ঢাকা ০৬:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
২৮ বিশিষ্টজনের বিবৃতি: স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত ঠিক করে দিতে পারে না কে মুক্তিযোদ্ধা, কে নন যশোর বোর্ডে ৫৫ ভাগ শিক্ষার্থী পাস করেননি, কমেছে জিপিএ-৫ ‘বাঁধনহারা’র পাতায় মুক্তির খোঁজ: নজরুলের উপন্যাস নিয়ে পাঠচক্র এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ–৫, তাঁর নাটকের ভিউ সবচেয়ে বেশি… বেতন বৃদ্ধির দাবিতে তিন ঘণ্টা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ, পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ খেলাপি ঋণের জালে আটকা ব্যাংকিং খাতের ভবিষ্যৎ কী এইচএসসিতে ২২ বছরের মধ্যে পাসের হার কম, কিন্তু কেন এই বিপর্যয় কুমিল্লা বোর্ডে এবার ১৫ প্রতিষ্ঠানের কেউ পাস করেননি খাবার না দেওয়ায় কাঠের চলা দিয়ে পিটুনি, বাবুর্চির পর আহত নারীর মৃত্যু ইতালিজুড়ে ধর্মঘট, রাস্তায় হাজারো মানুষ

সীমান্তে বাফার জোন, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ যুদ্ধের প্রস্তুতি

সীমান্তে বাফার জোন, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ যুদ্ধের প্রস্তুতি
  • আপডেট সময় : ০৯:০০:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬ ৫৬ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চললেও মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা থেমে নেই। বরং ইসরাইল গাজা, লেবানন ও সিরিয়ার ভেতরে ‘নিরাপত্তাবলয়’ বা বাফার জোন গড়ে তুলে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের কৌশল এগিয়ে নিচ্ছে বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

এই কৌশলের লক্ষ্য শত্রুপক্ষকে পুরোপুরি নির্মূল না করে তাদের দুর্বল করে সীমিত নিয়ন্ত্রণে রাখা। ফলে সীমান্তের বাইরেই সামরিক উপস্থিতি বাড়ছে, পাশাপাশি বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি ও ধ্বংসের মাত্রা।

বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবণতা মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করছে।

ইসরাইলি সামরিক নীতিতে সাম্প্রতিক সময়ে বড় পরিবর্তন এসেছে বলে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের ধারণা। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর দেশটির কৌশল আরও আক্রমণাত্মক ও আগাম প্রতিরোধমূলক অবস্থানে গেছে। এখন সম্ভাব্য হুমকি শনাক্ত হলেই আগাম অভিযান চালানো হচ্ছে বলে সামরিক সূত্রগুলো বলছে।

লেবাননে এই কৌশলের প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলে সামরিক অভিযান চালিয়ে সীমান্ত থেকে ভেতরের দিকে একটি নিরাপত্তা অঞ্চল তৈরি করার চেষ্টা চলছে, যা লিতানি নদী পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। এতে বিপুল সংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইসরাইলি সেনাবাহিনীর দাবি, সীমান্তের কাছাকাছি অনেক গ্রামে অস্ত্র ও সামরিক কার্যক্রমের উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যার কারণে এসব এলাকা লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।

কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের বিশ্লেষক নাথান ব্রাউন বলেন, এই ধরনের নীতি দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতকে স্থায়ী রূপ দিতে পারে, যেখানে যুদ্ধ শেষ করার চেয়ে নিয়ন্ত্রণে রাখাই মূল উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়ায়।

লেবাননে বাফার জোন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও চলছে। কিছু নেতা এই সীমান্ত সম্প্রসারণের পক্ষে মত দিলেও সামরিক কর্তৃপক্ষ বলছে, এটি স্থায়ী সীমান্ত নয়, বরং একটি নজরদারি ও অভিযানভিত্তিক এলাকা।

আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা বেসামরিক স্থাপনা ধ্বংস নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, সামরিক প্রয়োজন ছাড়া বেসামরিক সম্পত্তি ধ্বংস করা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই কৌশল স্বল্পমেয়াদে নিরাপত্তা দিলেও দীর্ঘমেয়াদে তা নতুন ঝুঁকি ও সামরিক চাপ তৈরি করতে পারে, যা পুরো অঞ্চলে সংঘাত আরও জটিল করে তুলবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

সীমান্তে বাফার জোন, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ যুদ্ধের প্রস্তুতি

আপডেট সময় : ০৯:০০:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চললেও মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা থেমে নেই। বরং ইসরাইল গাজা, লেবানন ও সিরিয়ার ভেতরে ‘নিরাপত্তাবলয়’ বা বাফার জোন গড়ে তুলে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের কৌশল এগিয়ে নিচ্ছে বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

এই কৌশলের লক্ষ্য শত্রুপক্ষকে পুরোপুরি নির্মূল না করে তাদের দুর্বল করে সীমিত নিয়ন্ত্রণে রাখা। ফলে সীমান্তের বাইরেই সামরিক উপস্থিতি বাড়ছে, পাশাপাশি বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি ও ধ্বংসের মাত্রা।

বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবণতা মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করছে।

ইসরাইলি সামরিক নীতিতে সাম্প্রতিক সময়ে বড় পরিবর্তন এসেছে বলে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের ধারণা। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর দেশটির কৌশল আরও আক্রমণাত্মক ও আগাম প্রতিরোধমূলক অবস্থানে গেছে। এখন সম্ভাব্য হুমকি শনাক্ত হলেই আগাম অভিযান চালানো হচ্ছে বলে সামরিক সূত্রগুলো বলছে।

লেবাননে এই কৌশলের প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলে সামরিক অভিযান চালিয়ে সীমান্ত থেকে ভেতরের দিকে একটি নিরাপত্তা অঞ্চল তৈরি করার চেষ্টা চলছে, যা লিতানি নদী পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। এতে বিপুল সংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইসরাইলি সেনাবাহিনীর দাবি, সীমান্তের কাছাকাছি অনেক গ্রামে অস্ত্র ও সামরিক কার্যক্রমের উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যার কারণে এসব এলাকা লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।

কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের বিশ্লেষক নাথান ব্রাউন বলেন, এই ধরনের নীতি দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতকে স্থায়ী রূপ দিতে পারে, যেখানে যুদ্ধ শেষ করার চেয়ে নিয়ন্ত্রণে রাখাই মূল উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়ায়।

লেবাননে বাফার জোন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও চলছে। কিছু নেতা এই সীমান্ত সম্প্রসারণের পক্ষে মত দিলেও সামরিক কর্তৃপক্ষ বলছে, এটি স্থায়ী সীমান্ত নয়, বরং একটি নজরদারি ও অভিযানভিত্তিক এলাকা।

আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা বেসামরিক স্থাপনা ধ্বংস নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, সামরিক প্রয়োজন ছাড়া বেসামরিক সম্পত্তি ধ্বংস করা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই কৌশল স্বল্পমেয়াদে নিরাপত্তা দিলেও দীর্ঘমেয়াদে তা নতুন ঝুঁকি ও সামরিক চাপ তৈরি করতে পারে, যা পুরো অঞ্চলে সংঘাত আরও জটিল করে তুলবে।