ঢাকা ০২:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নির্যাতন করেও জামায়াতের রাজনীতি দমিয়ে রাখা যায়নি: অধ্যাপক মাজেদুর রহমান

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৬:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬ ৪৪ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গাইবান্ধা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যাপক মাজেদুর রহমান বলেছেন, বিগত ১৬ বছরে পশু-পাখিরও দাম ছিল, গরু-ছাগলেরও দাম ছিল, কিন্তু আমাদের কোনো দাম ছিল না। হিংস্র প্রাণীকে যেভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়, ঠিক সেভাবেই জামায়াতের নেতাকর্মীদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। রাতে গরু-ছাগল নিরাপদে গোয়ালঘরে থাকে, অথচ আমরা নিজের ঘরেও থাকতে পারিনি। গমক্ষেত ও ভুট্টাক্ষেতে রাত্রিযাপন করতে হয়েছে।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাতে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের ইমামগঞ্জ ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসা মাঠে ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যজোটের আয়োজনে এক নির্বাচনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন তারাপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মামুনুর রশিদ।

অধ্যাপক মাজেদুর রহমান বলেন, আমাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে এবং অসংখ্য মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। শুধু সুন্দরগঞ্জ উপজেলাতেই প্রায় তিন শতাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছিল। সারা দেশে লক্ষ লক্ষ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের আসামি করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিগত সাড়ে ১৬ বছরে আমরা যেভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছি, পৃথিবীর কোনো দেশে কোনো রাজনৈতিক দল এভাবে নির্যাতিত হয়নি। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি মজলুম রাজনৈতিক সংগঠন। কিন্তু নির্যাতন, নিপীড়ন, মিথ্যা মামলায় আসামি করে কারাগারে বন্দি রাখা এবং রাজনীতি নিষিদ্ধ করেও জামায়াতে ইসলামীকে দমিয়ে রাখা যায়নি, অবরুদ্ধ করা যায়নি।

অধ্যাপক মাজেদুর রহমান বলেন, আমাদের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে ফাঁসি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এতে দল সাময়িকভাবে নেতৃত্বশূন্য হলেও আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের জন্য নতুন নেতৃত্ব দান করেছেন ডা. শফিকুর রহমানকে। তিনি ইতোমধ্যেই সারা দেশে একজন মানবিক নেতা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। তার নেতৃত্বেই আগামীর বাংলাদেশের পথচলা শুরু হবে।

তিনি বলেন, ডা. শফিকুর রহমানের নির্দেশনায় ইনশাআল্লাহ আগামীর বাংলাদেশ স্বাবলম্বী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ হিসেবে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।

তারাপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি আলী আহসান সুজনের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন এলডিপির জেলা আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম, উপজেলা জামায়াতের আমীর শহিদুল ইসলাম সরকার মঞ্জু, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সামিউল ইসলাম, পৌর জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ একরামুল হক, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের উপজেলা সেক্রেটারি হাফেজ মুহিবুল্লাহ মোত্তালিব, উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি বদরুল আমিন, তারাপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সাবেক আমীর আবুল আলা মৌদুদী, শিবির নেতা ইসরাফিল হোসেন, ওয়ার্ড জামায়াতের মাইদুল ইসলাম মেম্বার প্রমুখ। এতে প্রায় দু’হাজার স্থানীয় নেতাকর্মী, সমর্থক ও জনসাধারণ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে, দিনভর তারাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও গুরুত্বপূর্ণস্থানে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের গণসংযোগ ও ভোট প্রার্থনা করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

নির্যাতন করেও জামায়াতের রাজনীতি দমিয়ে রাখা যায়নি: অধ্যাপক মাজেদুর রহমান

আপডেট সময় : ০৪:৩৬:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

গাইবান্ধা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যাপক মাজেদুর রহমান বলেছেন, বিগত ১৬ বছরে পশু-পাখিরও দাম ছিল, গরু-ছাগলেরও দাম ছিল, কিন্তু আমাদের কোনো দাম ছিল না। হিংস্র প্রাণীকে যেভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়, ঠিক সেভাবেই জামায়াতের নেতাকর্মীদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। রাতে গরু-ছাগল নিরাপদে গোয়ালঘরে থাকে, অথচ আমরা নিজের ঘরেও থাকতে পারিনি। গমক্ষেত ও ভুট্টাক্ষেতে রাত্রিযাপন করতে হয়েছে।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাতে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের ইমামগঞ্জ ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসা মাঠে ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যজোটের আয়োজনে এক নির্বাচনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন তারাপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মামুনুর রশিদ।

অধ্যাপক মাজেদুর রহমান বলেন, আমাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে এবং অসংখ্য মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। শুধু সুন্দরগঞ্জ উপজেলাতেই প্রায় তিন শতাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছিল। সারা দেশে লক্ষ লক্ষ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের আসামি করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিগত সাড়ে ১৬ বছরে আমরা যেভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছি, পৃথিবীর কোনো দেশে কোনো রাজনৈতিক দল এভাবে নির্যাতিত হয়নি। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি মজলুম রাজনৈতিক সংগঠন। কিন্তু নির্যাতন, নিপীড়ন, মিথ্যা মামলায় আসামি করে কারাগারে বন্দি রাখা এবং রাজনীতি নিষিদ্ধ করেও জামায়াতে ইসলামীকে দমিয়ে রাখা যায়নি, অবরুদ্ধ করা যায়নি।

অধ্যাপক মাজেদুর রহমান বলেন, আমাদের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে ফাঁসি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এতে দল সাময়িকভাবে নেতৃত্বশূন্য হলেও আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের জন্য নতুন নেতৃত্ব দান করেছেন ডা. শফিকুর রহমানকে। তিনি ইতোমধ্যেই সারা দেশে একজন মানবিক নেতা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। তার নেতৃত্বেই আগামীর বাংলাদেশের পথচলা শুরু হবে।

তিনি বলেন, ডা. শফিকুর রহমানের নির্দেশনায় ইনশাআল্লাহ আগামীর বাংলাদেশ স্বাবলম্বী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ হিসেবে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।

তারাপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি আলী আহসান সুজনের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন এলডিপির জেলা আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম, উপজেলা জামায়াতের আমীর শহিদুল ইসলাম সরকার মঞ্জু, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সামিউল ইসলাম, পৌর জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ একরামুল হক, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের উপজেলা সেক্রেটারি হাফেজ মুহিবুল্লাহ মোত্তালিব, উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি বদরুল আমিন, তারাপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সাবেক আমীর আবুল আলা মৌদুদী, শিবির নেতা ইসরাফিল হোসেন, ওয়ার্ড জামায়াতের মাইদুল ইসলাম মেম্বার প্রমুখ। এতে প্রায় দু’হাজার স্থানীয় নেতাকর্মী, সমর্থক ও জনসাধারণ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে, দিনভর তারাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও গুরুত্বপূর্ণস্থানে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের গণসংযোগ ও ভোট প্রার্থনা করা হয়।