ঢাকা ১১:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মাস্টহেড পিআরের চিফ স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড গ্রোথ অফিসার আশিক ইকবাল কেশবপুরে ধানখেতে পাওয়া গেল দুই নারী–পুরুষের অর্ধগলিত লাশ উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীই উচ্চশিক্ষায় ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবেন: শিক্ষামন্ত্রী রান্নার চুলা নিয়ে মেসে মারধর, কিশোরের মৃত্যু ফখরের সেঞ্চুরির পর মিনহাজের ঝোড়ো ব্যাটিং, ত্রিদেশীয় সিরিজ জিতল পাকিস্তান এইচএসসিতে ক্যাডেটে পাসের হার শতভাগ, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯৪ শতাংশের বেশি কুমিল্লায় আবারও কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান, ২৩৬ জন আটকের পর মুচলেকায় ছাড়া পেল ১২৯ দ্বিতীয় টেস্টের দলে অমিত হাসান, বাদ মুমিনুল ভারতের সিইসি জ্ঞানেশ জনতার দরবারে অভিশংসিত ঈদে দেশে ফেরার কথা ছিল, ফিরলেন কফিনবন্দী হয়ে

ফখরের সেঞ্চুরির পর মিনহাজের ঝোড়ো ব্যাটিং, ত্রিদেশীয় সিরিজ জিতল পাকিস্তান

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৪০:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শ্রীলঙ্কা: ৫০ ওভারে ৩২৫/৮। পাকিস্তান: ৪৮.৩ ওভারে ৩৩১/৭। ফল: পাকিস্তান ৩ উইকেটে জয়ী।

.

শুরুটা করেছিলেন ফখর জামান। তবে বাঁহাতি এ ব্যাটসম্যানের সেঞ্চুরিটাও একসময় মনে হচ্ছিল যথেষ্ট হবে না।

লাহোরে তখন শ্রীলঙ্কার জয়ের স্বপ্নটা আবার একটু একটু করে উজ্জ্বল হচ্ছে। পাকিস্তানের দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান ফখর ও সালমান আগা ফিরে গেছেন। ৩২৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান পড়েছে চাপে। এমন সময়ে উইকেটে দুই তরুণ। হাসান নওয়াজ ও আরাফাত মিনহাস।

বড় ম্যাচের চাপ? ফাইনালের স্নায়ুযুদ্ধ? আরাফাতের ব্যাটিং দেখে মনে হলো, এসব আবার কী!

মাত্র ৩১ বলে ৬১ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে শ্রীলঙ্কার জয়ের স্বপ্নটা এক ফুৎকারেই উড়িয়ে দিলেন আরাফাত। তাঁর ২৮ বলে ফিফটি আর হাসানের সঙ্গে ৯৪ রানের জুটিতে পাকিস্তান পৌঁছে গেল জয়ের বন্দরে। শেষ পর্যন্ত ৯ বল হাতে রেখে ৩ উইকেটে জিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা নিজেদের করে নিয়েছে পাকিস্তান।

.

লাহোরে আজকের ফাইনালে আগে ব্যাট করে কামিন্দু মেন্ডিসের সেঞ্চুরি আর পবন রত্নায়েকের বড় ফিফটিতে ৮ উইকেটে ৩২৫ রান তুলেছিল শ্রীলঙ্কা। জবাবে পাকিস্তান ৪৮.৩ ওভারে ৭ উইকেটে করেছে ৩৩১ রান।

ওয়ানডে ফাইনালের ইতিহাসে এটি যৌথভাবে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড। এর আগে ২০০২ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩২৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জিতেছিল ভারত। আর পাকিস্তান সর্বশেষ ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজ জিতেছিল ঢাকায়। ২০০৮ সালের কিটপ্লাই কাপের ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে।

.

অথচ আজ পাকিস্তানের শুরুটা মোটেও ভালো ছিল না। শ্রীলঙ্কার পেসার দিলশান মাদুশঙ্কা শুরুতেই ফিরিয়ে দেন মাজ সাদাকাত ও বাবর আজমকে। পাকিস্তান তখন বিপদে।

সেখান থেকে দলকে টেনে তোলেন ফখর জামান। অবশ্য ভাগ্যদেবীও তাঁর দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। তিনবার জীবন পেয়েছেন ফখর। শ্রীলঙ্কাকে সেই সুযোগ নষ্টের মূল্যও দিতে হয়েছে ভালোভাবেই।

