ঢাকা ০৮:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সৌদি আরবে আগুনে নিহত নওগাঁর পাঁচজনের লাশ বাড়িতে ফিরল তিন মাস পর ব্র্যাকে ডিপ্লোমা পাসে চাকরির সুযোগ, আছে পিতৃত্বকালীন ছুটি এবার আপনিও হতে পারেন ফ্যাশন হাউসের মডেল, পাবেন মাসিক বেতন জামায়াত–কওমির বিরোধ কেন, কোথা থেকে এর শুরু ২৮ বিশিষ্টজনের বিবৃতি: স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত ঠিক করে দিতে পারে না কে মুক্তিযোদ্ধা, কে নন যশোর বোর্ডে ৫৫ ভাগ শিক্ষার্থী পাস করেননি, কমেছে জিপিএ-৫ ‘বাঁধনহারা’র পাতায় মুক্তির খোঁজ: নজরুলের উপন্যাস নিয়ে পাঠচক্র এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ–৫, তাঁর নাটকের ভিউ সবচেয়ে বেশি… বেতন বৃদ্ধির দাবিতে তিন ঘণ্টা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ, পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ খেলাপি ঋণের জালে আটকা ব্যাংকিং খাতের ভবিষ্যৎ কী

এক বিয়েতে দুই কাবিননামা, কাজী কারাগারে

নীলফামারী প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৫:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬ ৬৩ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিয়ের ভুয়া কাবিননামা প্রদানের অভিযোগে নীলফামারী সদরের কুন্দুপুকুর ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) আব্দুল মজিদ ওরফে এম এ মজিদকে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) কিশোরগঞ্জ আমলী আদালতের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রায়হানুল ইসলাম চৌধুরী এ আদেশ দেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১৫ এপ্রিল নীলফামারী সদরের হাড়োয়া ধনীপাড়া এলাকার আলিমুদ্দিনের ছেলে রমজান আলীর সঙ্গে কিশোরগঞ্জ উপজেলার উত্তর কালিকাপুর খামাতপাড়া গ্রামের ছাইদুল ইসলামের মেয়ে মেরি আক্তারের বিয়ে হয়। ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা দেনমোহর ধার্য করে মুসলিম শরিয়াহ অনুযায়ী বিয়ে সম্পন্ন হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের একটি সন্তানও রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের পর স্বামী রমজান আলী স্ত্রীর কাছে ২ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। টাকা দিতে না পারায় মেরি আক্তারের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু হয়। এ ঘটনায় তিনি আদালতে মামলা করেন।

মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলাকালে বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষ আদালতে কাবিননামা দাখিল করেন। একই বিয়ের বিপরীতে দুটি ভিন্ন কাবিননামা জমা পড়ায় আদালতের সন্দেহ সৃষ্টি হয়। পরবর্তী পর্যালোচনায় কাজী আব্দুল মজিদের দেওয়া কাবিননামাগুলো ভিন্ন ও ত্রুটিপূর্ণ প্রমাণিত হয়। জালিয়াতির বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ায় আদালত তাকে তাৎক্ষণিক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. কামরুজ্জামান শাসন বলেন, একই বিয়ের বিপরীতে দুই ধরনের কাবিননামা প্রদান করে কাজী আইন লঙ্ঘন করেছেন। আদালতে জালিয়াতি প্রমাণিত হওয়ায় তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজী আব্দুল মজিদের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে।

জেলা কাজী সমিতির সভাপতি আব্দুল আজিজ বলেন, কুন্দুপুকুর ইউনিয়নে কাজী নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। এরপরও আব্দুল মজিদ বেপরোয়া হয়ে ভুয়া কাবিননামা তৈরি করে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

এক বিয়েতে দুই কাবিননামা, কাজী কারাগারে

আপডেট সময় : ০৮:৩৫:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

বিয়ের ভুয়া কাবিননামা প্রদানের অভিযোগে নীলফামারী সদরের কুন্দুপুকুর ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) আব্দুল মজিদ ওরফে এম এ মজিদকে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) কিশোরগঞ্জ আমলী আদালতের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রায়হানুল ইসলাম চৌধুরী এ আদেশ দেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১৫ এপ্রিল নীলফামারী সদরের হাড়োয়া ধনীপাড়া এলাকার আলিমুদ্দিনের ছেলে রমজান আলীর সঙ্গে কিশোরগঞ্জ উপজেলার উত্তর কালিকাপুর খামাতপাড়া গ্রামের ছাইদুল ইসলামের মেয়ে মেরি আক্তারের বিয়ে হয়। ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা দেনমোহর ধার্য করে মুসলিম শরিয়াহ অনুযায়ী বিয়ে সম্পন্ন হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের একটি সন্তানও রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের পর স্বামী রমজান আলী স্ত্রীর কাছে ২ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। টাকা দিতে না পারায় মেরি আক্তারের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু হয়। এ ঘটনায় তিনি আদালতে মামলা করেন।

মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলাকালে বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষ আদালতে কাবিননামা দাখিল করেন। একই বিয়ের বিপরীতে দুটি ভিন্ন কাবিননামা জমা পড়ায় আদালতের সন্দেহ সৃষ্টি হয়। পরবর্তী পর্যালোচনায় কাজী আব্দুল মজিদের দেওয়া কাবিননামাগুলো ভিন্ন ও ত্রুটিপূর্ণ প্রমাণিত হয়। জালিয়াতির বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ায় আদালত তাকে তাৎক্ষণিক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. কামরুজ্জামান শাসন বলেন, একই বিয়ের বিপরীতে দুই ধরনের কাবিননামা প্রদান করে কাজী আইন লঙ্ঘন করেছেন। আদালতে জালিয়াতি প্রমাণিত হওয়ায় তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজী আব্দুল মজিদের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে।

জেলা কাজী সমিতির সভাপতি আব্দুল আজিজ বলেন, কুন্দুপুকুর ইউনিয়নে কাজী নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। এরপরও আব্দুল মজিদ বেপরোয়া হয়ে ভুয়া কাবিননামা তৈরি করে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন।