ঢাকা ০৫:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কুকুর পোষা পাপ আর বিড়াল পোষা কি সুন্নত বিজ্ঞাপনে এআইয়ের ধাক্কা, গুগলের বাজারমূল্য কমল ৫০০ বিলিয়ন ডলার কলাবাগানে ককটেল বিস্ফোরণ, উদ্ধার ১৩ ককটেল, গ্রেপ্তার আওয়ামী যুবলীগের চার নেতা–কর্মী তাহসিফকে ধাওয়া দিয়েছিল ইউনিফর্ম পরা লোকজন, দাবি দীপের ও অন্যান্য খবর অভাব ঘোচাতে বিদেশে গিয়ে ফিরলেন কফিনবন্দী হয়ে, মা–বাবার স্বপ্ন শেষ জাতীয় চার্চ পরিষদের ৭৫ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন লন্ডনে কিশোরী ধর্ষণের ঘটনায় দুই বাংলাদেশিকে খুঁজছে পুলিশ তাহসিফের মৃত্যু: ধাওয়া দেওয়া ব্যক্তিরা কি মাদক কারবারি, নাকি পুলিশ—সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা এমবাপ্পের ওপর ক্ষোভ কেন, জিজ্ঞেস করেও জানতে পারছেন না চীনারা গ্যাসের আগুন জ্বলছেই, ১৫ দিন পর্যবেক্ষণের পর রিলিফ কূপ খননের পরিকল্পনা পেট্রোবাংলার

গোপালগঞ্জ জেলা পরিষদের নতুন প্রশাসক শরীফ রফিকউজ্জামান 

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৮:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬ ৫৯ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গোপালগঞ্জ জেলা পরিষদের নতুন প্রশাসক শরীফ রফিকউজ্জামান। গোপালগঞ্জের মাটিতে সাহসের আরেক নাম শরীফ রফিকউজ্জামান। দীর্ঘ সময় রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়া এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবীদ এবার এক নতুন গুরুদায়িত্বে অভিষিক্ত হলেন।

রোববার সরকারি এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে গোপালগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে তিনি গোপালগঞ্জ সদর পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্বও পালন করছেন।

গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক এবং জনপ্রিয় জাতীয় দৈনিক ‘আমার সংবাদ’-এর নির্বাহী সম্পাদক শরীফ রফিকউজ্জামানকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়ায় জেলার রাজনৈতিক মহলে যেমন উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে, তেমনি সাধারণ মানুষের মধ্যেও বইছে স্বস্তির হাওয়া।

রাজপথের লড়াকু যোদ্ধা থেকে জনসেবার কর্ণধার শরীফ রফিকউজ্জামানের রাজনৈতিক জীবন কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। তিনি এমন এক জনপদ থেকে রাজনীতি করে উঠে এসেছেন, যা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রতিকূল পরিবেশে থেকেও তিনি দলের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। হামলা, মামলা আর রাজপথের লড়াকু জীবনই তাকে আজ এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে।

তিনি কেবল একজন রাজনীতিবিদ নন, তিনি একজন দক্ষ সংগঠক। গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক হিসেবে তিনি দলকে তৃণমূল পর্যায়ে সুসংগঠিত করেছেন। রাজপথের প্রতিটি আন্দোলনে তাকে দেখা গেছে সামনের সারিতে। তার সাহসী নেতৃত্ব কর্মীদের মনে সাহসের সঞ্চার করেছে বারবার। আজ যখন তিনি জেলা পরিষদের প্রশাসকের চেয়ারে বসছেন, তখন এটি তার দীর্ঘ ত্যাগের এক অনন্য স্বীকৃতি হিসেবেই দেখছেন সবাই।

শিক্ষা ও সমাজসেবায় বহুমাত্রিক পদচিহ্ন শরীফ রফিকউজ্জামান কেবল রাজনীতির মাঠেই সরব নন, তিনি গোপালগঞ্জের শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নের একজন নিভৃতচারী কারিগর। তার বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের এক নজর দেখলেই বোঝা যায় তিনি সমাজ বিনির্মাণে কতটা আন্তরিক।

শিক্ষানুরাগী প্রতিষ্ঠাতা: তিনি গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মহাবিদ্যালয় এবং গোপালগঞ্জ টেকনিক্যাল এন্ড বিএম স্কুল এন্ড কলেজ-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছেন। এছাড়াও তার অবদানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে শরীফ পাড়া চেয়ারম্যানবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

