আমরা বস্তাপচা রাজনীতি, দূর্ণীতি,ফাঁসিবাদ, জুলুমতন্ত্রের বিরুদ্ধে: ডা. শফিকুর রহমান
- আপডেট সময় : ০৮:১৪:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬ ৪৪ বার পড়া হয়েছে

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা বস্তাপচা রাজনীতির বিরুদ্ধে, দূর্ণীতি,ফাঁসিবাদ, জুলুমতন্ত্রের বিরুদ্ধে, মা-বোনদের বেজ্জত করার বিরুদ্ধে ।আমরা মা বোনদের ইজ্জত করার পক্ষে। আমরা জামায়াত ইসলামের বিজয় চায় না, আমরা দেশের ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। ১৮ কোটি মানুষ মুক্ত হলে আমরাও মুক্ত হবো। আর ১৮ কোটি মানুষ যদি দালালির বিপজ্জনক অবস্থানে পড়ে যায়, আমরাও বিপজ্জনক অবস্থায় পড়ে যাবো।
মঙ্গলবার দুপুরে সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জেলা জামায়াত আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আল্লাহ আমাদের সুযোগ দিলে শাসন হবে জনগণের। কিছু রাজনৈতিক দুর্বৃত্ত ও ক্ষমতাধর গোষ্ঠী জনগণের সম্পদ লুট করে বিদেশে পাচার করেছে। তারা প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে, যার ডকুমেন্ট রয়েছে। ডকুমেন্টবিহীন টাকার কোনো হিসাব নেই। আমরা সুযোগ পেলে জনগণের লুণ্ঠিত সম্পদ ফেরত আনার ক্ষেত্রে কোনো আপস করা হবে না। এ বিষয়ে কোনো দয়া বা ক্ষমা দেখানো হবে না।
ডা. শফিক বলেন, তিলে তিলে দেশ প্রেমের পরীক্ষা দিয়ে অন্যায় ও আধিপত্যের কাছে মাথা নত না করে যে দলের দায়িত্বশীল নেতারা ফাঁসির মঞ্চে গিয়েছে সেই দলকে ভয় দেখাবেন না।
যুবকদের হাতে বেকার ভাতা তুলে দেওয়া অপমানের শামিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা রার্ষ্টের দায়িত্ব নিলে তাদের দক্ষ নাগরিকে পরিণত করবে, উপযুক্ত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মর্যাদার কাজের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
ডা. শফিকুর রহমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে চাঁদাবাজ ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা উল্লেখ করে বলেন, আমরা দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলে প্রথমে চাাঁদাবাজদের হাত শক্ত করে ধরবো তারপর সিন্ডকেট ভেঙে ফেলব ।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা খবর পাচ্ছি, আমাদের মা-বোনদের ওপর হামলা করা হচ্ছে, তাদের সম্মানহানি করা হচ্ছে। একদিকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে নারীদের অসম্মান করা হচ্ছে, এটি কীভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে?
তিনি আরও বলেন, আমরা যুবসমাজকে ভাতা দিয়ে ছোট করতে চাই না। বরং তাদের দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলে দেশ গড়ার কাজে সম্পৃক্ত করতে চাই। এতে তাদের সম্মান আরও বৃদ্ধি পাবে।
তিনি বলেন, আমরা দেখেছি অতীতে আমরা যারা জুলুমের শিকার হয়ে মজলুম ছিলাম এখন তাদের মধ্য থেকেই অনেকে আজ জালিমের ভূমিকা পালন করছেন। বর্তমান প্রজন্মের যুবকেরা পরিবর্তনের পক্ষে, তারা সংস্কার চায়। তারা পুরোনো, জীর্ণ ও পচা রাজনীতির ধারা থেকে বেরিয়ে আসতে চায়।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামী দেশের সবচেয়ে নির্যাতিত রাজনৈতিক দল। আমাদের অসংখ্য নেতা-কর্মীকে হত্যা ও গুম করা হয়েছে, অনেককে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। দলের নিবন্ধন ও প্রতীক বাতিল করা হয়েছে এবং একপর্যায়ে দল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বহু মানুষকে আয়না ঘরে রেখে নির্যাতন করা হয়েছে।
বিগত ১৫ বছরে বিএনপিসহ ‘সাংবাদিক, আলেম-ওলামাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নির্যাতন ও জুলুমের শিকার হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন এখন তাদের অনেকে জালিম হয়েছে। তাই ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।’
ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি অপরাধ ও অন্যায় করা হয়েছে সাতক্ষীরায়। দেশের আর কোনও জেলায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়নি। বুলডোজার দিয়ে আমাদের নেতাকর্মীদের ঘর ভাঙা হয়েছে। তারা কি কোনও অপরাধ করেছিল?’ বিগত সাড়ে ১৫বছরে সাতক্ষীরার সঙ্গে সৎ মায়ের সন্তানের মতো আচরণ করা হয়েছে। সাতক্ষীরার চারটি আসনে যদি ন্যায়, ইনসাফ, জনগণের দিনদার সরকার এবং মদিনার শাসনামলের সুশাসন কায়েম করার সুযোগ আপনারা আমাদের দেন, তাহলে আমরা গভীর কৃতজ্ঞ থাকবো এবং সেই ঋণ পরিশোধে সারাক্ষণ চেষ্টা করবো।
তিনি দাবি করেন, ‘ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণেই সাতক্ষীরাকে দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তারা ভেবেছিল এই অবস্থা চিরকাল থাকবে। কিন্তু আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সম্মান দেন, আর যাকে ইচ্ছা সম্মান কেড়ে নেন।’
জামায়ত আমির ডা. শফিক বলেন, ১২ তারিখ প্রথম সিলটি পড়বে ‘হ্যাঁ’ ভোটে। ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি, আর ‘না’ মানে গোলামি। আপনারাই বলুন, গোলামি না আজাদি? ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হলে বাংলাদেশ বিজয়ী হবে, সবাইকে আজাদি এনে দেবে। আর ‘হ্যাঁ’ ভোট হেরে গেলে বাংলাদেশ হেরে যাবে।
তিনি বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় নিয়োজিতদের জন্য আলাদা বেতন কাঠামো নির্ধারণ করা হবে। ইনসাফ মানে সবার সমান পারিশ্রমিক দিতে হবে তা না। ইনসাফ মানে যার যা ন্যায্য পারিশ্রমিক নিশ্চিত করা হবে।’ ‘দেশের তরুণ সমাজ পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সাতক্ষীরার চারটি আসনে দাঁড়িপাল্লাকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান তিনি।’
জনসভায় সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুলের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি আজিজুর রহমানের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারস,সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জতউল্লাহ, সাতক্ষীরা-২ আসনের প্রার্থী মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, সাতক্ষীরা-৩ আসনের প্রার্থী রবিউল বাশার ও সাতক্ষীরা-৪ আসনের প্রার্থী গাজী নজরুল ইসলাম।


























