ঢাকা ০১:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সুন্দরগঞ্জে মাদকবিরোধী লাঠি মিছিল ডোমারে মাদক সম্রাজ্ঞী আটক, ৩০টির বেশি মামলা মেয়েকে জড়িয়ে মাদরাসা প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগ তুলে প্রতিষ্ঠানে মবের চেষ্টা পিরোজপুরে জিয়া মঞ্চের কর্মী সভা স্থগিতের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন হাতিয়ায় মৃত কৃষকের পরিবার পেল দেড় লাখ টাকার বিমার চেক গাইবান্ধায় ২ কেজি গাঁজাসহ নারী গ্রেফতার   ক্যাশমেমো ছাড়া সার বিক্রি, দুই বিসিআইসি ডিলারকে ৪২ হাজার টাকা জরিমানা সুন্দরগঞ্জে মাদকবিরোধী মশাল মিছিল গাইবান্ধায় হেরোইন-ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার ভূমি গবেষক সেলিমের ‘ডিজিটাল ভূমি কার্ড’ উদ্ভাবন, অবসান হবে ‘জোর যার মুলুক তার’ নীতি

সীমান্তে বাফার জোন, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ যুদ্ধের প্রস্তুতি

সীমান্তে বাফার জোন, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ যুদ্ধের প্রস্তুতি
  • আপডেট সময় : ০৯:০০:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬ ৪৭ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চললেও মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা থেমে নেই। বরং ইসরাইল গাজা, লেবানন ও সিরিয়ার ভেতরে ‘নিরাপত্তাবলয়’ বা বাফার জোন গড়ে তুলে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের কৌশল এগিয়ে নিচ্ছে বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

এই কৌশলের লক্ষ্য শত্রুপক্ষকে পুরোপুরি নির্মূল না করে তাদের দুর্বল করে সীমিত নিয়ন্ত্রণে রাখা। ফলে সীমান্তের বাইরেই সামরিক উপস্থিতি বাড়ছে, পাশাপাশি বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি ও ধ্বংসের মাত্রা।

বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবণতা মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করছে।

ইসরাইলি সামরিক নীতিতে সাম্প্রতিক সময়ে বড় পরিবর্তন এসেছে বলে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের ধারণা। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর দেশটির কৌশল আরও আক্রমণাত্মক ও আগাম প্রতিরোধমূলক অবস্থানে গেছে। এখন সম্ভাব্য হুমকি শনাক্ত হলেই আগাম অভিযান চালানো হচ্ছে বলে সামরিক সূত্রগুলো বলছে।

লেবাননে এই কৌশলের প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলে সামরিক অভিযান চালিয়ে সীমান্ত থেকে ভেতরের দিকে একটি নিরাপত্তা অঞ্চল তৈরি করার চেষ্টা চলছে, যা লিতানি নদী পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। এতে বিপুল সংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইসরাইলি সেনাবাহিনীর দাবি, সীমান্তের কাছাকাছি অনেক গ্রামে অস্ত্র ও সামরিক কার্যক্রমের উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যার কারণে এসব এলাকা লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।

কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের বিশ্লেষক নাথান ব্রাউন বলেন, এই ধরনের নীতি দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতকে স্থায়ী রূপ দিতে পারে, যেখানে যুদ্ধ শেষ করার চেয়ে নিয়ন্ত্রণে রাখাই মূল উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়ায়।

লেবাননে বাফার জোন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও চলছে। কিছু নেতা এই সীমান্ত সম্প্রসারণের পক্ষে মত দিলেও সামরিক কর্তৃপক্ষ বলছে, এটি স্থায়ী সীমান্ত নয়, বরং একটি নজরদারি ও অভিযানভিত্তিক এলাকা।

আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা বেসামরিক স্থাপনা ধ্বংস নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, সামরিক প্রয়োজন ছাড়া বেসামরিক সম্পত্তি ধ্বংস করা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই কৌশল স্বল্পমেয়াদে নিরাপত্তা দিলেও দীর্ঘমেয়াদে তা নতুন ঝুঁকি ও সামরিক চাপ তৈরি করতে পারে, যা পুরো অঞ্চলে সংঘাত আরও জটিল করে তুলবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

সীমান্তে বাফার জোন, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ যুদ্ধের প্রস্তুতি

আপডেট সময় : ০৯:০০:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চললেও মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা থেমে নেই। বরং ইসরাইল গাজা, লেবানন ও সিরিয়ার ভেতরে ‘নিরাপত্তাবলয়’ বা বাফার জোন গড়ে তুলে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের কৌশল এগিয়ে নিচ্ছে বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

এই কৌশলের লক্ষ্য শত্রুপক্ষকে পুরোপুরি নির্মূল না করে তাদের দুর্বল করে সীমিত নিয়ন্ত্রণে রাখা। ফলে সীমান্তের বাইরেই সামরিক উপস্থিতি বাড়ছে, পাশাপাশি বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি ও ধ্বংসের মাত্রা।

বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবণতা মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করছে।

ইসরাইলি সামরিক নীতিতে সাম্প্রতিক সময়ে বড় পরিবর্তন এসেছে বলে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের ধারণা। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর দেশটির কৌশল আরও আক্রমণাত্মক ও আগাম প্রতিরোধমূলক অবস্থানে গেছে। এখন সম্ভাব্য হুমকি শনাক্ত হলেই আগাম অভিযান চালানো হচ্ছে বলে সামরিক সূত্রগুলো বলছে।

লেবাননে এই কৌশলের প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলে সামরিক অভিযান চালিয়ে সীমান্ত থেকে ভেতরের দিকে একটি নিরাপত্তা অঞ্চল তৈরি করার চেষ্টা চলছে, যা লিতানি নদী পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। এতে বিপুল সংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইসরাইলি সেনাবাহিনীর দাবি, সীমান্তের কাছাকাছি অনেক গ্রামে অস্ত্র ও সামরিক কার্যক্রমের উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যার কারণে এসব এলাকা লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।

কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের বিশ্লেষক নাথান ব্রাউন বলেন, এই ধরনের নীতি দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতকে স্থায়ী রূপ দিতে পারে, যেখানে যুদ্ধ শেষ করার চেয়ে নিয়ন্ত্রণে রাখাই মূল উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়ায়।

লেবাননে বাফার জোন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও চলছে। কিছু নেতা এই সীমান্ত সম্প্রসারণের পক্ষে মত দিলেও সামরিক কর্তৃপক্ষ বলছে, এটি স্থায়ী সীমান্ত নয়, বরং একটি নজরদারি ও অভিযানভিত্তিক এলাকা।

আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা বেসামরিক স্থাপনা ধ্বংস নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, সামরিক প্রয়োজন ছাড়া বেসামরিক সম্পত্তি ধ্বংস করা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই কৌশল স্বল্পমেয়াদে নিরাপত্তা দিলেও দীর্ঘমেয়াদে তা নতুন ঝুঁকি ও সামরিক চাপ তৈরি করতে পারে, যা পুরো অঞ্চলে সংঘাত আরও জটিল করে তুলবে।