সংগঠক ও চেয়ারম্যান: তিনি সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা ‘ফেয়ার ইনফরমেশন বাংলাদেশ’ (এফআইবি)-এর চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ করছেন। এছাড়াও বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মতো জাতীয় পর্যায়ের সংগঠনের সাথে তিনি নিবিড়ভাবে যুক্ত।

তৃণমূলের নেতা: গোপীনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাকে তৃণমূলের মানুষের দুঃখ-দুর্দশা বুঝতে শিখিয়েছে, যা এখন জেলা পরিষদের দায়িত্ব পালনে বড় শক্তি হবে।

একজন রাজনীতিকের বাইরেও তার বড় পরিচয় তিনি একজন গণমাধ্যমকর্মী। দৈনিক আমার সংবাদ-এর নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ এবং জনগণের কণ্ঠস্বর তুলে ধরার কাজ করে যাচ্ছেন। সংবাদপত্রের সম্পাদকীয় নীতি নির্ধারণ থেকে শুরু করে মাঠের সংবাদ- সবখানেই তার মেধার ছাপ স্পষ্ট। এই অভিজ্ঞতা তাকে প্রশাসনিক কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বিশেষভাবে সহায়তা করবে।

গোপালগঞ্জের আগামীর স্বপ্ন: আধুনিক জেলা পরিষদ জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর শরীফ রফিকউজ্জামানের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো- গোপালগঞ্জের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আনা। দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে তিনি কীভাবে একটি দুর্নীতিমুক্ত ও জনবান্ধব জেলা পরিষদ উপহার দেন, সেদিকেই তাকিয়ে আছে জেলাবাসী।

তৃণমূল থেকে উঠে আসা এই নেতার হাত ধরে গোপালগঞ্জের রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং শিক্ষা খাতের অবকাঠামোয় আমূল পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে সদর পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব থাকায় শহর ও গ্রাম- উভয় অঞ্চলের উন্নয়নে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ তার জন্য সহজ হবে।

আস্থার প্রতীক শরীফ রফিকউজ্জামান কোনো বিশেষ মহলের নেতা নন, তিনি হয়ে উঠেছেন গোপালগঞ্জের গণমানুষের আস্থার প্রতীক। রাজপথের সেই সাহসী যোদ্ধা আজ যখন কলম আর প্রশাসনিক ক্ষমতা হাতে পেয়েছেন, তখন প্রত্যাশা একটাই- গোপালগঞ্জ হবে আধুনিক, উন্নত ও সন্ত্রাসমুক্ত এক আদর্শ জেলা।

তার নিয়োগ কেবল একটি পদায়ন নয়; এটি মেধা, শ্রম আর দীর্ঘ ত্যাগের এক ঐতিহাসিক মহিমা। জেলাবাসী এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে তার হাত ধরে এক নতুন ও সমৃদ্ধ গোপালগঞ্জ দেখার জন্য।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

গোপালগঞ্জ জেলা পরিষদের নতুন প্রশাসক শরীফ রফিকউজ্জামান 

আপডেট সময় : ০৯:৪৮:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

গোপালগঞ্জ জেলা পরিষদের নতুন প্রশাসক শরীফ রফিকউজ্জামান। গোপালগঞ্জের মাটিতে সাহসের আরেক নাম শরীফ রফিকউজ্জামান। দীর্ঘ সময় রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়া এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবীদ এবার এক নতুন গুরুদায়িত্বে অভিষিক্ত হলেন।

রোববার সরকারি এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে গোপালগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে তিনি গোপালগঞ্জ সদর পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্বও পালন করছেন।

গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক এবং জনপ্রিয় জাতীয় দৈনিক ‘আমার সংবাদ’-এর নির্বাহী সম্পাদক শরীফ রফিকউজ্জামানকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়ায় জেলার রাজনৈতিক মহলে যেমন উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে, তেমনি সাধারণ মানুষের মধ্যেও বইছে স্বস্তির হাওয়া।

রাজপথের লড়াকু যোদ্ধা থেকে জনসেবার কর্ণধার শরীফ রফিকউজ্জামানের রাজনৈতিক জীবন কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। তিনি এমন এক জনপদ থেকে রাজনীতি করে উঠে এসেছেন, যা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রতিকূল পরিবেশে থেকেও তিনি দলের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। হামলা, মামলা আর রাজপথের লড়াকু জীবনই তাকে আজ এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে।

