ঢাকা ০১:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এমবাপ্পের ওপর ক্ষোভ কেন, জিজ্ঞেস করেও জানতে পারছেন না চীনারা গ্যাসের আগুন জ্বলছেই, ১৫ দিন পর্যবেক্ষণের পর রিলিফ কূপ খননের পরিকল্পনা পেট্রোবাংলার যাত্রাবাড়ীতে মাদক অভিযানে এসআরবি-পুলিশের ওপর হামলা, গ্রেপ্তার ২৬ জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ নগ্ন দৃশ্যের শুটিংয়ে বহিরাগত, ক্ষুব্ধ নায়িকা নেতানিয়াহুকে হটিয়ে সরকার গঠনে আলোচনায় বিরোধীরা তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের জন্য নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করা হবে রোববার: শ্রমমন্ত্রী লোকজন জড়ো হয়ে ঘিরে ধরে পুলিশকে, ফাঁকে পালিয়ে যায় হত্যা মামলার আসামি হত্যা ও ডাকাতির মামলায় মাগুরা পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক গ্রেপ্তার প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে উন্নয়ন ও বিনিয়োগ অংশীদারত্ব জোরদার হয়েছে: হুমায়ুন কবির ছাগল খুঁজতে গিয়ে চিতা বাঘের সামনে পড়েন শরীফা বেগম

ফুলজোড় নদ দূষণের বিরুদ্ধে আন্দোলন

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৪:৪০:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬ ৫২ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ফুলজোড় নদী করতোয়া দূষণের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় পরিবেশকর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তি পরে আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন বগুড়ার শেরপুর উপজেলার সীমাবাড়ি ইউনিয়নের বেটখৈর গ্রামের তৌহিদুর রহমান ওরফে বাবু (৪৫) ও সীমাবাড়ি বাজার এলাকার আলী রেজা বিশ্বাস (৫০)। রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সীমাবাড়ি বাজার এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার দুপুরে বগুড়া আদালতে পাঠানো হলে বিকেলে আদালত জামিন মঞ্জুর করেন।

পুলিশ জানায়, এসআর কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড-এর সিকিউরিটি ইনচার্জ গোলাম কিবরিয়া বাদী হয়ে শেরপুর থানায় চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্তরা কোম্পানির কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং হুমকি দেন।

তবে মামলার আসামি ও পরিবেশকর্মীরা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার শিমলা গ্রামের ফাহিম ফয়সাল বলেন, এসআর কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ও মজুমদার প্রোডাক্টস লিমিটেডের বর্জ্য করতোয়া ও বাঙালী নদীতে ফেলা হচ্ছে, যার ফলে পানি দূষিত হয়ে মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণী মারা যাচ্ছে। এই বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে তাঁরা শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন ও স্মারকলিপি কর্মসূচি পালন করেন। কিন্তু আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণেই তাঁদের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা’ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

মামলার আসামি ও পরিবেশকর্মী ফয়সাল বিশ্বাস বলেন, “নদীর পানি দূষণের বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনতেই আমরা আন্দোলন করেছি। কোনো চাঁদাবাজির সঙ্গে আমরা জড়িত নই।”

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কারখানাটি বগুড়া–৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ-এর পরিবারের মালিকানাধীন। তবে কারখানা কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, তাদের বর্জ্য পরিশোধনাগারের মাধ্যমে শোধন করা হয় এবং নদীতে বিষাক্ত বর্জ্য ফেলার অভিযোগ সঠিক নয়।

শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী বলেন, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন।

পরিবেশকর্মীরা জানান, ফুলজোড় নদী শেরপুর, রায়গঞ্জ ও উল্লাপাড়া উপজেলার লাখো মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে জড়িত। নদী রক্ষায় তাঁদের আন্দোলন চলবে এবং দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হবে।

ইঞ্জিনিয়ার সাব্বির আহমেদ বলেন, “ফুলজোড় নদ দূষণের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে আমরা ছয়জন মামলা খেয়েছি। নদী রক্ষার দাবি জানানো কোনো অপরাধ নয়। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত এবং দূষণ বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা চাই।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

ফুলজোড় নদ দূষণের বিরুদ্ধে আন্দোলন

আপডেট সময় : ০৪:৪০:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

ফুলজোড় নদী করতোয়া দূষণের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় পরিবেশকর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তি পরে আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন বগুড়ার শেরপুর উপজেলার সীমাবাড়ি ইউনিয়নের বেটখৈর গ্রামের তৌহিদুর রহমান ওরফে বাবু (৪৫) ও সীমাবাড়ি বাজার এলাকার আলী রেজা বিশ্বাস (৫০)। রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সীমাবাড়ি বাজার এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার দুপুরে বগুড়া আদালতে পাঠানো হলে বিকেলে আদালত জামিন মঞ্জুর করেন।

পুলিশ জানায়, এসআর কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড-এর সিকিউরিটি ইনচার্জ গোলাম কিবরিয়া বাদী হয়ে শেরপুর থানায় চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্তরা কোম্পানির কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং হুমকি দেন।

তবে মামলার আসামি ও পরিবেশকর্মীরা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার শিমলা গ্রামের ফাহিম ফয়সাল বলেন, এসআর কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ও মজুমদার প্রোডাক্টস লিমিটেডের বর্জ্য করতোয়া ও বাঙালী নদীতে ফেলা হচ্ছে, যার ফলে পানি দূষিত হয়ে মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণী মারা যাচ্ছে। এই বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে তাঁরা শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন ও স্মারকলিপি কর্মসূচি পালন করেন। কিন্তু আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণেই তাঁদের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা’ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

মামলার আসামি ও পরিবেশকর্মী ফয়সাল বিশ্বাস বলেন, “নদীর পানি দূষণের বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনতেই আমরা আন্দোলন করেছি। কোনো চাঁদাবাজির সঙ্গে আমরা জড়িত নই।”

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কারখানাটি বগুড়া–৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ-এর পরিবারের মালিকানাধীন। তবে কারখানা কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, তাদের বর্জ্য পরিশোধনাগারের মাধ্যমে শোধন করা হয় এবং নদীতে বিষাক্ত বর্জ্য ফেলার অভিযোগ সঠিক নয়।

শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী বলেন, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন।

পরিবেশকর্মীরা জানান, ফুলজোড় নদী শেরপুর, রায়গঞ্জ ও উল্লাপাড়া উপজেলার লাখো মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে জড়িত। নদী রক্ষায় তাঁদের আন্দোলন চলবে এবং দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হবে।

ইঞ্জিনিয়ার সাব্বির আহমেদ বলেন, “ফুলজোড় নদ দূষণের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে আমরা ছয়জন মামলা খেয়েছি। নদী রক্ষার দাবি জানানো কোনো অপরাধ নয়। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত এবং দূষণ বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা চাই।”