ঢাকা ০২:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কুমিল্লায় ৬ ঘণ্টার অভিযানে আটক ৩৫১, মুচলেকায় মুক্তি ২১৯ জনের ভালোবাসাই যখন ধর্ম হয়ে ওঠে, ঈশ্বরের নাম হয় ডিয়েগো ই–রিকশা কোথায় চলবে, কোথায় নিষেধ, কত গতিতে চলতে পারবে—নতুন বিধিমালা কী বলছে টি–টুয়েন্টিতে ২০০ উইকেটের চূড়ায় রশিদই প্রথম আবুল খায়ের স্টিলের কারখানায় জার্মানির ভাইস মিনিস্টার বাংলাদেশে রাজনীতির মাঠ যেন একটা বক্সিং রিং মেঘনায় গুলিবিদ্ধ জেলের মৃত্যু : ২৪ ঘণ্টা পরও মামলা হয়নি, থানায় পুলিশের জিডি বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তার মৃত্যু: বন্ধু দীপ হেফাজতে নেতানিয়াহুর সাফল্যে আশা দেখছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় ৬ হামলার দাবি হুতিদের

টি–টুয়েন্টিতে ২০০ উইকেটের চূড়ায় রশিদই প্রথম

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৫২:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টিতে প্রথম বোলার হিসেবে ৫০ উইকেট পাকিস্তানের সাবেক অলরাউন্ডার শহীদ আফ্রিদির। সেটা ২০১০ সালে এবং ক্রিকইনফোর হিসাবে তখন রশিদ খানের বয়স ১২ বছর।

টিভি পর্দায় আফ্রিদির বোলিং ভীষণ মনে ধরেছিল কিশোর রশিদের। সে বয়সে ব্যাটিংয়ে বেশ ভালো হলেও ধীরে ধীরে লেগ স্পিনেও হাত পাকান আফ্রিদির মতোই। ১৬ বছর পর সেই রশিদ এখন এমনই এক উচ্চতায়, যেখানে তাঁকে দেখে শুধু আফ্রিদি নন, সাধারণ ক্রিকেটপ্রেমীও খুশি হবেন।

.

টি–টুয়েন্টিতে রশিদ বেশ আগে থেকেই সর্বকালের অন্যতম সেরা বোলার। সেই পথেই গতকাল রাতে নিজেকে অনন্য একটি উচ্চতায় তুলেছেন। আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টিতে প্রথম বোলার হিসেবে ২০০ উইকেটের দেখা পান আফগান লেগ স্পিনার। শারজায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি–টুয়েন্টিতে ১৯ রানে জয়ের ম্যাচে তাদিনাওয়াশে মারুমানিকে এলবিডব্লু করে মাইলফলকটির দেখা পান ২৮ বছর বয়সী রশিদ।

ছেলে ও মেয়েদের ক্রিকেট মিলিয়ে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে মাইলফলকটির দেখা পেলেন আফগান তারকা। ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টিতে প্রথম বোলার হিসেবে ১০০ উইকেট নেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ নারী দলের স্পিনার আনিসা মোহাম্মদ। দুই বছর আগে ১৫০ উইকেট নেওয়ায় প্রথম হন নিউজিল্যান্ড কিংবদন্তি টিম সাউদি। গত বছর সেপ্টেম্বরে সেই সাউদিকেই পেছনে ফেলে আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টিতে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হন রশিদ। এবার প্রথম বোলার হিসেবে পেলেন ২০০ উইকেটের দেখাও।

.

১১ বছরের আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টি ক্যারিয়ারে ১২০ ইনিংসে রশিদের উইকেট এখন ২০০টি। গড় ১৪.৬ ও ইকোনমি রেট ৬.১৪। প্রতি ১৩.৭টি ডেলিভারি পরপর একটি করে উইকেট নিয়েছেন। রশিদ কতটা ভালো, সেটা বোঝা যায়, তালিকাটির দুইয়ে থাকা ইংল্যান্ডের লেগ স্পিনার আদিল রশিদের পরিসংখ্যানে তাকালে। আদিলের আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টি ক্যারিয়ার ১৭ বছরের। এ সময়ে ১৪৬ ইনিংসে তাঁর শিকার ১৭১ উইকেট। ২৩.৪২ গড়ে ইকোনমি রেট ৭.৫৬। প্রতি ১৬.৫ ডেলিভারি পরপর নিয়েছেন একটি করে উইকেট।

.আরেকটি লঙ্কা-কাণ্ড হলো না, ১৭ বলে ৫ উইকেট হারিয়ে শ্রীলঙ্কার হার.

আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টিতে সর্বোচ্চ উইকেট নেওয়ার এ তালিকায় শীর্ষ চারজনই স্পিনার। এই শীর্ষ চারের মধ্যে তিনজনই আবার লেগ স্পিনার। ১১৬ ইনিংসে ১৬৫ উইকেট নিয়ে তৃতীয় হংকংয়ের অফ স্পিনার এহসান খান। চারে নিউজিল্যান্ডের লেগ স্পিন ইশ সোধি। ১৩৫ ইনিংসে নিয়েছেন এহসানের সমান ১৬৫ উইকেট।

রশিদের ২০০ উইকেটের মধ্যে ১৫০ উইকেটই এশিয়ার মাটিতে, যেটা এই মহাদেশের মাটিতে সর্বোচ্চ। এর মধ্যে ৭৯টি উইকেট পেয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে। নির্দিষ্ট একটি দেশে সর্বোচ্চ উইকেট নেওয়ার তালিকায় যা তৃতীয়। নিউজিল্যান্ডে ৬৬ ইনিংসে ৯১ উইকেট নিয়ে তালিকায় সবার ওপরে সাউদি। মালয়েশিয়ার স্পিনার বিরানদীপ সিং তাঁর দেশের মাটিতে ৬৭ ইনিংসে নিয়েছেন ৮৯ উইকেট এবং তারপরই আরব আমিরাতে রশিদের উইকেটসংখ্যা।

.

রশিদের ২০০টি আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টি উইকেটের মধ্যে ১৪২টি এসেছে মাঝের ওভারে (৭ থেকে ১৬ ওভার) এবং ৫৬টি ডেথ ওভারে (১৭ থেকে ২০ ওভার)। প্রথম ছয় ওভারে মাত্র দুটি উইকেট নিয়েছেন। পাওয়ার প্লের এ সময়ে অবশ্য বেশি বোলিং করেননি। ১০২টি বল করেছেন এ সময়ে।

স্বীকৃত টি–টুয়েন্টিতেও উইকেট নেওয়ায় শীর্ষে রশিদ। গত ফেব্রুয়ারিতে প্রথম বোলার হিসেবে স্বীকৃত টি–টুয়েন্টিতে ৭০০ উইকেট নেন। গত বছর ফেব্রুয়ারিতে ডোয়াইন ব্রাভোকে পেছনে ফেলে এই সংস্করণে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হওয়ার পর তরতর করে এগিয়ে যাচ্ছেন রশিদ।

১১ বছরের টি–টুয়েন্টি ক্যারিয়ারে ৫৪৬ ইনিংসে রশিদের শিকার ৭৪২ উইকেট। দ্বিতীয় সুনীল নারাইনের ক্যারিয়ার ১৫ বছরের। ৬০৭ ইনিংসে তাঁর শিকার ৬৫৮ উইকেট। ব্রাভো ৫৪৬ ইনিংসে ৬৩১ উইকেট নিয়ে তিনে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

টি–টুয়েন্টিতে ২০০ উইকেটের চূড়ায় রশিদই প্রথম

আপডেট সময় : ০১:৫২:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টিতে প্রথম বোলার হিসেবে ৫০ উইকেট পাকিস্তানের সাবেক অলরাউন্ডার শহীদ আফ্রিদির। সেটা ২০১০ সালে এবং ক্রিকইনফোর হিসাবে তখন রশিদ খানের বয়স ১২ বছর।

টিভি পর্দায় আফ্রিদির বোলিং ভীষণ মনে ধরেছিল কিশোর রশিদের। সে বয়সে ব্যাটিংয়ে বেশ ভালো হলেও ধীরে ধীরে লেগ স্পিনেও হাত পাকান আফ্রিদির মতোই। ১৬ বছর পর সেই রশিদ এখন এমনই এক উচ্চতায়, যেখানে তাঁকে দেখে শুধু আফ্রিদি নন, সাধারণ ক্রিকেটপ্রেমীও খুশি হবেন।

.

টি–টুয়েন্টিতে রশিদ বেশ আগে থেকেই সর্বকালের অন্যতম সেরা বোলার। সেই পথেই গতকাল রাতে নিজেকে অনন্য একটি উচ্চতায় তুলেছেন। আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টিতে প্রথম বোলার হিসেবে ২০০ উইকেটের দেখা পান আফগান লেগ স্পিনার। শারজায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি–টুয়েন্টিতে ১৯ রানে জয়ের ম্যাচে তাদিনাওয়াশে মারুমানিকে এলবিডব্লু করে মাইলফলকটির দেখা পান ২৮ বছর বয়সী রশিদ।

ছেলে ও মেয়েদের ক্রিকেট মিলিয়ে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে মাইলফলকটির দেখা পেলেন আফগান তারকা। ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টিতে প্রথম বোলার হিসেবে ১০০ উইকেট নেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ নারী দলের স্পিনার আনিসা মোহাম্মদ। দুই বছর আগে ১৫০ উইকেট নেওয়ায় প্রথম হন নিউজিল্যান্ড কিংবদন্তি টিম সাউদি। গত বছর সেপ্টেম্বরে সেই সাউদিকেই পেছনে ফেলে আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টিতে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হন রশিদ। এবার প্রথম বোলার হিসেবে পেলেন ২০০ উইকেটের দেখাও।

.