তরুণ সাদ বেগকে নিয়ে ১৪০ বলে ১৪৯ রানের জুটি গড়েন ফখর। সাদ খেলেন ৭৫ বলে ৭৪ রানের দারুণ এক ইনিংস। এরপর ফখর নিজেই বদলে ফেলেন ব্যাটিংয়ের গতি। তুলে নেন দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি। পাকিস্তানের দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়ানডে ফাইনালে দুটি সেঞ্চুরি করার কীর্তিও গড়ে আউট হন ৯৯ বলে ১২৭ রান করে। ১১টা চারের সঙ্গে ৬টা ছক্কা তাঁর ইনিংসে। মাদুশঙ্কা ফিরে এসে ফখরকে আউট করতেই ম্যাচে ফেরে শ্রীলঙ্কা। কিছুক্ষণ পর সালমান আগাও ফিরে গেলে পাকিস্তানের জয় নিয়ে সংশয় আরও বাড়ে।

.

সেই সংশয় দূর করার দায়িত্বটা নিজেদের কাঁধে তুলে নেন হাসান ও আরাফাত। চাপের মুখে দুজনের ৯৪ রানের জুটি ম্যাচের ভাগ্যই বদলে দেয়। বিশেষ করে আরাফাতের ব্যাটে তখন রীতিমতো ঝড়। শেষ পর্যন্ত শাহিন শাহ আফ্রিদির মিডউইকেটের ওপর দিয়ে মারা ছক্কায় নিশ্চিত হয় পাকিস্তানের জয়। উল্লাসে ফেটে পড়ে লাহোরের গ্যালারি।

শ্রীলঙ্কার অবশ্য আক্ষেপ করার কারণ আছে। কামিন্দু মেন্ডিসের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরিতে বড় সংগ্রহের ভিত্তি পেয়েছিল তারা। কামিন্দু করেন ১৩১ রান। পবন রত্নায়েকে ৬৫ বলে খেলেন ৭৭ রানের ইনিংস। দুজনের ১৪৬ বলে ১৪৬ রানের জুটিতে ৪১ ওভারেই শ্রীলঙ্কার রান পৌঁছে যায় ২৫৫-তে।

তখন মনে হচ্ছিল, ৩৫০ রানও হয়তো ছাড়িয়ে যাবে শ্রীলঙ্কা। কিন্তু শেষ দিকে পাকিস্তানের পেসাররা দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ান। শাহিন শাহ আফ্রিদি, হারিস রউফ ও নাসিম শাহের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে শেষ ৯ ওভারে মাত্র ৭০ রান যোগ করতে পারে শ্রীলঙ্কা। কামিন্দু ও রত্নায়েকের জুটি ভাঙার পর ৫২ রানে হারায় ৫ উইকেট। শেষ ১১ বল খেলতে হয় লেজের ব্যাটসম্যানদের। আফ্রিদি নেন ৫০ রানে ২ উইকেট। শেষের ওই ২০ থেকে ২৫ রানই হয়তো ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

ফখরের সেঞ্চুরির পর মিনহাজের ঝোড়ো ব্যাটিং, ত্রিদেশীয় সিরিজ জিতল পাকিস্তান

আপডেট সময় : ১০:৪০:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

শ্রীলঙ্কা: ৫০ ওভারে ৩২৫/৮। পাকিস্তান: ৪৮.৩ ওভারে ৩৩১/৭। ফল: পাকিস্তান ৩ উইকেটে জয়ী।

.

শুরুটা করেছিলেন ফখর জামান। তবে বাঁহাতি এ ব্যাটসম্যানের সেঞ্চুরিটাও একসময় মনে হচ্ছিল যথেষ্ট হবে না।

লাহোরে তখন শ্রীলঙ্কার জয়ের স্বপ্নটা আবার একটু একটু করে উজ্জ্বল হচ্ছে। পাকিস্তানের দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান ফখর ও সালমান আগা ফিরে গেছেন। ৩২৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান পড়েছে চাপে। এমন সময়ে উইকেটে দুই তরুণ। হাসান নওয়াজ ও আরাফাত মিনহাস।

বড় ম্যাচের চাপ? ফাইনালের স্নায়ুযুদ্ধ? আরাফাতের ব্যাটিং দেখে মনে হলো, এসব আবার কী!

মাত্র ৩১ বলে ৬১ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে শ্রীলঙ্কার জয়ের স্বপ্নটা এক ফুৎকারেই উড়িয়ে দিলেন আরাফাত। তাঁর ২৮ বলে ফিফটি আর হাসানের সঙ্গে ৯৪ রানের জুটিতে পাকিস্তান পৌঁছে গেল জয়ের বন্দরে। শেষ পর্যন্ত ৯ বল হাতে রেখে ৩ উইকেটে জিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা নিজেদের করে নিয়েছে পাকিস্তান।

.