তিনি কেবল একজন রাজনীতিবিদ নন, তিনি একজন দক্ষ সংগঠক। গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক হিসেবে তিনি দলকে তৃণমূল পর্যায়ে সুসংগঠিত করেছেন। রাজপথের প্রতিটি আন্দোলনে তাকে দেখা গেছে সামনের সারিতে। তার সাহসী নেতৃত্ব কর্মীদের মনে সাহসের সঞ্চার করেছে বারবার। আজ যখন তিনি জেলা পরিষদের প্রশাসকের চেয়ারে বসছেন, তখন এটি তার দীর্ঘ ত্যাগের এক অনন্য স্বীকৃতি হিসেবেই দেখছেন সবাই।

শিক্ষা ও সমাজসেবায় বহুমাত্রিক পদচিহ্ন শরীফ রফিকউজ্জামান কেবল রাজনীতির মাঠেই সরব নন, তিনি গোপালগঞ্জের শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নের একজন নিভৃতচারী কারিগর। তার বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের এক নজর দেখলেই বোঝা যায় তিনি সমাজ বিনির্মাণে কতটা আন্তরিক।

শিক্ষানুরাগী প্রতিষ্ঠাতা: তিনি গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মহাবিদ্যালয় এবং গোপালগঞ্জ টেকনিক্যাল এন্ড বিএম স্কুল এন্ড কলেজ-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছেন। এছাড়াও তার অবদানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে শরীফ পাড়া চেয়ারম্যানবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

সংগঠক ও চেয়ারম্যান: তিনি সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা ‘ফেয়ার ইনফরমেশন বাংলাদেশ’ (এফআইবি)-এর চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ করছেন। এছাড়াও বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মতো জাতীয় পর্যায়ের সংগঠনের সাথে তিনি নিবিড়ভাবে যুক্ত।

তৃণমূলের নেতা: গোপীনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাকে তৃণমূলের মানুষের দুঃখ-দুর্দশা বুঝতে শিখিয়েছে, যা এখন জেলা পরিষদের দায়িত্ব পালনে বড় শক্তি হবে।

একজন রাজনীতিকের বাইরেও তার বড় পরিচয় তিনি একজন গণমাধ্যমকর্মী। দৈনিক আমার সংবাদ-এর নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ এবং জনগণের কণ্ঠস্বর তুলে ধরার কাজ করে যাচ্ছেন। সংবাদপত্রের সম্পাদকীয় নীতি নির্ধারণ থেকে শুরু করে মাঠের সংবাদ- সবখানেই তার মেধার ছাপ স্পষ্ট। এই অভিজ্ঞতা তাকে প্রশাসনিক কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বিশেষভাবে সহায়তা করবে।

গোপালগঞ্জের আগামীর স্বপ্ন: আধুনিক জেলা পরিষদ জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর শরীফ রফিকউজ্জামানের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো- গোপালগঞ্জের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আনা। দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে তিনি কীভাবে একটি দুর্নীতিমুক্ত ও জনবান্ধব জেলা পরিষদ উপহার দেন, সেদিকেই তাকিয়ে আছে জেলাবাসী।

তৃণমূল থেকে উঠে আসা এই নেতার হাত ধরে গোপালগঞ্জের রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং শিক্ষা খাতের অবকাঠামোয় আমূল পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে সদর পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব থাকায় শহর ও গ্রাম- উভয় অঞ্চলের উন্নয়নে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ তার জন্য সহজ হবে।

আস্থার প্রতীক শরীফ রফিকউজ্জামান কোনো বিশেষ মহলের নেতা নন, তিনি হয়ে উঠেছেন গোপালগঞ্জের গণমানুষের আস্থার প্রতীক। রাজপথের সেই সাহসী যোদ্ধা আজ যখন কলম আর প্রশাসনিক ক্ষমতা হাতে পেয়েছেন, তখন প্রত্যাশা একটাই- গোপালগঞ্জ হবে আধুনিক, উন্নত ও সন্ত্রাসমুক্ত এক আদর্শ জেলা।

তার নিয়োগ কেবল একটি পদায়ন নয়; এটি মেধা, শ্রম আর দীর্ঘ ত্যাগের এক ঐতিহাসিক মহিমা। জেলাবাসী এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে তার হাত ধরে এক নতুন ও সমৃদ্ধ গোপালগঞ্জ দেখার জন্য।