লোকজন জড়ো হয়ে ঘিরে ধরে পুলিশকে, ফাঁকে পালিয়ে যায় হত্যা মামলার আসামি
- আপডেট সময় : ১২:০৪:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে

নোয়াখালীর হাতিয়ায় হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত এক আসামিকে ধরতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েছে পুলিশ। এ সময় আসামির স্বজন ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে পুলিশের কাছ থেকে আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়। আজ শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে উপজেলার সুখচর ইউনিয়নের রামচরণ বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, ছিনিয়ে নেওয়া আসামির নাম নিজাম উদ্দিন (৪৫)। তিনি সুখচর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চর আমানুল্লাহ গ্রামের বাসিন্দা। জাগলার চরের একটি হত্যা মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। ঘটনার পর ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ পাঠিয়ে বিশেষ অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
.
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে প্রথম আলোকে বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ রামচরণ বাজারে অভিযান চালায়। বাজারের একটি দোকানে থাকা নিজাম উদ্দিনকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেওয়ার সময় তাঁর স্বজন ও স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে পুলিশকে ঘিরে ধরেন। তাঁরা হট্টগোল শুরু করেন।
ওসি কবির হোসেন বলেন, একপর্যায়ে আসামির স্বজন ও স্থানীয় লোকজন উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি করেন। এই সুযোগে তাঁরা নিজাম উদ্দিনকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন। এ সময় তাঁদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়।
.
থানা সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাঘাট ও যাতায়াতব্যবস্থার অবনতির কারণে ওই এলাকায় পুলিশের যাতায়াত কঠিন ছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় সেখানে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা এবং এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর হাতিয়ার সুখচর ইউনিয়নের ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডসংলগ্ন মেঘনায় জেগে ওঠা নতুন জাগলার চরের দখল নিয়ে তিনটি সন্ত্রাসী বাহিনীর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। বাহিনী তিনটি হলো শামছুদ্দিন ওরফে কোপা শামছু, আলাউদ্দিন ও ফরিদ কমান্ডারের নেতৃত্বাধীন দল। সংঘর্ষে তিন পক্ষের লোকজনই কমবেশি হতাহত হন।
.
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রথমে শামছুর ছেলে মোবারক হোসেন, আবুল কাশেম, হক সাব ও কামাল উদ্দিনের লাশ উদ্ধার করে। পরে ২৫ ডিসেম্বর শামছুদ্দিন ওরফে কোপা শামছুর (৫৫) লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি ‘সন্ত্রাসী’ শামছু বাহিনীর প্রধান হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ওই ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার আসামি হলেন আজ পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া নিজাম উদ্দিন।
























