উদযাপনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর রমনা পার্কে নেমেছে মানুষের ঢল।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ভোরের আলো ফুটতেই বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পার্ক ও আশপাশের এলাকা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় বাড়তে থাকে, আর বেলা গড়ানোর আগেই পুরো এলাকা পরিণত হয় এক বিশাল জনসমুদ্রে।

নতুন বছরকে বরণ করে নিতে শিশু থেকে শুরু করে তরুণ-তরুণী, মধ্যবয়সি থেকে প্রবীণ—সব বয়সি মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে, আবার কেউ বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে দল বেঁধে এসেছেন। সবার মাঝেই ছিল নতুন বছরের আনন্দ, নতুন আশা আর পুরোনো ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলার এক আন্তরিক চেষ্টা।

রমনা পার্ক ও এর আশপাশের সড়কজুড়ে বসেছে বৈশাখী মেলা। গ্রামীণ ঐতিহ্যের ছোঁয়া নিয়ে সাজানো এসব মেলায় পাওয়া গেছে পিঠা-পুলি, মিষ্টান্ন, হাতে তৈরি অলংকার, মাটির তৈরি জিনিসপত্র, বাঁশ ও কাঠের খেলনা, মুখোশসহ নানা রকম লোকজ পণ্য। দোকানগুলোর সামনে ভিড় ছিল ক্রেতা-দর্শনার্থীদের। অনেকেই স্মৃতি হিসেবে কিনে নিয়েছেন বৈশাখী উপহার।

খাবারের দোকানগুলোতেও ছিল ব্যাপক ভিড়। চিতই পিঠা, ভাপা পিঠা, ফুচকা, চটপটিসহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদ নিতে মানুষের আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে শিশুদের আনন্দ ছিল সীমাহীন—রঙিন বেলুন, খেলনা ও নানা বিনোদনের উপকরণ তাদের উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

রমনা বটমূল এলাকাতেও ছিল ব্যাপক মানুষের সমাগম। সেখানে সকাল থেকেই আয়োজন করা হয় বর্ষবরণ অনুষ্ঠান, যা দেখতে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হন। গান, কবিতা ও দেশীয় সংস্কৃতির নানা উপস্থাপনায় নতুন বছরকে স্বাগত জানান উপস্থিত দর্শনার্থীরা।

উৎসবকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ছিল জোরদার। বাংলাদেশ পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পুরো এলাকায় নজরদারিতে ছিলেন। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বসানো হয় চেকপোস্ট এবং সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়। পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায়ও নেওয়া হয় বিশেষ উদ্যোগ, যাতে যানজট নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

তবে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে কিছু এলাকায় চলাচলে ধীরগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে পার্কের প্রবেশপথ ও প্রধান সড়কগুলোতে মানুষের চাপ ছিল বেশি। তবুও সামগ্রিকভাবে উৎসবমুখর পরিবেশে কোনো বড় ধরনের বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি।

সব মিলিয়ে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে রমনা পার্ক পরিণত হয়েছে এক মিলনমেলায়, যেখানে শহরের কোলাহল ভুলে মানুষ ডুব দেয় বাঙালির হাজার বছরের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের রঙে। নতুন বছরের প্রথম দিনটি এখানে উদযাপিত হয়েছে আনন্দ, উচ্ছ্বাস, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির এক অনন্য সমন্বয়ে।