ঢাকা ০৮:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সৌদি আরবে আগুনে নিহত নওগাঁর পাঁচজনের লাশ বাড়িতে ফিরল তিন মাস পর ব্র্যাকে ডিপ্লোমা পাসে চাকরির সুযোগ, আছে পিতৃত্বকালীন ছুটি এবার আপনিও হতে পারেন ফ্যাশন হাউসের মডেল, পাবেন মাসিক বেতন জামায়াত–কওমির বিরোধ কেন, কোথা থেকে এর শুরু ২৮ বিশিষ্টজনের বিবৃতি: স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত ঠিক করে দিতে পারে না কে মুক্তিযোদ্ধা, কে নন যশোর বোর্ডে ৫৫ ভাগ শিক্ষার্থী পাস করেননি, কমেছে জিপিএ-৫ ‘বাঁধনহারা’র পাতায় মুক্তির খোঁজ: নজরুলের উপন্যাস নিয়ে পাঠচক্র এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ–৫, তাঁর নাটকের ভিউ সবচেয়ে বেশি… বেতন বৃদ্ধির দাবিতে তিন ঘণ্টা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ, পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ খেলাপি ঋণের জালে আটকা ব্যাংকিং খাতের ভবিষ্যৎ কী

২১ বছর ধরে বিচারহীনতায় আশুলিয়ায় স্পেকট্রাম ট্রাজেডি

আশুলিয়া প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১১:১৪:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬ ৪৯ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আশুলিয়ায় বহুল আলোচিত স্পেকট্রাম ট্রাজেডির ২১ বছর পেরিয়ে গেলেও বিচার না হওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন শ্রমিকরা। নিহতদের স্মৃতি আর বিচারহীনতার বেদনা বুকে নিয়ে তারা আবারও রাস্তায় নেমেছেন।

শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে আশুলিয়ার বাইপাইল মোড়ে জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ইউনিটির উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছলে শ্রমিকদের কণ্ঠে ছিল ক্ষোভ, হতাশা আর ন্যায়বিচারের জোর দাবি।

কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. ফরিদুল ইসলাম। সঞ্চালনা করেন আশুলিয়া থানা কমিটির সভাপতি নাজমুল হক। এতে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন শ্রমিক নেতা মাসুদ রানা সুলতানসহ অন্যান্য নেতারা।

বক্তারা বলেন, ২০০৫ সালের ১১ এপ্রিল ভোরে আশুলিয়ার পলাশবাড়ী এলাকায় স্পেকট্রাম সোয়েটার লিমিটেড ভবন ধস দেশের পোশাক খাতের ইতিহাসে এক হৃদয়বিদারক অধ্যায়। ওই দুর্ঘটনায় ৬৪ জন শ্রমিক প্রাণ হারান, আহত হন কয়েক শতাধিক। অনেকেই চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করেন।

তাদের অভিযোগ, ছয় তলা ভবনের অনুমোদিত ভিত্তির ওপর অবৈধভাবে আরও তিন তলা নির্মাণ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং অতিরিক্ত ভারী যন্ত্রপাতির চাপ—এসবের সম্মিলিত ফলেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এটি ছিল চরম অব্যবস্থাপনা এবং শ্রমিক নিরাপত্তার প্রতি নির্মম অবহেলার প্রতিফলন।

মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দুই দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ভুক্তভোগী শ্রমিক ও তাদের পরিবার এখনও ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন থেকে বঞ্চিত। মামলার বিচার প্রক্রিয়াও দীর্ঘসূত্রতায় আটকে আছে, যা তাদের হতাশা আরও গভীর করছে।

কর্মসূচি থেকে চার দফা দাবি জানানো হয়— দাবি গুলো হলো,স্পেকট্রাম ট্রাজেডির মামলার দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার

ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক ও পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন,গার্মেন্টস খাতে নিরাপত্তা নীতিমালার কঠোর বাস্তবায়ন,শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতে কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

মানববন্ধনের শেষ দিকে নিহত শ্রমিকদের স্মরণে নীরবতা পালন করা হয়। বক্তারা বলেন, এই মৃত্যু শুধু সংখ্যা নয়—প্রতিটি ছিল একটি পরিবার, একটি স্বপ্ন।

তারা ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

২১ বছর পরও যখন বিচার অধরাই, তখন স্পেকট্রামের ধ্বংসস্তূপ যেন এখনো প্রশ্ন তোলে—শ্রমিকের জীবন কি এতটাই সস্তা?

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

২১ বছর ধরে বিচারহীনতায় আশুলিয়ায় স্পেকট্রাম ট্রাজেডি

আপডেট সময় : ১১:১৪:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

আশুলিয়ায় বহুল আলোচিত স্পেকট্রাম ট্রাজেডির ২১ বছর পেরিয়ে গেলেও বিচার না হওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন শ্রমিকরা। নিহতদের স্মৃতি আর বিচারহীনতার বেদনা বুকে নিয়ে তারা আবারও রাস্তায় নেমেছেন।

শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে আশুলিয়ার বাইপাইল মোড়ে জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ইউনিটির উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছলে শ্রমিকদের কণ্ঠে ছিল ক্ষোভ, হতাশা আর ন্যায়বিচারের জোর দাবি।

কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. ফরিদুল ইসলাম। সঞ্চালনা করেন আশুলিয়া থানা কমিটির সভাপতি নাজমুল হক। এতে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন শ্রমিক নেতা মাসুদ রানা সুলতানসহ অন্যান্য নেতারা।

বক্তারা বলেন, ২০০৫ সালের ১১ এপ্রিল ভোরে আশুলিয়ার পলাশবাড়ী এলাকায় স্পেকট্রাম সোয়েটার লিমিটেড ভবন ধস দেশের পোশাক খাতের ইতিহাসে এক হৃদয়বিদারক অধ্যায়। ওই দুর্ঘটনায় ৬৪ জন শ্রমিক প্রাণ হারান, আহত হন কয়েক শতাধিক। অনেকেই চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করেন।

তাদের অভিযোগ, ছয় তলা ভবনের অনুমোদিত ভিত্তির ওপর অবৈধভাবে আরও তিন তলা নির্মাণ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং অতিরিক্ত ভারী যন্ত্রপাতির চাপ—এসবের সম্মিলিত ফলেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এটি ছিল চরম অব্যবস্থাপনা এবং শ্রমিক নিরাপত্তার প্রতি নির্মম অবহেলার প্রতিফলন।

মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দুই দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ভুক্তভোগী শ্রমিক ও তাদের পরিবার এখনও ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন থেকে বঞ্চিত। মামলার বিচার প্রক্রিয়াও দীর্ঘসূত্রতায় আটকে আছে, যা তাদের হতাশা আরও গভীর করছে।

কর্মসূচি থেকে চার দফা দাবি জানানো হয়— দাবি গুলো হলো,স্পেকট্রাম ট্রাজেডির মামলার দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার

ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক ও পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন,গার্মেন্টস খাতে নিরাপত্তা নীতিমালার কঠোর বাস্তবায়ন,শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতে কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

মানববন্ধনের শেষ দিকে নিহত শ্রমিকদের স্মরণে নীরবতা পালন করা হয়। বক্তারা বলেন, এই মৃত্যু শুধু সংখ্যা নয়—প্রতিটি ছিল একটি পরিবার, একটি স্বপ্ন।

তারা ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

২১ বছর পরও যখন বিচার অধরাই, তখন স্পেকট্রামের ধ্বংসস্তূপ যেন এখনো প্রশ্ন তোলে—শ্রমিকের জীবন কি এতটাই সস্তা?