ডাক্তার সংকট উত্তরণে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আট ডাক্তারের যোগদান
- আপডেট সময় : ০৩:০৫:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৪৫ বার পড়া হয়েছে

দীর্ঘদিনের ডাক্তার সংকটে ভুগছিল কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। অবশেষে বৃহস্পতিবার ৮ জন নতুন ডাক্তারের যোগদানে ডাক্তার সংকট কাটিয়ে উত্তরণের পথে এগোচ্ছে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে ৮ জন মেডিকেল অফিসার যোগদান করায় মোট ডাক্তারের সংখ্যা প্রায় ২২ জনে দাঁড়িয়েছে। তবে এর ভিতরে পাঁচ জন ডাক্তার ডেপুটেশনে অন্যত্র চলে গেছেন। ফলে প্রায় তিন লক্ষ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার জন্য একমাত্র স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্যসেবার মান আরও উন্নত হবে বলে অভিজ্ঞ মহলের ধারণা।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা রেহে নেওয়াজ জানান, নতুন করে যারা যোগদান করেছেন তারা হলেন, সরকারি সার্জন ও মেডিকেল অফিসার (অফথালমোলজি) নিতুন মন্ডল, সহকারী সার্জন ও মেডিকেল অফিসার (অর্থপেডিকস ও ট্রমাটোলজি) মোয়াজ্জেম হোসেন, সরকারি ডেন্টাল সার্জন কৃষ্ণা কর্মকার, মেডিকেল অফিসার (মেডিসিন) তন্ময় তনু সরকার, মেডিকেল অফিসার (সার্জারি) জিহাদুল ইসলাম, মেডিকেল অফিসার (পেডিয়াট্রিকস) তন্ময় বসাক, মেডিকেল অফিসার (গাইনি এন্ড অবস) শিমুল হালদার, মেডিকেল অফিসার শারমিন ইয়াসমিন।
কেশবপুর উপজেলার একমাত্র সরকারি এই স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক স্বল্পতার কারণে রোগীদের ভোগান্তি পোহাতে হত। বহির্বিভাগ ও অন্তর্বিভাগে পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকায় সেবার মান ব্যাহত হচ্ছিল। এখানে কোন ডাক্তার যোগদান করলেও তারা বেশিদিন থাকেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সময় পত্র-পত্রিকায় কেশবপুর প্রেসক্লাব ও স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীরা লেখালেখি করেন। নতুন সরকার গঠনের পরপরই অবশেষে একসঙ্গে ৮ জন মেডিকেল অফিসারের যোগদানে সেই সংকট অনেকটাই লাঘব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।
দীর্ঘদিন মাত্র পাঁচ সাত জন ডাক্তার নিয়ে খুড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছিল জনবহুল এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। রোগীরা ঠিকমতো চিকিৎসা সেবা পাচ্ছিলেন না। বারবার ডাক্তারের আবেদন করলেও ডাক্তার পাওয়া যাচ্ছিল না। অবশেষে কেশবপুরবাসির সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণ হতে চলেছে যদি সকল ডাক্তার এখানে অবস্থান করে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, যোগদানকারী চিকিৎসকরা বিভিন্ন বিভাগে দায়িত্ব পালন করবেন। ফলে জরুরি বিভাগসহ নিয়মিত চিকিৎসা কার্যক্রমে গতি আসবে এবং রোগীরা আরও দ্রুত ও মানসম্মত সেবা পাবেন। বর্তমানে কেশবপুর হাসপাতালে মোট ২৭ জন ডাক্তার থাকলেও এর ভিতরে পাঁচ জন অন্যত্র ডেপুটেশনে আছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে।
উপজেলাবাসী এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে আশা করছেন, এখন থেকে স্বাস্থ্যসেবায় ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হবে এবং দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে।


























