ঢাকা ০৮:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দিনে রেকি, রাতে বাড়িতে ঢুকে মা–মেয়ের গলায় অস্ত্র ধরে ডাকাতি কুমিল্লা কর অঞ্চলে ৪১ পদে চাকরি, আবেদন কুমিল্লা–চাঁদপুর–ব্রাহ্মণবাড়িয়ার স্থায়ী বাসিন্দাদের ইসির পরীক্ষা হবে আগামীকাল: ১১–দলীয় ঐক্য জলঢাকায় সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ গায়ক ইন্দ্রনীল সেন গ্রেপ্তার, কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ সাইবার হামলার ঝুঁকিতে ৩টি মডেলের আইফোন, সতর্ক করল অ্যাপল দুই পা হারানো সাখাওয়াতের হাতে হুইলচেয়ার, ঘরে এক মাসের বাজার হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে পাননি পাঁচ চিকিৎসককে, ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মিশিগানে আগের দিন ওবামা, পরদিন ট্রাম্প সুন্দরগঞ্জে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

জলঢাকায় সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

নীলফামারী প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৫:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় মীরগঞ্জ বাজার থেকে দিয়াবাড়ি বাজার পর্যন্ত তিন কিলোমিটার সড়ক নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। নিম্নমানের কার্পেটিং, রাস্তার ধুলাবালু ও ময়লা-আবর্জনা যথাযথভাবে পরিষ্কার না করা এবং সড়কের দুই পাশের ফিনিশিংয়ে ত্রুটির অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নির্ধারিত সময়ের পরও সন্ধ্যা পর্যন্ত সড়কটিতে কার্পেটিংয়ের কাজ চলতে দেখা গেছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কটির কার্পেটিংয়ের কাজ চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কার্পেটিংয়ের আগে রাস্তার ধুলাবালু পরিষ্কারে প্রয়োজনীয় এয়ার ব্লোয়ার মেশিন ব্যবহার করা হয়নি। এ ছাড়া রাস্তার দুই পাশে ঘাস ও ময়লা-আবর্জনা থাকা সত্ত্বেও সেগুলো যথাযথ ভাবে পরিষ্কার না করেই কাজ করা হচ্ছিল।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, নির্ধারিত ৪০ মিলিমিটার পুরুত্বের পরিবর্তে কার্পেটিংয়ে প্রায় ৩৫ মিলিমিটার দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সড়কের ফিনিশিং যথাযথ ভাবে করা হচ্ছে না। রাস্তার দুই পাশের প্রান্ত শক্তভাবে স্থাপনের পরিবর্তে বালু দিয়ে ঢেকে দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাঁদের। এতে সড়কটির স্থায়িত্ব নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

সড়কটির দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলী সোহান চৌধুরী জানান, সড়কটির নির্মাণকাজে বরাদ্দ রয়েছে ১ কোটি ১০ লাখ টাকা। তবে কাজটি দীর্ঘদিন ধরে ধীরগতিতে চলছে।

কার্পেটিংয়ের আগে এয়ার ব্লোয়ার মেশিন ব্যবহার না করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দুপুরের পর মেশিনটি নষ্ট হয়ে যায়। পরে মেরামতের জন্য সেটি মেকানিকের কাছে নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। তবে সরেজমিনে সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত কার্পেটিংয়ের কাজ চলতে দেখা যায়। এ সময় সন্ধ্যা নেমে আসে। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, সাংবাদিকেরা ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর রাস্তার ময়লা পরিষ্কারের জন্য তিনজন নারীকে দিয়ে দ্রুত ঝাড়ু দেওয়ানো হয়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সড়ক নির্মাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে নির্ধারিত মান ও নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা তদারক করা প্রয়োজন। তাঁদের দাবি, অভিযোগগুলো তদন্ত করে কাজের গুণগত মান যাচাই এবং অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

এ বিষয়ে নীলফামারীর নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিকেল ৫টার পর সন্ধ্যা নামার আগেই কাজ শেষ করতে হবে। এর পর কোনো কাজ করা হলে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।

অন্যদিকে, এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জলঢাকা উপজেলা প্রকৌশলী তারিকুজ্জামানের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

সড়কটির নির্মাণকাজে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর তদারকি, নিরপেক্ষভাবে কাজের মান যাচাই এবং নির্ধারিত মান বজায় রেখে টেকসই সড়ক নির্মাণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

জলঢাকায় সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৭:৪৫:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় মীরগঞ্জ বাজার থেকে দিয়াবাড়ি বাজার পর্যন্ত তিন কিলোমিটার সড়ক নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। নিম্নমানের কার্পেটিং, রাস্তার ধুলাবালু ও ময়লা-আবর্জনা যথাযথভাবে পরিষ্কার না করা এবং সড়কের দুই পাশের ফিনিশিংয়ে ত্রুটির অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নির্ধারিত সময়ের পরও সন্ধ্যা পর্যন্ত সড়কটিতে কার্পেটিংয়ের কাজ চলতে দেখা গেছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কটির কার্পেটিংয়ের কাজ চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কার্পেটিংয়ের আগে রাস্তার ধুলাবালু পরিষ্কারে প্রয়োজনীয় এয়ার ব্লোয়ার মেশিন ব্যবহার করা হয়নি। এ ছাড়া রাস্তার দুই পাশে ঘাস ও ময়লা-আবর্জনা থাকা সত্ত্বেও সেগুলো যথাযথ ভাবে পরিষ্কার না করেই কাজ করা হচ্ছিল।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, নির্ধারিত ৪০ মিলিমিটার পুরুত্বের পরিবর্তে কার্পেটিংয়ে প্রায় ৩৫ মিলিমিটার দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সড়কের ফিনিশিং যথাযথ ভাবে করা হচ্ছে না। রাস্তার দুই পাশের প্রান্ত শক্তভাবে স্থাপনের পরিবর্তে বালু দিয়ে ঢেকে দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাঁদের। এতে সড়কটির স্থায়িত্ব নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

সড়কটির দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলী সোহান চৌধুরী জানান, সড়কটির নির্মাণকাজে বরাদ্দ রয়েছে ১ কোটি ১০ লাখ টাকা। তবে কাজটি দীর্ঘদিন ধরে ধীরগতিতে চলছে।

কার্পেটিংয়ের আগে এয়ার ব্লোয়ার মেশিন ব্যবহার না করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দুপুরের পর মেশিনটি নষ্ট হয়ে যায়। পরে মেরামতের জন্য সেটি মেকানিকের কাছে নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। তবে সরেজমিনে সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত কার্পেটিংয়ের কাজ চলতে দেখা যায়। এ সময় সন্ধ্যা নেমে আসে। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, সাংবাদিকেরা ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর রাস্তার ময়লা পরিষ্কারের জন্য তিনজন নারীকে দিয়ে দ্রুত ঝাড়ু দেওয়ানো হয়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সড়ক নির্মাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে নির্ধারিত মান ও নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা তদারক করা প্রয়োজন। তাঁদের দাবি, অভিযোগগুলো তদন্ত করে কাজের গুণগত মান যাচাই এবং অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

এ বিষয়ে নীলফামারীর নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিকেল ৫টার পর সন্ধ্যা নামার আগেই কাজ শেষ করতে হবে। এর পর কোনো কাজ করা হলে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।

অন্যদিকে, এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জলঢাকা উপজেলা প্রকৌশলী তারিকুজ্জামানের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

সড়কটির নির্মাণকাজে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর তদারকি, নিরপেক্ষভাবে কাজের মান যাচাই এবং নির্ধারিত মান বজায় রেখে টেকসই সড়ক নির্মাণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।