লাহোরে আজকের ফাইনালে আগে ব্যাট করে কামিন্দু মেন্ডিসের সেঞ্চুরি আর পবন রত্নায়েকের বড় ফিফটিতে ৮ উইকেটে ৩২৫ রান তুলেছিল শ্রীলঙ্কা। জবাবে পাকিস্তান ৪৮.৩ ওভারে ৭ উইকেটে করেছে ৩৩১ রান।

ওয়ানডে ফাইনালের ইতিহাসে এটি যৌথভাবে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড। এর আগে ২০০২ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩২৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জিতেছিল ভারত। আর পাকিস্তান সর্বশেষ ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজ জিতেছিল ঢাকায়। ২০০৮ সালের কিটপ্লাই কাপের ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে।

.

অথচ আজ পাকিস্তানের শুরুটা মোটেও ভালো ছিল না। শ্রীলঙ্কার পেসার দিলশান মাদুশঙ্কা শুরুতেই ফিরিয়ে দেন মাজ সাদাকাত ও বাবর আজমকে। পাকিস্তান তখন বিপদে।

সেখান থেকে দলকে টেনে তোলেন ফখর জামান। অবশ্য ভাগ্যদেবীও তাঁর দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। তিনবার জীবন পেয়েছেন ফখর। শ্রীলঙ্কাকে সেই সুযোগ নষ্টের মূল্যও দিতে হয়েছে ভালোভাবেই।

তরুণ সাদ বেগকে নিয়ে ১৪০ বলে ১৪৯ রানের জুটি গড়েন ফখর। সাদ খেলেন ৭৫ বলে ৭৪ রানের দারুণ এক ইনিংস। এরপর ফখর নিজেই বদলে ফেলেন ব্যাটিংয়ের গতি। তুলে নেন দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি। পাকিস্তানের দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়ানডে ফাইনালে দুটি সেঞ্চুরি করার কীর্তিও গড়ে আউট হন ৯৯ বলে ১২৭ রান করে। ১১টা চারের সঙ্গে ৬টা ছক্কা তাঁর ইনিংসে। মাদুশঙ্কা ফিরে এসে ফখরকে আউট করতেই ম্যাচে ফেরে শ্রীলঙ্কা। কিছুক্ষণ পর সালমান আগাও ফিরে গেলে পাকিস্তানের জয় নিয়ে সংশয় আরও বাড়ে।

.

সেই সংশয় দূর করার দায়িত্বটা নিজেদের কাঁধে তুলে নেন হাসান ও আরাফাত। চাপের মুখে দুজনের ৯৪ রানের জুটি ম্যাচের ভাগ্যই বদলে দেয়। বিশেষ করে আরাফাতের ব্যাটে তখন রীতিমতো ঝড়। শেষ পর্যন্ত শাহিন শাহ আফ্রিদির মিডউইকেটের ওপর দিয়ে মারা ছক্কায় নিশ্চিত হয় পাকিস্তানের জয়। উল্লাসে ফেটে পড়ে লাহোরের গ্যালারি।

শ্রীলঙ্কার অবশ্য আক্ষেপ করার কারণ আছে। কামিন্দু মেন্ডিসের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরিতে বড় সংগ্রহের ভিত্তি পেয়েছিল তারা। কামিন্দু করেন ১৩১ রান। পবন রত্নায়েকে ৬৫ বলে খেলেন ৭৭ রানের ইনিংস। দুজনের ১৪৬ বলে ১৪৬ রানের জুটিতে ৪১ ওভারেই শ্রীলঙ্কার রান পৌঁছে যায় ২৫৫-তে।

তখন মনে হচ্ছিল, ৩৫০ রানও হয়তো ছাড়িয়ে যাবে শ্রীলঙ্কা। কিন্তু শেষ দিকে পাকিস্তানের পেসাররা দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ান। শাহিন শাহ আফ্রিদি, হারিস রউফ ও নাসিম শাহের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে শেষ ৯ ওভারে মাত্র ৭০ রান যোগ করতে পারে শ্রীলঙ্কা। কামিন্দু ও রত্নায়েকের জুটি ভাঙার পর ৫২ রানে হারায় ৫ উইকেট। শেষ ১১ বল খেলতে হয় লেজের ব্যাটসম্যানদের। আফ্রিদি নেন ৫০ রানে ২ উইকেট। শেষের ওই ২০ থেকে ২৫ রানই হয়তো ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।