১১ বছরের আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টি ক্যারিয়ারে ১২০ ইনিংসে রশিদের উইকেট এখন ২০০টি। গড় ১৪.৬ ও ইকোনমি রেট ৬.১৪। প্রতি ১৩.৭টি ডেলিভারি পরপর একটি করে উইকেট নিয়েছেন। রশিদ কতটা ভালো, সেটা বোঝা যায়, তালিকাটির দুইয়ে থাকা ইংল্যান্ডের লেগ স্পিনার আদিল রশিদের পরিসংখ্যানে তাকালে। আদিলের আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টি ক্যারিয়ার ১৭ বছরের। এ সময়ে ১৪৬ ইনিংসে তাঁর শিকার ১৭১ উইকেট। ২৩.৪২ গড়ে ইকোনমি রেট ৭.৫৬। প্রতি ১৬.৫ ডেলিভারি পরপর নিয়েছেন একটি করে উইকেট।

.আরেকটি লঙ্কা-কাণ্ড হলো না, ১৭ বলে ৫ উইকেট হারিয়ে শ্রীলঙ্কার হার.

আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টিতে সর্বোচ্চ উইকেট নেওয়ার এ তালিকায় শীর্ষ চারজনই স্পিনার। এই শীর্ষ চারের মধ্যে তিনজনই আবার লেগ স্পিনার। ১১৬ ইনিংসে ১৬৫ উইকেট নিয়ে তৃতীয় হংকংয়ের অফ স্পিনার এহসান খান। চারে নিউজিল্যান্ডের লেগ স্পিন ইশ সোধি। ১৩৫ ইনিংসে নিয়েছেন এহসানের সমান ১৬৫ উইকেট।

রশিদের ২০০ উইকেটের মধ্যে ১৫০ উইকেটই এশিয়ার মাটিতে, যেটা এই মহাদেশের মাটিতে সর্বোচ্চ। এর মধ্যে ৭৯টি উইকেট পেয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে। নির্দিষ্ট একটি দেশে সর্বোচ্চ উইকেট নেওয়ার তালিকায় যা তৃতীয়। নিউজিল্যান্ডে ৬৬ ইনিংসে ৯১ উইকেট নিয়ে তালিকায় সবার ওপরে সাউদি। মালয়েশিয়ার স্পিনার বিরানদীপ সিং তাঁর দেশের মাটিতে ৬৭ ইনিংসে নিয়েছেন ৮৯ উইকেট এবং তারপরই আরব আমিরাতে রশিদের উইকেটসংখ্যা।

.

রশিদের ২০০টি আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টি উইকেটের মধ্যে ১৪২টি এসেছে মাঝের ওভারে (৭ থেকে ১৬ ওভার) এবং ৫৬টি ডেথ ওভারে (১৭ থেকে ২০ ওভার)। প্রথম ছয় ওভারে মাত্র দুটি উইকেট নিয়েছেন। পাওয়ার প্লের এ সময়ে অবশ্য বেশি বোলিং করেননি। ১০২টি বল করেছেন এ সময়ে।

স্বীকৃত টি–টুয়েন্টিতেও উইকেট নেওয়ায় শীর্ষে রশিদ। গত ফেব্রুয়ারিতে প্রথম বোলার হিসেবে স্বীকৃত টি–টুয়েন্টিতে ৭০০ উইকেট নেন। গত বছর ফেব্রুয়ারিতে ডোয়াইন ব্রাভোকে পেছনে ফেলে এই সংস্করণে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হওয়ার পর তরতর করে এগিয়ে যাচ্ছেন রশিদ।

১১ বছরের টি–টুয়েন্টি ক্যারিয়ারে ৫৪৬ ইনিংসে রশিদের শিকার ৭৪২ উইকেট। দ্বিতীয় সুনীল নারাইনের ক্যারিয়ার ১৫ বছরের। ৬০৭ ইনিংসে তাঁর শিকার ৬৫৮ উইকেট। ব্রাভো ৫৪৬ ইনিংসে ৬৩১ উইকেট নিয়ে তিনে।