ঢাকা ১১:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মাস্টহেড পিআরের চিফ স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড গ্রোথ অফিসার আশিক ইকবাল কেশবপুরে ধানখেতে পাওয়া গেল দুই নারী–পুরুষের অর্ধগলিত লাশ উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীই উচ্চশিক্ষায় ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবেন: শিক্ষামন্ত্রী রান্নার চুলা নিয়ে মেসে মারধর, কিশোরের মৃত্যু ফখরের সেঞ্চুরির পর মিনহাজের ঝোড়ো ব্যাটিং, ত্রিদেশীয় সিরিজ জিতল পাকিস্তান এইচএসসিতে ক্যাডেটে পাসের হার শতভাগ, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯৪ শতাংশের বেশি কুমিল্লায় আবারও কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান, ২৩৬ জন আটকের পর মুচলেকায় ছাড়া পেল ১২৯ দ্বিতীয় টেস্টের দলে অমিত হাসান, বাদ মুমিনুল ভারতের সিইসি জ্ঞানেশ জনতার দরবারে অভিশংসিত ঈদে দেশে ফেরার কথা ছিল, ফিরলেন কফিনবন্দী হয়ে

সীমান্তে ফের স্থলমাইন বিস্ফোরণে রোহিঙ্গা যুবকের পা বিচ্ছিন্ন

উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৫:১১:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ৪৫ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার মিয়ানমার সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় ফের স্থলমাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় এক রোহিঙ্গা যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পালংখালী সীমান্তের বিপরীতে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চাকমাকাটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত ইউনুছ (২৫) উখিয়ার ক্যাম্প-১৯-এর ব্লক ডি/২ এর বাসিন্দা।

স্থানীয়রা জানান, বিস্ফোরণের শব্দ শুনে আশপাশের মানুষ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ইউনুছকে উদ্ধার করে প্রথমে কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে নেন। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার্ড করেন চিকিৎসকরা।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএম) শান্তনু ঘোষ বলেন, ইউনুছের ডান পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এর আগে গত ১০ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে একই সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় আরেকটি স্থলমাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে মো. সাদেক (২৫) নামে এক রোহিঙ্গা যুবক গুরুতর আহত হন। তিনি উখিয়ার বালুখালী আশ্রয়শিবিরের (ক্যাম্প-১০) এফ-১৩ ব্লকের বাসিন্দা।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে দুটি পৃথক ঘটনায় দুই রোহিঙ্গা যুবক পা হারিয়েছেন। এতে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে, রাখাইনের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ) নিজেদের নিয়ন্ত্রণ জোরদার করতে এসব মাইন স্থাপন করেছে।

রোহিঙ্গা যুবক মো. জাফর বলেন, সীমান্ত এলাকায় এখন খুব ভয় লাগে। জীবিকার জন্য গেলে প্রাণ হারানোর ঝুঁকি থাকে।

বালুখালী ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নেতা শামসুল আলম বলেন, খাদ্যসহায়তা কমে যাওয়ায় অনেক পরিবার অর্থসংকটে পড়েছে। ফলে কিছু রোহিঙ্গা ঝুঁকি জেনেও নাফ নদীতে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে এবং সীমান্তের ওপারে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে যান। এ সময় তারা মাইন বিস্ফোরণের শিকার হচ্ছেন।

বিজিবির উখিয়া-৬৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম বলেন, সীমান্তের শূন্যরেখার ওপারে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে এসব স্থলমাইন পুঁতে রাখা হয়েছে, যা ওই এলাকায় চলাচলকারী মানুষের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য, ক্যাম্পের কোনো রোহিঙ্গার সীমান্তে যাওয়ার কথা নয়। কিন্তু বিভিন্ন অজুহাতের (মাছ ধরা বা কৃষিকাজ) কথা বলে তারা সীমান্তের ওপারে চলে যায় এবং এ ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

সীমান্তে ফের স্থলমাইন বিস্ফোরণে রোহিঙ্গা যুবকের পা বিচ্ছিন্ন

আপডেট সময় : ০৫:১১:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার মিয়ানমার সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় ফের স্থলমাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় এক রোহিঙ্গা যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পালংখালী সীমান্তের বিপরীতে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চাকমাকাটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত ইউনুছ (২৫) উখিয়ার ক্যাম্প-১৯-এর ব্লক ডি/২ এর বাসিন্দা।

স্থানীয়রা জানান, বিস্ফোরণের শব্দ শুনে আশপাশের মানুষ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ইউনুছকে উদ্ধার করে প্রথমে কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে নেন। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার্ড করেন চিকিৎসকরা।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএম) শান্তনু ঘোষ বলেন, ইউনুছের ডান পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এর আগে গত ১০ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে একই সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় আরেকটি স্থলমাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে মো. সাদেক (২৫) নামে এক রোহিঙ্গা যুবক গুরুতর আহত হন। তিনি উখিয়ার বালুখালী আশ্রয়শিবিরের (ক্যাম্প-১০) এফ-১৩ ব্লকের বাসিন্দা।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে দুটি পৃথক ঘটনায় দুই রোহিঙ্গা যুবক পা হারিয়েছেন। এতে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে, রাখাইনের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ) নিজেদের নিয়ন্ত্রণ জোরদার করতে এসব মাইন স্থাপন করেছে।

রোহিঙ্গা যুবক মো. জাফর বলেন, সীমান্ত এলাকায় এখন খুব ভয় লাগে। জীবিকার জন্য গেলে প্রাণ হারানোর ঝুঁকি থাকে।

বালুখালী ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নেতা শামসুল আলম বলেন, খাদ্যসহায়তা কমে যাওয়ায় অনেক পরিবার অর্থসংকটে পড়েছে। ফলে কিছু রোহিঙ্গা ঝুঁকি জেনেও নাফ নদীতে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে এবং সীমান্তের ওপারে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে যান। এ সময় তারা মাইন বিস্ফোরণের শিকার হচ্ছেন।

বিজিবির উখিয়া-৬৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম বলেন, সীমান্তের শূন্যরেখার ওপারে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে এসব স্থলমাইন পুঁতে রাখা হয়েছে, যা ওই এলাকায় চলাচলকারী মানুষের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য, ক্যাম্পের কোনো রোহিঙ্গার সীমান্তে যাওয়ার কথা নয়। কিন্তু বিভিন্ন অজুহাতের (মাছ ধরা বা কৃষিকাজ) কথা বলে তারা সীমান্তের ওপারে চলে যায় এবং এ ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হয়।